এইদিন ওয়েবডেস্ক,শ্রীনগর,১২ মার্চ : বুধবার জম্মুর গ্রেটার কৈলাশ এলাকার রয়েল পার্কের কাছে একটি বিয়ের অনুষ্ঠানে জম্মু ও কাশ্মীরের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী ফারুক আবদুল্লাহ এবং উপ-মুখ্যমন্ত্রী সুরিন্দর চৌধুরীর উপস্থিতিতে একটি বিয়ের অনুষ্ঠানে গুলি চালানোর ঘটনা ঘটেছে । গুলি লক্ষ্যভ্রষ্ট হওয়ায় বেঁচে যান ৮৮ বছর বয়সী ন্যাশনাল কনফারেন্স (এনসি) প্রধান । তবে সুরিন্দর চৌধুরী সামান্য আঘাত পেয়েছেন এবং তাকে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। গুলি চালানো ব্যক্তি জম্মুর বাসিন্দা কমল সিং জামওয়ালকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ । পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে তিনি বলেছেন, “”২০ বছর ধরে ওকে মারার চেষ্টা করছি, বরাত জোরে বেঁচে গেছে” । পুলিশ এই ঘটনায় সন্ত্রাসী দৃষ্টিকোণ থেকে উড়িয়ে দিয়েছে এবং জানিয়েছে যে ঘটনার সময় বন্দুকধারী মাতাল অবস্থায় ছিল বলে মনে হচ্ছে।
ইন্ডিয়া টুডে-এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, জম্মুর বাসিন্দা ৬৩ বছর বয়সী কমল সিং জামওয়াল নামে ওই বন্দুকধারী পুলিশকে জানিয়েছেন যে তিনি যে আগ্নেয়াস্ত্রটি তিনি ব্যবহার করেছিলেন তা তার লাইসেন্সকৃত বন্দুক ছিল । “আমি গত ২০ বছর ধরে ফারুক আবদুল্লাহকে হত্যা করতে চেয়েছিলাম। এটি আমার ব্যক্তিগত লক্ষ্য ছিল। অস্ত্রটি আমার নিজস্ব, আমাকে সরকারিভাবে দেওয়া হয়েছে” । তিনি আরও বলেন, “সে ভাগ্যবান তাই এখনো বেঁচে আছে।” তবে তিনি কেন ফারুক আবদুল্লাহকে ‘খতম’ করার পরিকল্পনা করেছিলেন , এর উত্তর অজানা । কেউ কেউ অনুমান করছেন যে ৯০-এর দশকে কাশ্মীরে পন্ডিতদের নরসংহারের সময় ফারুক আবদুল্লাহ-এর ভূমিকার জন্য পুঞ্জীভূত ক্ষোভ থেকেই এই ঘটনা তিনি ঘটিয়ে থাকতে পারেন ।
জম্মুর গ্রেটার কৈলাশ এলাকার রয়েল পার্কের ওই বিয়ের সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, জামওয়াল পিছন থেকে আবদুল্লাহর দিকে এগিয়ে আসছেন এবং একেবারে নিচ থেকে বন্দুক তাক করে গুলি চালাচ্ছেন। গুলি লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়ে যায় এবং বন্দুকধারী কোনও ক্ষতি করার আগেই প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীর নিরাপত্তারক্ষীরা তাকে ধরে ফেলে । কর্মকর্তাদের মতে, আবদুল্লাহ এবং চৌধুরী ন্যাশনাল কনফারেন্সের এক নেতার ছেলের বিয়ে উপলক্ষে তাকে শুভেচ্ছা জানাতে এসেছিলেন। কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, গুলি চালানোর আগে দুই নেতা এক ঘন্টারও বেশি সময় ধরে অনুষ্ঠানস্থলে ছিলেন।
জানা গেছে,জম্মুর পুরাতন অংশে জামওয়ালের কয়েকটি দোকান আছে। তিনি তদন্তকারীদের বলেছেন যে তিনি তার দোকান থেকে প্রাপ্ত ভাড়া থেকেই নিজের জীবন চালান ।এনসি প্রধানের উপর ব্যর্থ হামলার পর তিনি পুলিশকে বলেছিলেন,’আজ, আমি সুযোগ পেয়েছি, কিন্তু তিনি (ফারুক আবদুল্লাহ) ভাগ্যবান যে বেঁচে গেছেন ।’ ঘটনার সময় জম্মু ও কাশ্মীরের উপ-মুখ্যমন্ত্রী সুরিন্দর চৌধুরীও ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলেন। তিনি অলৌকিকভাবে গুলি থেকে বেঁচে যান।
সংবাদ সংস্থা পিটিআই- এর উদ্ধৃতি দিয়ে পুলিশ এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, বন্দুকধারীর কাছ থেকে ঘটনায় ব্যবহৃত পিস্তলটি বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে ।পুলিশ জানিয়েছে, জামওয়ালকে মাতাল অবস্থায় পাওয়া গেছে। ঘটনার সময় বন্দুকধারী মদ্যপ অবস্থায় ছিল বলে মনে হচ্ছে। ফারুক আবদুল্লাহর হত্যার চেষ্টার পর অনুষ্ঠানস্থলে উপস্থিত কয়েকজন এনসি কর্মী তাকে মারধরও করে ।
জম্মু ও কাশ্মীরের মুখ্যমন্ত্রী এবং ফারুক আবদুল্লাহর ছেলে ওমর আবদুল্লাহ বলেছেন,’আল্লাহ দয়ালু। আমার বাবার খুব কাছ থেকে গুলি করা হয়েছিল। এই মুহূর্তে বিস্তারিত তথ্য অস্পষ্ট, তবে যা জানা গেছে তা হল, লোডেড পিস্তলধারী একজন ব্যক্তি খুব কাছ থেকে গুলি ছুঁড়তে সক্ষম হয়েছিল। কেবল ক্লোজ প্রোটেকশন টিমই গুলিটি প্রতিহত করেছিল এবং নিশ্চিত করেছিল যে হত্যার চেষ্টা ব্যর্থ হয়েছে।’ এই ঘটনাকে “নিরাপত্তার গাফিলতি” বলে বর্ণনা করে তিনি বলেছেন,’এই মুহূর্তে উত্তরের চেয়ে আরও অনেক প্রশ্ন রয়েছে, যার মধ্যে রয়েছে,কিভাবে একজন জেড প্লাস এনএসজি সুরক্ষিত প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীর এত কাছে যেতে সক্ষম হয়েছিল ?’
