পারমিতা দত্ত,কালনা(পূর্ব বর্ধমান),২৬ ফেব্রুয়ারী : পূর্ব বর্ধমান জেলার পূর্বস্থলী-১ ব্লকের নাদনঘাট থানার অন্তর্গত জালুইডাঙ্গা এলাকায় গঙ্গা নদীতে অত্যাধুনিক মেশিন লাগিয়ে অবৈধভাবে বালি তুলে ট্রাক্টরে পাচার করে দেওয়া হচ্ছিল কয়েকদিন ধরে । অবশেষে আজ বৃহস্পতিবার স্থানীয় গ্রামবাসীদের তৎপরতায় বালি পাচার রুখে দিল ভূমি ও ভূমি সংস্কার বিভাগ ৷ ভূমি সংস্কার বিভাগ থেকে একটি ড্রেজার মেশিনসহ নদী থেকে বালি উত্তোলনের বেশ কিছু সামগ্রী বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে । গঙ্গা নদী থেকে এভাবে অবৈধভাবে বালি উত্তোলন করে পাচারের অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় এক ইঁটভাটার মালিকের বিরুদ্ধে । এলআরও নবীন কুমার গৌতম জানিয়েছেন,বালি পাচারে যুক্তদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে ।
জানা গেছে,পূর্বস্থলী-১ ব্লকের জালুইডাঙ্গা অঞ্চলের কালিনগরের পাশ দিয়ে প্রবাহিত হয়েছে গঙ্গা নদী । গ্রামটি বর্ধমান ও নদীয়ার সীমান্তে অবস্থিত । গঙ্গার তীরবর্তী হওয়ায় গ্রামটি জেলার অন্যতম বন্যা কবলিত গ্রামগুলির মধ্যে শীর্ষস্থানে রয়েছে । প্রায় ফি বছর নদীর পাড় ভাঙনের ফলে প্লাবিত হয় কালিনগর গ্রাম । অভিযোগ যে বিগত কয়েকদিন ধরে ড্রেজার লাগিয়ে গঙ্গা নদী থেকে শত শত ট্রাক্টর বালি তুলে পাচার করে করে দিচ্ছিল কালিনগরের এক ইটভাটার মালিক ।
গ্রামবাসীদের অভিযোগ,বিগত প্রায় এক সপ্তাহ ধরে চলছিল নদী থেকে বালি উত্তোলন পর্ব । জলের তলা থেকে আধুনিক যন্ত্রের সাহায্যে বালি তোলা হচ্ছিল । কেটে ফেলা হয়েছিল বিরাট অংশের নদীর পাড় । প্রতিদিন গড়ে ১০০ থেকে ১৫০টি ট্রাক্টর বালি পাচার করে দেওয়া হচ্ছিল বলে অভিযোগ তাদের ।
জানা যায়,যেখানে বেআইনিভাবে বালি উত্তোলন হচ্ছিল, সেই স্থানটি জনবসতি থেকে একটু দূরে হওয়ায় প্রথমে গ্রামবাসীদের নজরে পড়েনি । আজ সকালে গ্রামের লোকজনের নজরে পড়লে ভূমি ও ভূমি সংস্কার বিভাগকে বিষয়টি জানান । এরপর পুলিশ বাহিনী নিয়ে কালিনগরে হানা দেন এলআরও নবীন কুমার গৌতম । এদিকে পুলিশকে দেখে মেশিনপত্র ফেলে চম্পট দেয় বালি উত্তোলনে নিযুক্ত শ্রমিকরা ।
নবীন কুমার গৌতম বলেন,’প্রাথমিকভাবে মনে হচ্ছে যে ২-৩ ধরে অবৈধ ভাবে বালি উত্তোলন করা হচ্ছিল ।’ তিনি বলেন, ‘নদীয়া জেলায় অবৈধ বালির গাড়ির বিরুদ্ধে লাগাতার জোরদার অভিযান চলায়, নদীয়ায় বালি পাচার করে দেওয়া হচ্ছিল বলে মনে হয় না । বর্ধমান থেকেই কোথাও পাচার করে দেওয়া হচ্ছিল ।’ তিনি আরও জানান যে একটি ড্রেজার মেশিন সহ আনুষঙ্গিক কিছু সামগ্রী বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে । বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে । তবে পুলিশের নাকের ডগা দিয়ে কিভাবে গঙ্গা নদী থেকে অবৈধভাবে বালি তুলে পাচার হয়ে যাচ্ছিল, এনিয়ে প্রশ্ন তুলছেন স্থানীয় বাসিন্দারা ।।

