এইদিন স্পোর্টস নিউজ,০৩ মার্চ : ইরানের স্বৈরাচারী নৃশংস শাসক আয়াতুল্লাহ আলি খোমেনির মৃত্যুতে যখন ভারতের বিভিন্ন রাজ্যে শোক পালন করছে মুসলিম সম্প্রদায়ের মানুষ,রাস্তা অবরোধ করে বুক চাপড়ে কান্নাকাটি করছে । তখন ইরানের সিংহভাগ মানুষই খোমিনির হত্যায় উচ্ছ্বাস প্রকাশ করছে । আতসবাজি পুড়িয়ে,রাস্তায় নেমে নেচেগেয়ে উদযাপন করছে খোমিনির হত্যা । ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা খোমিনির নৃশংসতা এমন পর্যায়ে পৌঁছে গিয়েছিল যে মৃত্যুর পরেও আজও তার প্রতি ঘৃণা প্রদর্শনে পিছপা হচ্ছে না ইরানি নাগরিকরা । সোমবার রাতে দক্ষিণ কোরিয়ার রাজধানী সিওলে এএফসি মহিলা এশিয়ান কাপের ম্যাচেও দেখা গেলো খোমিনি প্রতি পুঞ্জীভূত ঘৃণার বহিঃপ্রকাশ । ম্যাচের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে আলি খোমেনির নেতৃত্বাধীন ইসলামী শাসনের জাতীয় সঙ্গীত গাইতে অস্বীকৃতি জানায় ইরানের মহিলা ফুটবল দল । এমনকি ইরানের মহিলা জাতীয় দলে প্রধান কোচ মারজিয়াহ জাফারিকে হাসতে পর্যন্ত দেখা যায় । কেউ কেউ এই ঘটনাকে ইরানের মেয়েদের “এক অবাধ্য নীরবতা” বলে ব্যাখ্যা করেছেন ।
এদিকে ইরানের মহিলা ফুটবল দলের এই ‘নীরব প্রতিবাদ’ গোটা বিশ্ব জুড়ে প্রশংসিত হচ্ছে । ব্রিটিশ কলামিস্ট সামন্থা স্মিথ লিখেছেন,’ইরানের জাতীয় মহিলা ফুটবল দল ইসলামী শাসনের সঙ্গীত গাইতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে। আজ রাতে। এশিয়ান কাপের উদ্বোধনী ম্যাচে। সমগ্র বিশ্বের সামনে। তাই, সমস্ত উদার পশ্চিমা নারীদের উদ্দেশ্যে:দেখুন এবং শিখুন।প্রকৃত নারীবাদ দেখতে এমনই।’
পামেলা হেনসলে নামে এক ব্রিটিশ মহিলা লিখেছেন, ‘আজ রাতে, ইরানের মহিলা দল এশিয়ান কাপের উদ্বোধনী ম্যাচে বিশ্বের সামনে শাসকগোষ্ঠীর সঙ্গীত গাইতে সাহসের সাথে অস্বীকৃতি জানিয়েছে। আমাদের সঙ্গীতের জন্য হাঁটু গেড়ে বসে থাকা প্রতিটি উচ্চ বেতনভোগী ক্রীড়াবিদের গভীর লজ্জা অনুভব করা উচিত। এই মহিলারা কেবল নারী হওয়ার কারণে ভয়াবহ কষ্ট ভোগ করেছেন। ঈশ্বর তাদের সত্যিকারের সাহসকে আশীর্বাদ করুন!”
ভারতের শীতল চোপড়া নামে এক এক্স ব্যবহারকারী লিখেছেন,’আজ, কোরিয়া প্রজাতন্ত্রের বিরুদ্ধে তাদের AFC মহিলা এশিয়ান কাপের খেলা চলাকালীন, ইরান দল নীরব ছিল, খামেনির ইসলামী শাসনের জাতীয় সঙ্গীত না গাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল। একটি দমনমূলক শাসনব্যবস্থার মুখোমুখি যা অনেক অধিকার কেড়ে নিয়েছে এবং ইরানি নারীদের জীবনকে বিপন্ন করেছে, এই অবাধ্যতার কাজটি প্রকৃত সাহসিকতার পরিচয় দেয় । ইসলামী শাসনব্যবস্থা থেকে ইরানকে মুক্ত করুন ।’
কেউ কেউ মন্তব্য করেছেন,’তাদের পরবর্তী খেলা শুরু হওয়ার সময়, সম্ভবত তাদের আর সেই হিজাব পরতে হবে না।’ কেউ মন্তব্য করেছেন,’সত্যিকারের সাহস এমনই হয়।’লেখক হেন ম্যাগগি লিখেছেন,আজ, কোরিয়া প্রজাতন্ত্রের বিরুদ্ধে তাদের AFC মহিলা এশিয়ান কাপের ম্যাচে, IR ইরান দল নীরবে দাঁড়িয়ে ছিল, ইসলামী শাসনের জাতীয় সঙ্গীত গাইতে অস্বীকৃতি জানিয়েছিল।যে নিপীড়ক শাসনব্যবস্থা এত অধিকার কেড়ে নিয়েছে এবং এত নারীর জীবনকে হুমকির মুখে ফেলেছে, তার জন্য এই অবাধ্যতামূলক কাজটি সত্যিকারের সাহসিকতার একটি। আশা করা যায় তারা মুক্ত ইরানে বাড়ি ফিরে আসবে!’ যদিও কোরিয়া প্রজাতন্ত্রের বিরুদ্ধে ইরান ম্যাচটি ৩-০ গোলে পরাজিত হয় ।।

