এইদিন ওয়েবডেস্ক,কলকাতা,২৭ ফেব্রুয়ারী : সিপিএমপন্থী আইনজীবী ফিরদৌস শামিমের বিরুদ্ধে যৌন হেনস্তার মামলা করলেন তারই এক জুনিয়র মহিলা আইনজীবী । বিভিন্ন ইস্যুতে শাসকদলের বিরুদ্ধে সোচ্চার হওয়া কলকাতা হাইকোর্টের ওই আইনজীবীর বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে জামিন অযোগ্য ধারায় মামলা দায়ের করা হয়েছে । সংবাদ প্রতিদিনের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে যে বৃহস্পতিবার ডিসি (সেন্ট্রাল) ইন্দিরা মুখোপাধ্যায় জানান, আইনজীবী ফিরদৌস শামিমের বিরুদ্ধে এক মহিলা আইনজীবী যৌন হেনস্তা, কুরুচিকর মন্তব্য ও অশ্লীল আচরণে লিপ্ত থাকার অভিযোগ জানিয়েছেন । তারই ভিত্তিতে হেয়ার স্ট্রিট থানায় ভারতীয় ন্যায় সংহিতায় ৭৪, ৭৫, ৭৯, ৩৫১(২), ১২৬(২) ধারায় শ্লীলতাহানি, যৌন হেনস্তা, অশ্লীল আচরণ, অপরাধ মূলক ভীতি প্রদর্শন, অন্যায়ভাবে আটকে রাখার মামলা দায়ের করা হয়েছে।
“খবর বাংলা” নামে একটি সোশ্যাল মিডিয়া সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে লেখা হয়েছে : ওই মহিলা আইনজীবী ইমেলে অভিযোগ জানানোর পর তাঁকে হেয়ার স্ট্রিট থানায় যেতে অনুরোধ জানানো হয়। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় তিনি এক সহকর্মীকে নিয়ে থানায় এসে অভিযোগ জানান। এর পরই মামলা দায়ের হয়। মিডিয়া রিপোর্ট অনুযায়ী, মহিলা পুলিশের কাছে অভিযোগে জানান যে গত আগস্টে তিনি কোর্টপাড়ায় ওই আইনজীবীর চেম্বারে যোগ দেন। এরপর থেকেই বিভিন্নভাবে যৌন হেনস্তা করেন অভিযুক্ত আইনজীবী। সিনিয়র হিসাবে মহিলার ব্যক্তিগত জীবন সম্পর্কে তাঁর জানার অধিকার রয়েছে বলে দাবি করেন। অনেক রাত পর্যন্ত মহিলাকে হোয়াটসঅ্যাপে ভয়েস ও ভিডিও কল করে হেনস্তা করতে থাকেন।
সেপ্টেম্বরে নিজের ব্যক্তিগত চেম্বারে ডেকে অভিযোগকারিণীর শরীর স্পর্শ করেন। ক্রমে মহিলা জানতে পারেন, তাঁর সিনিয়র আইনজীবী যৌন হেনস্তায় অভ্যস্ত! নভেম্বরের মাঝামাঝি তাঁর শারীরিক গঠন নিয়ে ওই আইনজীবী কুমন্তব্য করেন।ডিসেম্বরের প্রথম সপ্তাহে কাজের অছিলায় ওই মহিলা আইনজীবীকে প্রাইভেট চেম্বারে আলাদাভাবে ডাকেন ওই আইনজীবী। তিনি কাজ করার সময়ই তাঁর হাত চেপে ধরে নিজের কাছে টেনে নিয়ে আসেন । অভিযোগ, মহিলার হাত টেনে এনে জোর করে নিজের যৌনাঙ্গে স্পর্শ করেন ওই আইনজীবী । তাঁকে জোর করে চুম্বন করার চেষ্টা করেন। ‘অভিযুক্ত’ আইনজীবী নিজের পোশাক খুলে ফেলে মহিলার সামনেই হস্তমৈথুন করতে থাকেন বলে অভিযোগ। মহিলা আতঙ্কে কাঁদতে থাকলে বিভিন্ন ধরনের মন্তব্যও করেন। এমনকী, মহিলাকে নিজের চেম্বার লাগোয়া বেডরুমে নিয়ে যাওয়ার জন্য জোর করেন। মহিলার দাবি, সেখানে সিসিটিভির ক্যামেরা নেই। কিন্তু তিনি অভিযোগপত্রে ওই আইনজীবীর শরীরে বিশেষ কয়েকটি চিহ্ন উল্লেখ করেছেন, যা একমাত্র ওই ব্যক্তিটি সম্পূর্ণ উন্মুক্ত হওয়ার পরই তা দেখা সম্ভব।
অভিযোগকারিনী জানিয়েছেন যে এর আগে তিনি ওই আইনজীবীর বিরুদ্ধে আলিমুদ্দিন স্ট্রিটেও অভিযোগ জানান । অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ । যদিও এখনো অভিযুক্ত আইনজীবীর প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি ।।

