এইদিন ওয়েবডেস্ক,মালদা,১৪ মার্চ : যুদ্ধের কারনে হরমুজ প্রণালী বন্ধ করে দিয়েছে ইরান । ফলে গোটা বিশ্ব জুড়ে জীবাশ্ম জ্বালানির হাহাকার পড়ে গেছে । ব্যাপক প্রভাব পড়েছে ভারতেও । মূলত রান্নার গ্যাস (এলপিজি) সঙ্কট দেখা দিয়েছে দেশে । গ্যাসের সম বন্টনের জন্য প্রতি এলপিজি বুকিংয়ের নির্দিষ্ট সময়সীমা বেঁধে দেওয়া হয়েছে । আর এতেই চরম বিপাকে পড়ে গেছে পুরাতন মালদার সাহাপুর ভারত সেবাশ্রম কর্তৃপক্ষ। গ্যাসের অভাবে আশ্রমের আবাসিক স্কুলে কচিকাঁচাদের রান্না হচ্ছে উনানে কাঠের জ্বালে৷ কিন্তু কাঠও ফুরিয়ে গেলে কিভাবে আশ্রমের সন্নাসী,কর্মী ও শিশু মিলে শতাধিক মানুষের মুখে দু’বেলা দু’মুঠো অন্ন তুলে দেবে, ভেবেই পাচ্ছেন না আশ্রমের অধ্যক্ষ স্বামী শিবসুন্দরানন্দ । তিনি বলেন,’বাধ্য হয়ে শিশুগুলো যার যার বাড়ি পাঠিয়ে দিতে বাধ্য হব ।’
সাহাপুর ভারত সেবাশ্রম সঙ্ঘের আশ্রমটি অজ পাড়াগাঁয়ে অবস্থিত । আশ্রমে রয়েছে একটি আবাসিক স্কুল । এলাকার দুঃস্থ শিশুরা আশ্রমে থেকে নিখরচায় পড়াশোনা করে । পড়ুয়া,সন্ন্যাসী ও কর্মী মিলে প্রায় ১০০ জনের রান্নার ব্যবস্থা করতে হয় দিন ও রাতে । মূলত এলপিজি সিলিন্ডার দিয়েই এতদিন রান্না হয়ে আসছিল । স্বামী শিবসুন্দরানন্দ জানান,রান্নার জন্য রোজ ২০ টা করে সিলিন্ডার লাগে । কিন্তু গ্রামাঞ্চলে গ্যাস ডিলিভারির বুকিং এর জন্য ৪৫ দিন সময়সীমা বেঁধে দেওয়ায় আশ্রম এলপিজি সিলিন্ডারগুলি খালি পড়ে আছে । যেকারণে রান্নার কাজ উনানে কাঠের জ্বালেই করতে বাধ্য হচ্ছেন তারা ।
জানা গেছে,আপতকালীন পরিস্থিতির কথা ভেবে আশ্রমে রান্নার জন্য সর্বদা বেশ কিছু শুকনো কাঠ মজুত করে রেখে দেওয়া হয় । বর্তমান গ্যাস সঙ্কট পরিস্থিতিতে সেই কাঠই এখন কাজে লাগছে । কিন্তু কাঠ ফুরিয়ে যাওয়ার পর কি হবে,তা ভেবেই কুলকিনারা পাচ্ছেন না আশ্রমের অধ্যক্ষ স্বামী শিবসুন্দরানন্দ । তিনি বলেন,’কাঠও সীমিত পরিমান আছে । ফুরিয়ে গেলে কি করব ? তখন পড়ুয়াদের নিজের নিজের বাড়ি পাঠিয়ে দিতে বাধ্য হতে হবে ।’
পাশাপাশি আসন্ন বাসন্তী পূজোয় কি হবে, এনিয়ে চিন্তায় পড়ে গেছেন অধ্যক্ষ৷ তিনি বলেন,’বাসন্তী পূজোর সপ্তমি থেকে দশমি পর্যন্ত রোজ গড়ে ৭-৮ হাজার শ্রদ্ধালুর ভোগ রান্না করতে হয় । কিন্তু রান্নার গ্যাসের এই পরিস্থিতি চলতে থাকলে বাসন্তী উৎসবে ভোগ রান্না কি করে হবে বুঝতে পারছি না ।’ তিনি জানান, বিষয়টি স্থানীয় প্রশাসন থেকে শুরু করে বিধায়কসহ জনপ্রতিনিধিদের জানিয়েছেন । কিন্তু কেউই আশার আলো দেখাতে পারেনি ।।
