এইদিন ওয়েবডেস্ক,কলকাতা,০৭ মার্চ : আজ শনিবার নবম আন্তর্জাতিক সাঁওতাল সম্মেলনে যোগ দিতে উত্তরবঙ্গে এসেছিলেন ভারতের রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু (President Droupadi Murmu ) । কিন্তু রাষ্ট্রপতির সভায় অনুমতি দেওয়া নিয়ে প্রশাসনিক টালবাহানা এবং দেশের সাংবিধানিক প্রধানকে বিমানবন্দরে স্বাগত জানাতে মুখ্যমন্ত্রী অথবা রাজ্য মন্ত্রিসভার কোনো সিনিয়র ক্যাবিনেট মন্ত্রীকে না পাঠিয়ে শিলিগুড়ির মেয়র গৌতম দেবকে পাঠানোয় তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন খোদ রাষ্ট্রপতি । দেশের সাংবিধানিক প্রধানের সঙ্গে রাজ্য সরকারের এই প্রকার ‘অপমানজনক’ আচরণের তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী । তিনি মমতা ব্যানার্জিকে ‘আদিবাসী বিদ্বেষী’ আখ্যা দিয়ে রাষ্ট্রপতির সঙ্গে এই আচরণকে ‘ভারতের সংবিধান, গণতন্ত্র এবং দেশের সর্বোচ্চ সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানের প্রতি অপমান’ বলে অবিহিত করেছেন । পাশাপাশি তিনি বলেছেন,’মমতা ব্যানার্জির অহংকার ও রাজনৈতিক বিদ্বেষের রাজনীতি কতটা নিচে নামতে পারে বাংলার মানুষ বুঝতে পারছে ।’
এদিন শিলিগুড়ির বিধাননগর সন্তোষীনি বিদ্যাচক্র হাইস্কুলের মাঠের সভায় রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু মুখ্যমন্ত্রীকে “বোন” সম্বোধন করে ক্ষোভ উগরে দিয়ে বলেন, ‘আমিও বাংলার মেয়ে । কিন্তু আমায় বাংলায় কেন আসতেই দেয় না ? মমতাদি আমার ছোট বোন । হয়ত আমার উপর কোনো রাগ আছে তার। যেকারণে আজ আমায় এখানেই অনুষ্ঠান করতে হল । যাক,আমার কোনো অভিযোগ নেই ।’
রাষ্ট্রপতির সঙ্গে এহেন অপমানজনক আচরণের প্রসঙ্গ আজ পূর্ব বর্ধমান জেলার মঙ্গলকোটের জনসভায় ভাষণে উল্লেখ করে শুভেন্দু অধিকারী বলেন,’আপনার ওপর মমতা ব্যানার্জীর এত রাগ কেন ? রাগ তো থাকবেই । মহামহিম,যেদিন আপনি ভোটে দাঁড়িয়েছিলেন সেদিন মমতা ব্যানার্জিরা আপনাকে ভোট দেয়নি । যশবন্ত সিনহাকে ভোট দিয়েছিল । আমি ও সৌমিত্র খানরা আপনাকে ভোট দিয়েছিলাম। আমরা আদিবাসীদের সম্মান দিতে জানি । তাই রাষ্ট্রপতি মহাদয়ার সঙ্গে আজকের ঘটনার পরে প্রমাণ হয়ে গেছে যে তৃণমূল শুধু হিন্দু বিরোধী নয়, নারী বিরোধী নয়, তৃণমূল আদিবাসী বিরোধী । এদের ঝেঁটিয়ে বিদায় করতে হবে ।’
তিনি আরও বলেছেন,’মমতা ব্যানার্জি ঘোষিত আদিবাসী বিরোধী । সবচেয়ে ব্যাতিক্রমী ঘটনা হলো যে মহামহীন রাষ্ট্রপতি আজকে বাধ্য হয়ে মুখ খুলেছেন। আমরা প্রত্যেকদিন এই যন্ত্রণা বয়ে নিয়ে বেড়াচ্ছি । রাষ্ট্রপতি মহোদয়া ধৈর্য হারিয়ে যে কথা বলেছেন গোটা ভারতবর্ষ হতবাক হয়ে গেছে । এখানে রাষ্ট্রপতি মহোদয়াকে পর্যন্ত কর্মসূচি করতে দেয় না । অমিত শাহ,নীতিন নবীনের হেলিকপ্টার পশ্চিমবঙ্গে নামতে দেয়নি। লোকসভা ভোটে বর্ধমানের মোদিজীর মাঠ ক্যান্সেল করে দেওয়া হয়েছে । অতএব,পশ্চিমবঙ্গে এই যে জঙ্গলের রাজত্ব যাকে মোদীজি বলে গেছেন মহা জঙ্গলরাজ, খতম হবে ।’
শুভেন্দু অধিকারী নিজের সোশ্যাল মিডিয়া পেজে এই প্রসঙ্গে আরও লিখেছেন,’আজ শিলিগুড়ির মাটিতে একটি অত্যন্ত লজ্জাজনক ঘটনার সাক্ষী রইলো পশ্চিমবঙ্গ তথা গোটা দেশ ও সারা বিশ্ব।ভারতের রাষ্ট্রপতি শ্রীমতী দ্রৌপদী মুর্মু মহোদয়া আজ শিলিগুড়িতে ৯ম আন্তর্জাতিক সাঁওতাল সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন। যিনি দেশের সর্বোচ্চ সাংবিধানিক পদে আসীন তার অনুষ্ঠান নিয়ে পশ্চিমবঙ্গের প্রশাসনের টালবাহানা ও অসহযোগিতার অভিযোগ নিজেই প্রকাশ্যে তুলে ধরতে বাধ্য হলেন যা সারা দেশের সামনে বাঙালির মাথা হেঁট করে দিলো।
রাষ্ট্রপতি মহোদয়া নিজেই বললেন, অনুষ্ঠানের স্থান বারবার পরিবর্তন করা হয়েছে, অনুমতি দিতে অযথা বাধা সৃষ্টি করা হয়েছে। সবচেয়ে দুঃখজনক বিষয়, সাধারণ প্রোটোকল অনুযায়ী রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী বা সরকারের প্রতিনিধিদের রাষ্ট্রপতিকে স্বাগত জানানোর কথা, কিন্তু সেই সম্মানটুকুও বাংলার মাটিতে দেওয়া হলো না।
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকারের এই আচরণ শুধু একজন ব্যক্তির প্রতি অসম্মান নয় এটা ভারতের সংবিধান, গণতন্ত্র এবং দেশের সর্বোচ্চ সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানের প্রতি অপমান। বাংলার মানুষ আজ বুঝতে পারছেন, অহংকার ও রাজনৈতিক বিদ্বেষের রাজনীতি কতটা নিচে নামতে পারে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যেমন আচরণ আমার সাথে কিংবা বিরোধী দলের নেতা কর্মীদের সাথে করে থাকেন ঠিক সেই আচরণ আজ করলেন মাননীয়া রাষ্ট্রপতির সাথে। বাংলার জনগণ সব দেখছেন, সব মনে রাখছেন।সময়ের উত্তর বাংলার মানুষই দেবেন – “তাই পাল্টানো দরকার, চাই বিজেপি সরকার”।’।

