এইদিন ওয়েবডেস্ক,কলকাতা,২৪ ফেব্রুয়ারী : মঙ্গলবার কেরলের নাম পরিবর্তন করে ‘কেরলম’ (Keralam) করার প্রস্তাবে সিলমোহর দিয়েছে কেন্দ্রীয় মন্ত্রীসভা । কিন্তু ২০১৮ সালে তৃণমূল কংগ্রেস সরকার পশ্চিমবঙ্গের নামবদল করে ‘বাংলা’ করার প্রস্তাব দিলেও সেটা এখনো ঝুলে আছে । যেকারণে ফের একবার ‘কেন্দ্রীয় বঞ্চনার’ অভিযোগে সরব হলেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি৷ তিনি এই বিষয়ে বিজেপি ও সিপিএমের মধ্যে ‘লিখিত আঁতাত’-এর দাবি করে বলেছেন,’ওরা বাংলা বিরোধী বলেই আমাদের সঙ্গে বঞ্চনা করছে ।’
কেরলের নামবদলের জন্য ২০২৩ এবং ২০২৪ সালে প্রস্তাব পাশ করানো হয় কেরল বিধানসভায়। ওই প্রস্তাবে কেরলের সিপিএমের সরকার কেন্দ্রকে রাজ্যের নতুন নাম ‘কেরলম’ করার প্রস্তাব দেয়। অবশেষে আজ সেবাতীর্থ কমপ্লেক্সে কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভার বৈঠকে কেরলের নতুন নামকরণের প্রস্তাবে অনুমোদন দেয় ভারত সরকার।এর আগে কেরল সরকারের প্রথম প্রস্তাবটি ‘পদ্ধতিগত কিছু ত্রুটি’ থাকায় ফেরত পাঠিয়েছিল কেন্দ্রের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক। তার পর পুনরায় প্রস্তাব যায় কেন্দ্রের কাছে। এ বার সেই প্রস্তাবে অনুমোদন দিল কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভা।
এদিকে মমতা ব্যানার্জি বলেন,’কেরলে বিজেপি এবং সিপিএমের যোগ এখন আর অলিখিত নয়, সেটা এখন লিখিত। তাই সেখানে নাম পরিবর্তন হয়ে গেল।’ অথচ আমাদের বাংলাকে বঞ্চিত করে রাখা হচ্ছে।’ তিনি আরও বলেছেন,’পশ্চিমবঙ্গের নাম ইংরেজি বর্ণমালার ক্রমানুসারে ‘W’ (West Bengal) দিয়ে শুরু হওয়ায় প্রশাসনিক বৈঠকে বা জাতীয় স্তরের যে কোনো অনুষ্ঠানে বাংলাকে সবার শেষে সুযোগ দেওয়া হয়। মুখ্যমন্ত্রী ক্ষোভের সঙ্গে জানান, “আমাদের কেন সবসময় ওয়াই-জেড (Y-Z)-এ পড়ে থাকতে হবে? আমাদের রাজ্যের ছেলে-মেয়েরা যখন বাইরে পরীক্ষা দিতে যায়, তখন তাদের পিছনের বেঞ্চে বসতে হয়। মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে আমিও সবার শেষে বলার সুযোগ পাই ।’
প্রসঙ্গত,২০১৮ সালে মমতা ব্যানার্জির নেতৃত্বাধীন তৃণমূল কংগ্রেস সরকার বিধানসভায় প্রস্তাব পাশ করে রাজ্যের নাম সব ভাষাতেই ‘বাংলা’ করার আর্জি জানিয়েছিল। কিন্তু কেন্দ্রীয় বিদেশ মন্ত্রকের যুক্তি ছিল, প্রতিবেশী দেশ বাংলাদেশের সঙ্গে এই নাম মিলে যাওয়ায় আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে সমস্যা হতে পারে। তবে আজ মমতা ব্যানার্জি এদিন স্পষ্ট করে দেন, তিনি রাজ্যের নাম ‘বাংলা’ করেই ছাড়বেন। পাশাপাশি কেরলবাসীকে তাঁদের দাবি পূরণ হওয়ায় অভিনন্দনও জানিয়েছেন তিনি।।

