প্রদীপ চট্টোপাধ্যায়বর্ধমান,০৩ মার্চ : বিজেপির আনা ’বাংলাদেশী অনুপ্রেবশকারী’ অভিযোগেই শেষ অব্দি পড়লো সীলমোহর। চুড়ান্ত ভোটার তালিকা থেকে ’ডিলিট’ হলেন পূর্ব বর্ধমানের জামালপুর-১ পঞ্চায়েতের দু-বারের তৃণমূল সদস্যা রুপালী বিশ্বাসের নাম। জেলার হাট কালনা ও মেড়াতাল পঞ্চায়েতের প্রধানদের নামের পাশাপাশি রুপালী বিশ্বাসের নামও ভোটার তালিকা থেকে ’ডিলিট’ হওয়ায় বেজায় খুশি বিজেপি শিবির। তারা এখন রুপালী বিশ্বাসের সদস্য পদ খারিজের দাবি তুলে সরব হয়েছেন।
রুপালী বিশ্বাসের বাড়ি জামালপুর-১ পঞ্চায়েতের অন্তর্গত উত্তর মোহনপুর গ্রামে। এই গ্রামের ১৪২ নম্বর বুথের ভোটার তালিকায় এতদিন জ্বলজ্বল করতো তাঁর নাম। পরপর দু’বার এই বুথের তৃণমূল প্রার্থী হয়ে পঞ্চায়েত ভোটে প্রতিদ্বন্দ্বীতা করে জামালপুর-১ পঞ্চায়েতের সদস্য হন রুপালী। বাংলায় এসআইআর (SIR) প্রক্রিয়া শুরু হতেই রুপালী বিস্বাসের ঘুম কেড়ে নেন ১৪২ নম্বর বুথের বিজেপি বিএলএ-২ সুশান্ত মণ্ডল এবং জামালপুর-১ মণ্ডলের বিজেপি সভাপতি প্রধানচন্দ্র পাল । তাঁরা রুপালী বিশ্বাসকে ’বাংলাদেশী অনুপ্রেশকারী’ দাবি করে প্রশাসন ও কমিশনে অভিযোগ দায়ের করেন ।
বাংলায় ’এসআইআর’(SIR) লাগু হতেই শুরু হয় ’বাংলাদেশী অনুপ্রবেশকারীদের’ ভারত ছাড়া। সেই আবহে রুপালী বিশ্বাসের ভারতে থাকা নিয়ে গর্জে ওঠেন বিজেপি নেতা প্রধানচন্দ্র পাল এবং সুশান্ত মণ্ডল।তাঁরা কমিশনকে জানান,বাংলাদেশী অনুপ্রবেশকারী রুপালী বিশ্বাসের স্বামী তারক বিশ্বাস তৃণমূলের সক্রিয় কর্মী। তিনি’ই রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে প্রথমে অবৈধ উপায়ে তাঁর স্ত্রীর নাম তোলান ভারতের ভোটার তালিকায়।তার পরতিনি তাঁর স্ত্রীর নামে ভোটার কার্ড,আধার কার্ড ও তফসিলি জাতি (SC) সংশাপত্র হস্তগত করে নেন। পরে সেইসব সংশাপত্র দাখিল করে ভোটে প্রার্থী হয়ে রুপালী বিশ্বাস দু’বারের পঞ্চায়েত সদস্য হয়েছেন। বিজেপি নেতাদের আনা এই অভিযোগ তখন রুপালী বিশ্বাস মিথ্য বলে দাবি করেছিলেন।
যদিও ভারতের নির্বাচন কমিশন শনিবার বাংলার যে চুড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশ করেছে সেখানে রুপালী বিশ্বাসের নামের জায়গায় ’ডিলিট’ উল্লেখ করা রয়েছে। এমনকি জামালপুর-১ পঞ্চায়েতের উপ-প্রধান সাহাবুদ্দিন মণ্ডলকেও চুড়ান্ত ভোটার তালিকায় বিচারাধীন দেখানো হয়েছে। এ নিয়ে বিজেপি নেতা সুশান্ত মণ্ডল সোমবার বলেন,’প্রমাণ হয়ে গেল আমরা তৃণমূলের দু’বারের পঞ্চায়েত সদস্য রুপালী বিশ্বাসের নামে যে অভিযোগ কমিশনে জানিয়ে ছিলাম সেটা সঠিক ছিল।’ এবার বিজেপির তরফে রুপালী বিশ্বাসের সদস্য পদ খারিজের দাবি প্রশাসনের কাছে জানানো হবে বলে সুশান্ত মণ্ডল জানিয়েছেন।
পঞ্চায়েত সদস্য রুপালী বিশ্বাস অবশ্য তাঁর নাম ভোটার তালিকা থেকে ’ডিলিট’ হয়ে যাওয়া নিয়ে এদিন কোনও মন্তব্য করতে চান নি। তিনি গোটা বিষয়টি নিয়ে কোন মন্তব্য না করে কার্যত পাশ কাটান । তবে উপ-প্রধান তথা জেলা তৃণমূলের যুব নেতা সাহাবুদ্দিন মণ্ডলের সাফ জবাব,’কমিশনের নিরপেক্ষতাই এখন প্রশ্ন চিহ্নের মুখে। বিজেপির স্বার্থ পূরণ করাটাই এখন যেন কমিশনের মুখ্য উদ্দেশ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। চুড়ান্ত ভোটার তালিকায় বেছে বেছে সংখ্যালঘু ভোটারদের ’বিচারাধীন’ চিহ্নিত করে রাখা ও তৃণমূলের জনপ্রতিনিধিদের নাম ’ডিলিট’ করে দেওয়ার ঘটনাতেই তার প্রমাণ মিলছে।’।

