এইদিন ওয়েবডেস্ক,কলকাতা,০৫ মার্চ : অবশেষে ভরতপুরের বহিষ্কৃত তৃণমূল বিধায়ক ও ‘আমজনতা উন্নয়ন পার্টি’র চেয়ারম্যান হুমায়ুন কবীরকে ‘ওয়াই প্লাস’ ক্যাটাগরির নিরাপত্তা দিল কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক । তাঁর নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকবেন কেন্দ্রীয় বাহিনীর ১২ সদস্যের একটি দল। বুধবার দুপুরেই কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ানরা পৌঁছে যান হুমায়ুনের রেজিনগরের বাড়িতে । এই দলে রয়েছেন এক পরিদর্শন, এক সহকারী পরিদর্শক এবং ১০ জন কনস্টেবল। হুমায়ুনের দাবি,’লাগাতার খুনের হুমকি ফলে রাজ্যের কাছে নিরাপত্তার জন্য আবেদন করেছিলাম। সেখানে সদুত্তর না পেয়ে আদালতের দ্বারস্থ হই । এর পরে আজ আমার বাড়িতে নিরাপত্তা দল এসে পৌঁছোল।’
গত বছরের ২২ ডিসেম্বর মুর্শিদাবাদের বেলডাঙায় সভা করেন তিনি। সেখান থেকেই তিনি নতুন দলের নাম দেন, ‘জনতা উন্নয়ন পার্টি’, সংক্ষেপে জেইউপি। তবে এই নামে আগে থেকেই নির্বাচন কমিশনে একটি দল নিবন্ধিত রয়েছে। ফলে তাঁকে দলের নাম বদলাতে হয়েছে। ‘আম জনতা উন্নয়ন পার্টি’ হিসাবে ভরতপুরের বিধায়কের দলের রেজিস্ট্রেশন মঞ্জুর করেছে নির্বাচন কমিশন।নিয়ম অনুযায়ী, এখন সংবাদপত্রে বিজ্ঞাপন দিয়ে জনসমক্ষে দলের নাম প্রকাশ করা হবে। সেখানে কোনও আপত্তি না উঠলে কমিশন চূড়ান্ত স্বীকৃতি প্রদান করবে এবং তারপরই প্রতীকের জন্য আবেদন করতে পারবেন তিনি।
হুমায়ূনের দাবি নিজের নতুন দল গঠনের কথা ঘোষণার পর রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে বিক্ষোভের মুখে পড়তে হয় তাঁকে। তাঁকে ক্রমাগত খুনের হুমকি দেওয়া হচ্ছিল । এমনকি ব্যক্তিগতভাবে বাউন্সার রাখতে বাধ্য হন তিনি । সেই বাউন্সাররা আদতে ভিনরাজ্যের না হয়ে বাংলার বাসিন্দা,এটা জানাজানি হওয়ায় তাঁদের সরিয়ে দেন তিনি। শেষমেশ প্রাণের ঝুঁকি নিয়ে আদালতের দ্বারস্থ হলে হাইকোর্ট তাঁকে কেন্দ্রীয় নিরাপত্তা দেওয়ার নির্দেশ দেয় ।
এদিকে কেন্দ্রীয় নিরাপত্তা রক্ষী পাওয়ায় পর থেকে হুমায়ূন কবীরের সমর্থকরা নিরাপত্তা রক্ষীদের সাথে তার ছবি পোস্ট করে ব্যাপক প্রচার শুরু করে দিয়েছে । তারা হুমায়ূনের নিরাপত্তা রক্ষী পাওয়াকে “সত্যের জয়” বলে ব্যাখ্যা করছে । নির্বাচনের আগে কেন্দ্রীয় নিরাপত্তা এবং দলের রেজিস্ট্রেশন— এই দুই ঘটনায় হুমায়ূন কবীরের ওজন অনেক বাড়িয়ে দিল বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা ।।

