এইদিন ওয়েবডেস্ক,ভাতার(পূর্ব বর্ধমান),১০ মার্চ : পৃথিবীর কোন শক্তি তৃণমূলকে চতুর্থবার ক্ষমতায় ফিরিয়ে আনতে পারবে না এবং বিজেপির মুখ্যমন্ত্রী নবান্নের পরিবর্তে রাইটার্স বিল্ডিং থেকে সরকার পরিচালনা করবে বলে আত্মবিশ্বাসের সুরে মন্তব্য করলেন রাজ্য বিজেপির সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য । আজ মঙ্গলবার দুপুরে দলের ‘পরিবর্তন যাত্রা’ কর্মসূচিতে পূর্ব বর্ধমান জেলার ভাতারে আসেন তিনি । তার সঙ্গে ছিল জেলা ও ব্লকের নেতৃত্বরা । দুপুর প্রায় একটা নাগাদ ‘পরিবর্তন যাত্রা’র সজ্জিত ট্যাবলো ভাতারে আসে৷ তারপর ভাতার বাজার কামারপাড়া মোড়ে আয়োজিত মঞ্চ থেকে ভাষণ দেন শমীক ।
তিনি বলেন,’২৬ শের নির্বাচন তৃণমূলের বিসর্জন৷ পৃথিবীর কোন শক্তি তৃণমূলকে চতুর্থবার তৃণমূলকে ক্ষমতায় ফিরিয়ে আনতে পারবে না । আর আমরা ঘোষণা করেছি যে নবান্ন নয়, রাইটার্স বিল্ডিং থেকে আমাদের মুখ্যমন্ত্রী কার্য পরিচালনা করবেন ।’ শমীকের কথায় সম্ভাব্য পরাজয়ের ইঙ্গিতও পেয়ে গেছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি । তিনি বলেন, ‘মুখ্যমন্ত্রী কোন প্যারাট্রুপার পলিটিশিয়ান নন । তিনি কোন সোনার চামচ মুখে দিয়ে জন্মাননি । তিনি যা করেছেন আপনাদের সঙ্গে নিয়েই করেছেন । তিনি মাটির গন্ধ জানেন । আর তাতেই তিনি বুঝে গেছেন যে বিদায় আসন্ন । এবার তো যাবার পালা ।’
গতকাল ধর্মতলায় ধর্ণা মঞ্চে একটি বিতর্কিত মন্তব্য করেন মমতা ব্যানার্জি । তিনি বলেছিলেন,’আমরা আছি বলে না আপনারা সবাই ভালো আছেন । আর যদি আমরা না থাকি,কোনোদিন যদি সেই দিন আসে,এক সেকেন্ড লাগবে । একটা কমিউনিটি যখন জোট বাঁধে না,ঘিরে ফেললে এক সেকেন্ডে দেবে একদম বারোটা বাজিয়ে । যদি নিজেদের ১৩টা বাজাতে না চান তাহলে বিজেপির অপপ্রচারে কেউ ভুল বুঝবেন না।’
তার এই মন্তব্যকে মুখ্যমন্ত্রীর সম্ভাব্য পরাজয়ের হতাশার লক্ষণ বলে মনে করছেন রাজ্য বিজেপির সভাপতি । তিনি বলেন,’গতকাল ধরনা মঞ্চ থেকে মুখ্যমন্ত্রী যা বিবৃতি দিয়েছেন সেটা শুধু অসংবিধানিক নয়, সমাজে অস্থিরতা তৈরি করা, দাঙ্গার সৃষ্টি করা, বিভাজন তৈরি করার পক্ষে যথেষ্ট । হতাশা এবং আতঙ্ক থেকে তৃণমূল আজকের রাজনীতির যে স্তরে পৌঁছে গেছে, অতীতে কোন রাজনৈতিক নেতা কোন মঞ্চ থেকে এভাবে সরাসরি দুই সম্প্রদায়কে আলাদা করে আক্রমণের ভয় দেখিয়ে মন্তব্য করেছেন বলে আমার জানা নেই ।’
তিনি আরও বলেন,’মুখ্যমন্ত্রী কি বোঝাতে চেয়েছেন? সংখ্যালঘুদের প্রতি কি বার্তা দিতে চেয়েছেন ? বিগত তিন বছরে যা খুন হয়েছে নিরানব্বই শতাংশ সংখ্যালঘু । আর সব ঘটনায় অভিযুক্তির তৃণমূল কংগ্রেসের দিকে । উনি কি বলছেন, হিন্দুরা দাঙ্গাবাজ? পশ্চিমবঙ্গ তথা গোটা ভারতবর্ষের বৃহত্তর জনসমাজ সংখ্যালঘুদের উপর আক্রমণ করবে ? সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা দিতে পারবেনা ?’
বিজেপি শাসিত রাজ্যগুলির দৃষ্টান্ত তুলে ধরে তিনি বলেন,’গুজরাটে কুড়ি বছরে একটাও দাঙ্গা হয়নি । পশ্চিমবঙ্গে কটা হয়েছে ? উত্তর প্রদেশে শিয়া-সুন্নি হিন্দু-মুসলমানের দাঙ্গা পুরো বন্ধ । মধ্যপ্রদেশে বন্ধ । কিন্তু আমাদের মালদা দেখুন, মুর্শিদাবাদ দেখুন, উত্তর ২৪ পরগনা দেখুন, বর্ধমান দেখুন । অনেক ঘটনা তো প্রকাশ্যে আসে না তথাকথিত ধর্মনিরপেক্ষ মিডিয়ার কারণে । কিন্তু সোশ্যাল মিডিয়ায় তো মানুষ দেখছেন ।’
গতকালের মন্তব্যের জন্য মুখ্যমন্ত্রী ক্ষমা না চাইলে এই বিষয়ে বিচারব্যবস্থাকে পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়ে শমীক ভট্টাচার্য বলেন,’কালকের এই মন্তব্যের জন্য মুখ্যমন্ত্রীর ক্ষমা চাওয়া উচিত৷ তা না হলে সংবিধানের রক্ষা কর্তাদের উচিত মুখ্যমন্ত্রী এবং তার দলের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া ।’
গতকাল সকালে কালীঘাটে পূজো দিতে গেলে দেশের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক জ্ঞানেশ কুমারকে তৃণমূলের ক্যাডারদের কালো পতাকা দেখানো ও গো ব্যাক শ্লোগান দেওয়ার ঘটনার প্রতিক্রিয়ায় রাজ্য বিজেপির সভাপতি বলেন,’এখন তো কাজ শুরু হলো না । ফুল বেঞ্চ, হাফ বেঞ্চ, কোয়াটার বেঞ্চ নিয়ে আমাদের কোন কাজ নেই । আমাদের অবস্থান স্পষ্ট । আমরা ওনাকে আসতে বলেছিলাম । আশা করি উনি ভালো সংবর্ধনা পেয়েছেন । কালীঘাটে গিয়েও পেয়েছেন । এখানকার মানুষ কেমন আছেন সেটাও নিশ্চয়ই উনি বুঝতে পেরেছেন ।’
তিনি বলেন,’উনি প্রশাসনকে কি বার্তা দিয়েছেন সেটা আমাদের জানা নেই । তবে এটা নিশ্চিত আমরা যে অভিযোগ পত্র দায়ের করেছি, আমাদের যে ফর্ম সেভেন রিসিভ করার পরেও সিস্টেমে আপলোড করা হয়নি, আজকে সমাজের প্রতিষ্ঠিত কিছু মানুষকে পরিচিত বৃদ্ধ মানুষজনের নাম তৃণমূল কংগ্রেস চক্রান্ত করে বিজেপির বি এল এ টু-এর নামে ঢুকিয়ে তাদের মিথ্যা হয়রানি শিকার করেছে, আগে এগুলো ফয়সালা হওয়া প্রয়োজন ।’ পাশাপাশি শমীক ভট্টাচার্য স্পষ্ট ভাষায় বলেন,’আমাদের জমা দেওয়া ফর্ম-৭ এর শুনানি বাদ দিয়ে এবং ফর্ম ৬ এর সব কাজ শেষ না করে পশ্চিমবঙ্গে এসআইআর বন্ধ করা যাবে না। ‘নো এসআইআর নো ভোট’, এটাই আমাদের অবস্থান ।’
সেই সাথে মমতার ধর্ণা নিয়ে শমীকের প্রতিক্রিয়া হল, ‘মুখ্যমন্ত্রী এর এজেন্ডা অত্যন্ত পরিষ্কার । বাংলাদেশী ও রোহিঙ্গারা ভোটার লিস্টে থাকবে । যারা মারা গেছেন তাদের নামও মুখ্যমন্ত্রী ভোটার লিস্টে রেখে দেবেন । যে ভুয়া ভোটারের নাম তুলে রাখা হয়েছে সেগুলোকেও তিনি রেখে দিতে চাইছেন । তার জন্যই মুখ্যমন্ত্রীর লড়াই । বাংলাদেশীদের জন্য লড়াই৷ ভাতার বা বর্ধমানের মানুষদের জন্য নয় ।’।
