এইদিন ওয়েবডেস্ক,কলকাতা,০৪ মার্চ : পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার ‘সবং সজনীকান্ত মহাবিদ্যালয়’- এর নবীন বরণ অনুষ্ঠানে গিয়ে সংশ্লিষ্ট কলেজের অধ্যাপককের ‘বিলো স্ট্যান্ডার্ড’ ও পড়ুয়াদের ‘অসভ্য-বেয়াদপ’ আখ্যা দেওয়ার অভিযোগ উঠল মন্ত্রী ও সবং-এর তৃণমূল বিধায়ক মানস ভুঁইয়ার বিরুদ্ধে । তার সেই বক্তব্যের ভিডিও সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করে নিন্দায় সরব হলেন রাজ্য বিজেপির প্রাক্তন সভাপতি ও কেন্দ্রীয় প্রতিমন্ত্রী সুকান্ত মজুমদার । যদিও ভিডিওটির সত্যতা যাচাই করেনি এইদিন ।
সুকান্ত মজুমদারের শেয়ার করা ভিডিওতে মন্ত্রী মানস ভুঁইয়াকে বলতে শোনা যায়,’এখানকার অধ্যাপকদের স্ট্যান্ডার্ড হ্যাজ গন ডাউন । ভীষণ খারাপ । বিলো স্ট্যান্ডার্ড । এরাও ক্লাস করে না ফাঁকিবাজ, টিউশনি করে । আর সরকার এদের লক্ষ লক্ষ টাকা বেতন দিচ্ছে । আমি ভীষণ ভালবাসতে পারি । তোমাদের মাথাব্যথা করলে মাথা টিপে দেব । ওষুধ এনে দেবো । খিদে পেলে খাবার এনে দেবো । এত অপদার্থ কলেজের উন্নয়নের কান্ডারীরা… আমি তো প্রিন্সিপালকে একবার বললাম আপনি এখান থেকে টিসি নিয়ে চলে যান । আমি, যে সৈকতবাবু দাঁড়িয়ে আছেন, দেখো একে ।’
এরপর তিনি তাকে ‘স্যার আসুন’ বলে মঞ্চে ডেকে নিয়ে এসে ফের বলেন,’আমি ওর কলেজে গতকাল গিয়েছিলাম,ডেবরা । একজন মহিলা প্রিন্সিপাল । কলেজ টা দেখলে মনে হবে আমি একটা স্বপ্নের পুরীতে ঢুকছি। ছেলেমেয়েগুলোর কি ডিসিপ্লিন । দুই ঘন্টা বাদে আমি গেছি ডেবরা কলেজে । তারপরেও ছেলেমেয়েরা রোদে লাইনে দাঁড়িয়ে আছে আমার জন্য। আমাকে নমস্কার করার জন্য ।’
এরপর তিনি সবং সজনীকান্ত মহাবিদ্যালয়ের পড়ুয়াদের দিকে ইশারা করে বলেন,’আর,এই দ্যাখো । পঙ্গপালের মত খেতে চলে গেছে । এত এরা অসভ্য বেয়াদব । এত নিম্নমানের অধ্যাপক এই কলেজে আমি জীবনে দেখিনি ।’ একথা বলে মানস ভুঁইয়া প্রচন্ড জোরে চিৎকার করে একজন ছাত্রীর দিকে আঙুল উু্ঁচিয়ে বলেন,’সাবধান । একদম হাসাহাসি কোরোনা । ওই সবুজ শাড়ির মেয়েটা । দাঁত বের করে হাসছে । কোথায় বাড়ি ? তোলো । অ্যাই মেয়েটা, ওঠো । দাঁড়া, তুই দাঁড়া ৷ তোর বাড়ি কোথায়? সবং, না নারায়ণগড়, না পটাশপুর, কোথায় ?’
এরপর মন্ত্রী আর একজনকে ধরেন, ‘আর,এই তুই এইদিকে আয় । ভিডিও তুলছিস । আয় এদিকে আয় । ফোনটা নিয়ে আয় । আয় না হলে চাবকাবো কিন্তু। এদিকে আয় ।’ পড়ুয়া এগিয়ে এলে মানস ভুঁইয়া তাকে জিজ্ঞেস করেন, ‘তোর বাড়ি কোথায় ? এদিকে আয়, বাড়ি কোথায়?’ তিনি সাঙ্গোপাঙ্গদের নির্দেশ দেন, ‘এই সবার ফোন চেক কর ।’ উনি প্রচন্ড জোরে চিৎকার করে মঞ্চে ডেকে আনা ওই ছাত্রকে নির্দেশ দেন, “মোছ” ।
এদিকে মানস ভুঁইয়ার এই প্রকার মন্তব্য এবং আচরণের তীব্র নিন্দা করেছেন সুকান্ত মজুমদার । তিনি লিখেছেন,’কয়েকদিন আগে পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার ‘সবং সজনীকান্ত মহাবিদ্যালয়’-এর নবীন বরণ অনুষ্ঠানে উক্ত কলেজের পরিচালন সমিতির প্রধান তথা তৃণমূল কংগ্রেস পরিচালিত পশ্চিমবঙ্গ সরকারের মন্ত্রী মানস ভুঁইয়া মঞ্চ থেকে অধ্যাপক এবং শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে এই কদর্য ভাষাতেই হুমকি দিয়েছেন!
শিক্ষার্থীদের সামনে কখনও তিনি প্রকাশ্যে বলেছেন “অধ্যাপকদের মানের যথেষ্ট অবনতি হয়েছে”, কখনও শাসন করেছেন কলেজের অধ্যক্ষকে, আবার কখনও ছোট ছোট শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে তাঁকে হুঁশিয়ারি দিতে শোনা যাচ্ছে পুলিশ দিয়ে গ্রেফতারির! নবীন বরণ অনুষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের একাংশ তাঁর বক্তব্য না শুনে কেন খেতে চলে যাচ্ছে, তার বিরুদ্ধেও রাজ্যের মন্ত্রীর ক্ষোভ চূড়ান্ত!
কিন্তু প্রশ্ন হচ্ছে, একটি শিক্ষাঙ্গনে দাঁড়িয়ে সেখানকার শিক্ষার্থী ছোট ছোট ছেলে-মেয়েদের উদ্দেশ্যে এই ধরনের হুমকিমূলক বাক্য প্রয়োগ এবং মাননীয় অধ্যাপকদের সম্পর্কে অশালীন আক্রমণ করার স্পর্ধা কি করে পাচ্ছেন মানস ভুঁইয়াদের মতো ‘গুণ্ডা’ তৃণমূল নেতারা?
আসলে এই মানসবাবুদের নেত্রী রাজ্যের ব্যর্থ মুখ্যমন্ত্রী Mamata Banerjee -এর শাসনামলে পশ্চিমবঙ্গের শিক্ষাব্যবস্থার মেরুদণ্ডকে আগেই সার্বিকভাবে গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। স্কুলে, কলেজে পরিচালন সমিতির মাথায় অবাধে এই ধরনের ‘দুষ্কৃতী উপকরণ’-দের বসিয়ে রাখা হয়েছে, যাতে শিক্ষার্থীদের থেকে শিক্ষার অধিকার কেড়ে নিয়ে প্রকাশ্যে ক্যাম্পাসের দখলদারি নিতে পারে তৃণমূলের লুম্পেনবাহিনী। আর তাই সমাজ গঠনের মূল কারিগর মাননীয় শিক্ষক অধ্যাপকদের প্রকাশ্যে আক্রমণ আর হেনস্থার ঘটনা রাজ্যের সর্বত্র।
আমি এই ন্যক্কারজনক ঘটনার তীব্র নিন্দা জানাই।এই অসম্মান শুধু সবং-এর ওই কলেজের মাননীয় অধ্যাপক মহাশয়দেরই অসম্মান নয়, বরং গোটা রাজ্যের শিক্ষকমহল এবং শিক্ষাব্রতীদের মাথাও হেঁট করে দেয়।’।

