এইদিন ওয়েবডেস্ক,নয়াদিল্লি,০৬ মার্চ : দেশের রাজধানী শহর দিল্লিতে হোলি উদযাপনের সময় বোরখা পরা মহিলার গায়ে রঙ লেগে যাওয়ার অপরাধে হিন্দু যুবককে নির্মমভাবে পিটিয়ে খুনের ঘটনা ঘটেছে । সাংবাদিক স্বাতী গোয়েল শর্মা জানিয়েছেন,বুধবার (৪ মার্চ) হোলির দিন দিল্লিতে ২৫ বছর বয়সী তরুণ কুমারকে পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে। এলাকারই এক বোরকা পরিহিত নারীর গায়ে রং ছিটানোর “প্রতিশোধ” হিসেবে এই হত্যাকাণ্ড ঘটানো হয়।
তিনি জানান, একটি শিশু দুর্ঘটনাবশত ওই নারীর গায়ে একটি বেলুন ছুড়ে মেরেছিল; এর জেরে ওই নারীর সমধর্মাবলম্বী একদল ক্ষুব্ধ জনতা শিশুটির পরিবারের ওপর হামলা চালায় । পরিস্থিতি বেগতিক দেখে পরিবারটি ঘরের দরজা বন্ধ করে দেয়। এর ঠিক ৩০ মিনিট পর, তরুণ—যে কি না বেলুন ছোড়া নিয়ে সৃষ্ট ওই বিবাদ সম্পর্কে বিন্দুমাত্র অবগত ছিল না—সেই উন্মত্ত জনতার সামনে পড়ে যান এবং তাকে পিটিয়ে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়।
ঘটনার বিবরণে জানা গেছে,দিল্লির উত্তম নগর এলাকায় এই ঘটনা ঘটেছে । তরুণের পরিবারের ১১ বছর বয়সী এক মেয়ে হোলি খেলতে গিয়ে ভুলবশত একটি জলের বেলুন ফেলে দেয়, যা তাদের বাড়ির নীচে দাঁড়িয়ে থাকা এক মুসলিম মহিলার উপর পড়ে। কী ঘটেছিল তা না জেনে, তরুণ যখন বাড়ি ফিরছিল, তখন একদল জনতা তাকে নির্মমভাবে আক্রমণ করে এবং হত্যা করে বলে অভিযোগ ।
স্বাতী গোয়েল শর্মা প্রতিক্রিয়ায় লিখেছেন,সাম্প্রদায়িক বিদ্বেষ আবারও কেড়ে নিল একটি প্রাণ। তরুণ একটি হিন্দু তফসিলি জাতিভুক্ত পরিবারের সন্তান ছিল। আমি যখন এই প্রতিবেদনটি লিখছি, তখন আমাদের সহকর্মীরা ঘটনাস্থলের উদ্দেশ্যে রওনা হয়েছেন। তার শেয়ার করা ভিডিও-তে একটি গলির মধ্যে ব্যাট ও লাঠিসোঁটা হাতে একদল জনতাকে হামলা চালাতে দেখা গেছে । তবে এই ঘটনায় এখনো পর্যন্ত কাউকে গ্রেফতার করা হয়েছে কিনা তিনি জানাননি ।
এই ঘটনায় জিতেন্দ্র প্রতাপ সিং নামে এক এক্স ব্যবহারকারীর প্রতিক্রিয়া হল,এই ধরণের সমস্ত অপরাধকে জিহাদ হিসেবে বিবেচনা করা উচিত। হিন্দু রাজনৈতিক নেতৃত্বের দ্রুত বিচারের জন্য কার্যকর ‘জিহাদ’ নির্দিষ্ট আইন এবং বিশেষ আদালত প্রণয়নে ব্যর্থতা, বিচারিক প্রক্রিয়া আটকে থাকা এবং সাধারণ আইনের কারণে, জিহাদিরা অবিশ্বাসীদের হত্যা করতে উৎসাহিত হচ্ছে।’।

