এইদিন ওয়েবডেস্ক,মালদা,২৩ ফেব্রুয়ারী : “পাকিস্তান-পন্থী এবং সন্ত্রাস-পন্থী” পোস্টার লাগানোর ঘটনার তদন্তে নেমে পাকিস্তানের মদতপুষ্ট লস্কর-ই-তৈয়বার সাথে যুক্ত একটি বাংলাদেশী সন্ত্রাসী মডিউলের উন্মোচন করেছে দিল্লি পুলিশের বিশেষ সেল । পোস্টারগুলিতে নিহত জৈশ-ই- মোহাম্মদ সন্ত্রাসী বুরহান ওয়ানি এবং অন্যান্যদের আদর্শিক ছবি ছিল। পোস্টারগুলির মধ্যে একটিতে “ভারত গণহত্যা বন্ধ কর এবং কাশ্মীর মুক্ত কর” লেখা ছিল এবং উর্দুতে কিছু শব্দ ছিল যার অনুবাদ “হাম পাকিস্তানি হ্যায়, পাকিস্তান হামারা হ্যায়” এবং “কাশ্মীরি এক জুট-তা দিবস”। যার ফলে লস্কর-ই- তৈয়বা গ্যাংয়ের ৭ বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত সন্ত্রাসী সহ মোট ৮ জন সন্ত্রাসীকে গ্রেপ্তার করা হয় । অষ্টম অভিযুক্ত মালদা জেলার মানিকচকের গোপালপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের আশিনটোলার বাসিন্দা আখতার হোসেনের ছেলে উমর ফারুক(৩১) । তার বাড়িতে রয়েছে স্ত্রী সেমি খাতুন, তিন কন্যা সন্তান,বাবা আখতার হোসেন ও মা রহিমা বিবি । দিল্লি পুলিশের দাবি, উমর ফারুক বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারীদের সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে জড়িত করার পাশাপাশি অস্ত্রের যোগান দেওয়ার কাজ করত । যদিও ধৃত সন্দেহভাজন লস্কর-ই-তৈয়বা গ্যাংয়ের সদস্য উমর ফারুকের মা ও স্ত্রীর দাবি যে তাকে ফাঁসানো হয়েছে । ধৃতের মা রহিমা বিবির কথায়, তার ছেলে সপ্তম শ্রেণী পর্যন্ত পড়াশোনা করেছে । বুঝতে না পেরে টাকার লোভে হয়ত সে পোস্টার লাগিয়েছে।
যদিও রবিবার রাতে দিল্লি পুলিশের একটি বিবৃতিতে পরিষ্কার বলা হয়েছে যে এই সন্ত্রাসী মডিউলের প্রধান চক্রী হল জম্মু ও কাশ্মীরের শ্রীনগর জেলার কাঙ্গান এলাকার বাসিন্দা মহম্মদ আকবর লোনের ছেলে শাবির আহমেদ লোন ওরফে রাজা ওরফে কাশ্মীরি । সে বর্তমানে বাংলাদেশে আত্মগোপন করে আছে । শাবির আহমেদ লোন বাংলাদেশি নাগরিকদের মাধ্যমে ভারতে সন্ত্রাসী হামলার ঘটনা ঘটানোর পরিকল্পনা করছিল ।
বিবৃতিতে বলা হয়েছে,প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে উমর ফারুক কবুল করেছে যে,সে ২০২৫ সালের মার্চ মাসে শাবির আহমেদ লোন ওরফে রাজা ওরফে কাশ্মীরির সংস্পর্শে আসে এবং তার দ্বারা তাকে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে উৎসাহিত করা হয়। শাবির ভারতে লস্কর- ই-তৈয়বার কার্যক্রম পরিচালনার জন্য উমরকে নিযুক্ত করে । শাবির আহমেদ লোনের পরিকল্পনা ছিল ভারতীয় পরিচয় ধারণকারী বাংলাদেশি নাগরিকদের ভারতে সন্ত্রাসী হামলা চালানোর জন্য ব্যবহার করা। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, উমরকে ভারতের গুরুত্বপূর্ণ স্থানগুলির অনুসন্ধান পরিচালনা করার নির্দেশ দেয় শাবির । সে উমরকে রেইকি করার পর ভিডিও পাঠানোর নির্দেশও দেয় । সফল অনুসন্ধানের পর, শাবির উমরকে আরও নির্দেশনার জন্য বাংলাদেশে তার সাথে দেখা করতে নির্দেশ দেয় এবং ভারতে অবৈধভাবে বসবাসকারী আরও বাংলাদেশি নাগরিকদের নিয়োগের দায়িত্ব দেয় । শাবির লোনের নির্দেশ অনুসারে, উমর কলকাতায় একটি গোপন আস্তানা ভাড়া নেয় এবং শাবির আহমেদকে এর বিবরণ সরবরাহ করেন। এই ভাড়া করা আস্তানাটি সন্ত্রাসী কার্যকলাপের জন্য আস্তানা এবং ঘাঁটি হিসেবে ব্যবহারের জন্য তৈরি ছিল। শাবির আহমেদ লোন উমরকে অস্ত্রের ব্যবস্থা করারও নির্দেশ দেয় । এই বিষয়টি বাস্তবায়নের জন্য, উমর স্থানীয় সূত্রের সাথে যোগাযোগ করছিল ।
যদিও ধৃত সন্দেহভাজন জৈশ-ই- মোহাম্মদ সন্ত্রাসী উমর ফারুকের পরিবারের দাবি,সে মাস আষ্টেক আগে কলকাতায় শ্রমিকের কাজ করতে গিয়েছিল । মাঝেমধ্যে বাড়ি আসত । সর্বশেষ মাস দুয়েক আগে কলকাতায় যায় উমর ফারুক । তার স্ত্রী সেমি খাতুনের কথায়,রবিবার তার স্বামীর সাথে ফোনে কথা হয়েছে । তখন সন্ত্রাসী যোগে তাকে গ্রেপ্তারের কথা জানায় তার স্বামী । তার আরও দাবী যে তার স্বামো খুব ভালো লোক । সে জঙ্গী কার্যকলাপে যুক্ত নয়। তাঁকে ফাঁসানো হয়েছে।
যদিও পরিবার এই দাবী করলেও, উমরের গ্রেপ্তারি নিয়ে ধন্দে রয়েছেন গ্রামবাসীরা । তাদের বক্তব্য, আপাতদৃষ্টিতে তারা উমরকে ভালো ছেলেই বলেই জানতেন । কারোর সাথে তার কোনো ঝামেলা ছিল না । তবে বাইরে কী করত সেই সম্পর্কে তারা কিছু বলতে পারবে না বলে জানান ।
দিল্লি পুলিশ জানিয়েছে,পাকিস্তানের মদতপুষ্ট লস্কর-ই-তৈয়বার সাথে যুক্ত এই বাংলাদেশী সন্ত্রাসী মডিউলটি রাজধানী দিল্লিসহ দেশের বিভিন্ন প্রান্তে নাশকতা ঘটানোর ষড়যন্ত্র করছিল । সন্ত্রাসী ষড়যন্ত্রের পরিকল্পনার জন্য ভারতে অবৈধভাবে বসবাসকারী বাংলাদেশী যুবকদের নিয়োগের জন্য আইএসআই দ্বারা সমর্থিত এবং অর্থায়ন করা হয়েছে। আর সমগ্র ষড়যন্ত্রের নীল নকশা তৈরি করা হচ্ছিল কলকাতার হাতিয়ারা গোটের মাঝেরপাড়া এলাকায় ধৃত উমর ফারুক এবং রবিউল ইসলামের ভাড়া ঘর থেকে । ওই দু’জনকে গ্রেপ্তারের পরেই তামিলনাড়ু মডিউলের আস্তানা চিহ্নিত করা হয়েছিল এবং একযোগে অভিযানের পর তিরুপুর থেকে ছয়জন লস্কর-ই-তৈয়বার ক্যাডারকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল।।

