এইদিন আন্তর্জাতিক ডেস্ক,০৭ মার্চ : বহু দেশের সর্বনাশ করা “ডিপ স্টেট”-এর অর্থায়নকারী কুখ্যাত বিলিওনিয়ার জর্জ সোরোসকে (George Soros) গৃহবন্দী করেছে মার্কিন পুলিশ । কি ঘটতে চলেছে আগে থেকেই টের পেয়ে তার ছেলে আলেকজান্ডার সোরোস ব্যক্তিগত জেটে চড়ে দুবাই পালিয়েছে বলে জানা গেছে । গতকাল শুক্রবার(০৬ মার্চ ২০২৬) ভোর ৫:০০ টা নাগান মার্কিন ফেডারেল এজেন্টরা এই অভিযান চালায় বলে জানা গেছে ।
প্রসঙ্গত,বিপুল সম্পদের মালিক জর্জ সোরোস বহু কুকর্মের সাথে যুক্ত । হাঙ্গেরির বুদাপেস্টে জন্মগ্রহণ করা ওই বিলিওনিয়ার আমেরিকায় শরণার্থী হিসাবে এসে পরে নাগরিকত্ব পান । মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নিউ ইয়র্কের কাটোনাহ-তে একটি বিশাল এস্টেটে বসবাস করেন তিনি । সাম্প্রতিক সময়ে বাংলাদেশের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ক্ষমতা থেকে উৎখাত থেকে শুরু করে ২০২৪ সালে ভারতের লোকসভা নির্বাচনে নরেন্দ্র মোদীকে সরাতে অর্থায়নের অভিযোগ উঠেছিল তার বিরুদ্ধে । এমনকি যে দেশে জর্জ সোরোস আশ্রয় নিয়েছেন সেই আমেরিকার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র চালানোর অভিযোগ উঠেছে তার বিরুদ্ধে । জর্জ সোরোস – যিনি বিগত ৩০ বছর ধরে আমেরিকার প্রতিটি দাঙ্গা, প্রতিটি প্রসিকিউটর, প্রতিটি উন্মুক্ত সীমান্ত দিয়ে মুসলিম অনুপ্রবেশকারীদের ঢুকিয়ে জনবিন্যাস পরিবর্তনের জন্য অর্থায়ন করেছিলেন । মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের প্রচারের সময় ডোনাল্ড ট্রাম্প তাকে হাঙ্গেরিতে ফেরত পাঠানোর হুঁশিয়ারিও দিয়েছিলেন ।
জানা গেছে,শুক্রবার ভোর ৫:০০ টায় আমেরিকা যখন ঘুমাচ্ছিল, তখন ফেডারেল এজেন্টরা নিউ ইয়র্কের কাটোনাহের সোরোস এস্টেট ঘিরে ফেলে। ৪৭ জন এজেন্ট। ১২টি সাঁজোয়া যান। মাথার উপর দিয়ে একটি হেলিকপ্টার ঘুরছিল । তার আগে ফেডারেল নজরদারিতে তার সম্পত্তিতে বাজেয়াপ্ত করা হয়।
যদিও ফেডারেল এজেন্টদের এই অভিযানের সময় তখন জর্জ সোরোসের ছেলে আলেকজান্ডার সোরোস সেখানে ছিলেন না। কোনো ভাবে জানতে পেরে তিনি ভোর ৩:২২ টায় টেটারবোরো বিমানবন্দরে একটি ব্যক্তিগত জেটে চড়ে দুবাই পালিয়ে যান । আর তার দুবাইকে বেছে নেওয়ার কারন হল যে সংযুক্ত আরব আমিরাতের সাথে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের কোনও প্রত্যর্পণ চুক্তি নেই ।
সূত্রের খবর,জর্জ সোরোসের উপর লাগাম টানতে রাষ্ট্রপতির শপথ নেওয়ার পর থেকে অত্যন্ত গোপনে পদক্ষেপ নিতে শুরু করেন ডোনাল্ড ট্রাম্প । ২০২৬ সালের ১৪ ফেব্রুয়ারি ট্রাম্প নির্বাহী আদেশ ১৪২৯১ স্বাক্ষর করেন। কোনও সাংবাদিক সম্মেলন করেননি। কোনও ঘোষণা করেননি । ফেডারেল রেজিস্টারের ৪৭ পৃষ্ঠায় সমাহিত করে রাখা হয় ট্রাম্পের সেই নির্বাহী আদেশকে । এটি ডিওজেকে অবৈধ অভিবাসন নেটওয়ার্কগুলিতে অর্থায়নকারী যেকোনো ব্যক্তির সমস্ত সম্পদ বাজেয়াপ্ত করার, বিদেশী অর্থায়নে পরিচালিত এনজিওগুলির মাধ্যমে রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ সমন্বয়ের জন্য ব্যবহৃত সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করার এবং জাতীয় নিরাপত্তা বিধানের অধীনে ৯০ দিন পর্যন্ত স্বার্থ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের আটক করার ক্ষমতা দেয়।
সোরোসের ওপেন সোসাইটি ফাউন্ডেশন ১৯৯৩ সাল থেকে ১২০টি দেশে ৩২ বিলিয়ন ডলার তহবিল দিয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে মার্কিন জেলা আইনজীবী প্রচারণা এবং অভিবাসন সমর্থনে ১.৭ বিলিয়ন ডলার।প্রতিটি ডলার এখন ফেডারেল পর্যালোচনার অধীনে।আমেরিকা জুড়ে তিনি যে জেলা অ্যাটর্নিদের তহবিল দিয়েছিলেন – তাদের মধ্যে ১৪ জন চলতি এই সপ্তাহে ফেডারেল টার্গেট লেটার পেয়েছেন। তার মধ্যে অ্যালভিন ব্র্যাগ (ম্যানহাটন) – যিনি ট্রাম্পের বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করেছিলেন। একজন রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে মামলা করার সময় সোরোস- সংযুক্ত পিএসি থেকে ১.১ মিলিয়ন ডলার গ্রহণের জন্য এখন তদন্তাধীন। কিম ফক্স (শিকাগো) – ২৫,০০০টি গুরুতর অপরাধমূলক মামলার অভিযোগ প্রত্যাহার করেছেন। সোরোসের কাছ থেকে ২ মিলিয়ন ডলার পেয়েছেন। এছাড়াও রয়েছেন জর্জ গ্যাসকন (এলএ), ল্যারি ক্র্যাসনার (ফিলাডেলফিয়া), যারা সোরসের কাছ থেকে অনৈতিক কাজের জন্য মিলিয়ন ডলার পেয়েছেন । তবে তারা প্রসিকিউটর ছিলেন না। তারা ছিলেন কর্মী। আমেরিকান ন্যায়বিচারকে ভেতর থেকে ভেঙে ফেলার জন্য বিদেশী বংশোদ্ভূত বিলিয়নেয়ার জর্জ সোরস দ্বারা অর্থ প্রদান করা হয়েছিল।
এপস্টাইন সংযোগ
ডিওজে-র আর্থিক অপরাধ ইউনিট ২০২০ সাল থেকে ২৭টি দেশের ৩৪০টি শেল কোম্পানির মাধ্যমে ৬.২ বিলিয়ন ডলার স্থানান্তরিত হয়েছে বলে আবিষ্কার করেছে। এর মধ্যে রয়েছে: মধ্য আমেরিকা থেকে অভিবাসীদের ক্যারাভান সমন্বয়কারী এনজিওগুলিকে ৮৯০ মিলিয়ন ডলার । মিডিয়া সংস্থাগুলিকে ২৪০ মিলিয়ন ডলার — যার মধ্যে ৪টি প্রধান মার্কিন সংবাদ নেটওয়ার্কের শেয়ারও রয়েছে । জেফ্রি এপস্টাইনের সাথে যুক্ত একই বাটারফ্লাই ফাউন্ডেশনকে ৪৭ মিলিয়ন ডলার । সোরোস এবং এপস্টাইন একই মানি লন্ডারিং নেটওয়ার্ক ভাগ করে নিয়েছিলেন। একই ফাউন্ডেশন। একই ব্যাংক। একই আইনজীবী।
ট্রাম্প জানতেন
২০১৯ সালে, ট্রাম্প ক্যামেরার বাইরে একজন প্রতিবেদককে বলেছিলেন: “পরবর্তী সোরোস। কিন্তু আমাদের আগে সঠিক সরঞ্জামের প্রয়োজন।”তিনি অপেক্ষা করছিলেন। অবশেষে তিনি করে দেখান । তিনি ইও ১৪২৯১ স্বাক্ষর করেছিলেন। এবং এখন – ৮৫ বছর বয়সে – জর্জ সোরোস তার প্রাসাদে বসে আছেন, ফেডারেল এজেন্টদের দ্বারা বেষ্টিত, তার সাম্রাজ্যের পতন দেখছেন। তার ছেলে দুবাইতে পালিয়ে গেছে। তার প্রসিকিউটররা টার্গেট লেটার পাচ্ছে। তাদের টাকা বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে। তার এনজিওগুলির বিরুদ্ধে তদন্ত চলছে।।
