প্রদীপ চট্টোপাধ্যায়,বর্ধমান,১৭ মার্চ : শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেস দল পূর্ব বর্ধমান জেলার খণ্ডঘোষ বিধানসভা আসনে নবীনচন্দ্র বাগকে পুণরায় প্রার্থী করতেই ক্ষোভের পারদ চড়লো তৃণমূল শিবিরে। মঙ্গলবার সন্ধ্যায় খণ্ডঘোষ ব্লক তৃণমূলের পার্টি অফিসে রীতিমতো সাংবাদিক বৈঠক ডেকে নবীন চন্দ্র বাগের বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগরে দেন তৃণমূলের ব্লক সভাপতি অপার্থিব ইসলাম ,জেলা পরিষদের কর্মাধ্যক্ষ বিশ্বনাথ রায়সহ অগুনিত দলীয় কর্মী ও সমর্থক । নবীন বাগ মুর্দাবাদ শ্লোগান তুলে তাঁরা স্পষ্ট জানিয়ে দেন যে তাঁরা কিছুতেই তাকে তৃণমূলের প্রার্থী হিসাবে মানবেন না। সিপিএম থেকে তৃণমূলে আসা নবীনচন্দ্র বাগকে সরিয়ে দল যদি দুর্দিনের তৃণমূল কংগ্রেস পরিবারের কাউকে প্রার্থী না করে তাহলে তাঁরা রাজনীতির ময়দান থেকে সরে দাঁড়াবেন বলেও সাফ জানিয়ে দেন।
ব্লক তৃণমূলের সভাপতি অপার্থিব ইসলাম ওরফে ফাগুন তাঁর অভিযোগ বলেন,’দলে থেকে যাঁরা গদ্দারি করে, তাদেরই মূল্যায়ন করা হচ্ছে।’ বিদ্রোহী শিবির স্পষ্ট জানিয়েছে,’কোনওভাবেই নবীন বাগকে প্রার্থী হিসেবে মেনে নেওয়া হবে না। সেই কারণেই তাঁরা দলীয় সমস্ত কর্মসূচি থেকে নিজেদের সরিয়ে নিচ্ছেন। একই সুর শোনা গেছে জেলা পরিষদের জনস্বাস্থ্য কর্মাধ্যক্ষ বিশ্বনাথ রায়ের গলাতেও। তিনি জানিয়েছেন,’নিয়ম মেনে শীঘ্রই জেলা পরিষদের পদ থেকেও তিনি ইস্তফা দেবেন।’ শুধু ব্লক সভাপতি নন, তাঁর সঙ্গে একযোগে পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলেছেন খণ্ডঘোষের একাধিক পঞ্চায়েত প্রধানও।পাশাপাশি গোপালবেরা, কৈয়র, বেরুগ্রাম, সগরাই, শাঁকারি-১ নম্বর ও উখরিদ অঞ্চলের তৃণমূল কংগ্রেসের অঞ্চল সভাপতিরাও পদত্যাগ করতে চলেছেন বলে সূত্রের খবর।
এই বিষয়ে প্রার্থী নবীন চন্দ্র বাগের প্রতিক্রিয়া জানার চেষ্টা করা হলেও তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ করা যায়নি।উল্লেখ্য, নবীন চন্দ্র বাগ ২০১১ সালে সিপিএমের প্রার্থী হিসেবে জয়ী হন। পরে ২০১৬ সালে মুকুল রায়ের হাত ধরে তৃণমূল কংগ্রেসে যোগ দেন এবং ওই বছরই খণ্ডঘোষ থেকে দলের প্রার্থী হন। এরপর ২০১৬ ও ২০২১ সালে পরপর দু’বার বিধায়ক হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন তিনি।।
