গোপিকা গীতা (বা গোপী গীত) হলো শ্রীমদ্ভগবত পুরাণের দশম স্কন্ধের ৩১তম অধ্যায়ের ১৯টি শ্লোকের একটি পবিত্র সংগীত, যা রাসলীলার পর কৃষ্ণকে খুঁজে না পেয়ে ব্রজ গোপিকারা বিরহ ও ভক্তির আবেগে গেয়েছিলেন [১, ২, ৭]। এটি কৃষ্ণের প্রতি গোপীদের নিঃশর্ত প্রেম, আত্মসমর্পণ ও আধ্যাত্মিক সর্বোচ্চ উচ্চতা প্রদর্শন করে, যা ভক্ত ও ভগবানের প্রেমের চরম নিদর্শন ।
গোপ্য ঊচুঃ ।
জয়তি তেঽধিকং জন্মনা ব্রজঃ
শ্রয়ত ইন্দিরা শশ্বদত্র হি ।
দয়িত দৃশ্যতাং দিক্ষু তাবকা-
স্ত্বয়ি ধৃতাসবস্ত্বাং বিচিন্বতে ॥ 1॥
শরদুদাশয়ে সাধুজাতস-
ত্রসিজোদরশ্রীমুষা দৃশা ।
সুরতনাথ তেঽশুল্কদাসিকা
বরদ নিঘ্নতো নেহ কিং বধঃ ॥ 2॥
বিষজলাপ্যয়াদ্ব্যালরাক্ষসা-
দ্বর্ষমারুতাদ্বৈদ্যুতানলাত্ ।
বৃষময়াত্মজাদ্বিশ্বতোভয়া-
দৃষভ তে বয়ং রক্ষিতা মুহুঃ ॥ 3॥
ন খলু গোপিকানংদনো ভবা-
নখিলদেহিনামংতরাত্মদৃক্ ।
বিখনসার্থিতো বিশ্বগুপ্তয়ে
সখ উদেয়িবান্সাত্বতাং কুলে ॥ 4॥
বিরচিতাভয়ং বৃষ্ণিধুর্য় তে
চরণমীয়ুষাং সংসৃতের্ভয়াত্ ।
করসরোরুহং কান্ত কামদং
শিরসি ধেহি নঃ শ্রীকরগ্রহম্ ॥ 5॥
ব্রজজনার্তিহন্বীর যোষিতাং
নিজজনস্মযধ্বংসনস্মিত ।
ভজ সখে ভবত্কিঙ্করীঃ স্ম নো
জলরুহাননং চারু দর্শয় ॥ 6॥
প্রণতদেহিনাং পাপকর্শনং
তৃণচরানুগং শ্রীনিকেতনম্ ।
ফণিফণার্পিতং তে পদাম্বুজং
কৃণু কুচেষু নঃ কৃংধি হৃচ্ছয়ম্ ॥ 7॥
মধুরয়া গিরা বল্গুবাক্যয়া
বুধমনোজ্ঞয়া পুষ্করেক্ষণ ।
বিধিকরীরিমা বীর মুহ্যতী-
রধরসীধুনাঽঽপ্যাযযস্ব নঃ ॥ 8॥
তব কথামৃতং তপ্তজীবনং
কবিভিরীড়িতং কল্মষাপহম্ ।
শ্রবণমঙ্গলং শ্রীমদাততং
ভুবি গৃণংতি তে ভূরিদা জনাঃ ॥ 9॥
প্রহসিতং প্রিয় প্রেমবীক্ষণং
বিহরণং চ তে ধ্যানমংগলম্ ।
রহসি সংবিদো যা হৃদিস্পৃশঃ
কুহক নো মনঃ ক্ষোভয়ংতি হি ॥ 10॥
চলসি যদ্ব্রজাচ্চারয়ন্ পশূন্
নলিনসুংদরং নাথ তে পদম্ ।
শিলতৃণাংকুরৈঃ সীদতীতি নঃ
কলিলতাং মনঃ কান্ত গচ্ছতি ॥ 11॥
দিনপরিক্ষয়ে নীলকুংতলৈ-
র্বনরুহাননং বিভ্রদাবৃতম্ ।
ঘনরজস্বলং দর্শযন্মুহু-
র্মনসি নঃ স্মরং বীর যচ্ছসি ॥ 12॥
প্রণতকামদং পদ্মজার্চিতং
ধরণিমণ্ডনং ধ্যেয়মাপদি ।
চরণপংকজং শংতমং চ তে
রমণ নঃ স্তনেষ্বর্পয়াধিহন্ ॥ 13॥
সুরতবর্ধনং শোকনাশনং
স্বরিতবেণুনা সুষ্ঠু চুংবিতম্ ।
ইতররাগবিস্মারণং নৃণাং
বিতর বীর নস্তেঽধরামৃতম্ ॥ 14॥
অটতি যদ্ভবানহ্নি কাননং
ত্রুটির্য়ুগাযতে ত্বামপশ্যতাম্ ।
কুটিলকুংতলং শ্রীমুখং চ তে
জড় উদীক্ষতাং পক্ষ্মকৃদ্দৃশাম্ ॥ 15॥
পতিসুতান্বযভ্রাতৃবাংধবা-
নতিবিলংঘ্য় তেঽংত্যচ্যুতাগতাঃ ।
গতিবিদস্তবোদ্গীতমোহিতাঃ
কিতব যোষিতঃ কস্ত্যজেন্নিশি ॥ 16॥
রহসি সংবিদং হৃচ্ছয়োদয়ং
প্রহসিতাননং প্রেমবীক্ষণম্ ।
বৃহদুরঃ শ্রিয়ো বীক্ষ্য় ধাম তে
মুহুরতিস্পৃহা মুহ্যতে মনঃ ॥ 17॥
ব্রজবনৌকসাং ব্যক্তিরংগ তে
বৃজিনহংত্র্যলং বিশ্বমংগলম্ ।
ত্যজ মনাক্ চ নস্ত্বত্স্পৃহাত্মনাং
স্বজনহৃদ্রুজাং যন্নিষূদনম্ ॥ 18॥
যত্তে সুজাতচরণাংবুরুহং স্তনেষ
ভীতাঃ শনৈঃ প্রিয় দধীমহি কর্কশেষু ।
তেনাটবীমটসি তদ্ব্যথতে ন কিংস্বিত্
কূর্পাদিভির্ভ্রমতি ধীর্ভবদায়ুষাং নঃ ॥ 19॥
।। ইতি শ্রীমদ্ভাগবত মহাপুরাণে পারমহংস্যাং সংহিতায়াং দশমস্কংধে পূর্বার্ধে রাসক্রীড়ায়াং গোপীগীতং নামৈকত্রিংশোঽধ্য়ায়ঃ ॥
গোপিকা গীতার মূল বিষয়বস্তু:
প্রেমে বিরহ: কৃষ্ণ রাসলীলা ছেড়ে চলে গেলে গোপিকারা তাঁর বিরহে কাতর হয়ে এই গান গেয়েছিলেন ।
কৃষ্ণের মহিমা: গোপীরা কৃষ্ণকে ব্রজের রক্ষাকর্তা হিসেবে স্মরণ করেন এবং বিষাক্ত জল (কালীয় দমন), অঘাসুর, ঝড়, বৃষ্টি ও অন্যান্য বিপদ থেকে তাঁর রক্ষার কথা তুলে ধরেন ।
আধ্যাত্মিক দর্শন: তারা কৃষ্ণকে শুধুমাত্র যশোদার পুত্র নয়, বরং সব জীবের অন্তরাত্মা বা পরমাত্মা হিসেবে স্বীকার করেন ।
আত্মসমর্পণ: গোপীরা নিজেদের কৃষ্ণের “অশুল্ক দাসী” বা নিঃস্বার্থ প্রেমিকা হিসেবে বর্ণনা করে তাঁর কাছে ফিরে আসার আকুল আবেদন জানান ।
ভক্তি ও প্রেম: এই গীতটি প্রেম-ভক্তি বা প্রেমের পরম ভক্তির শ্রেষ্ঠ উদাহরণ হিসেবে বৈষ্ণব ঐতিহ্যে গণ্য হয়।
গোপী গীত বা গোপীকা গীতা সম্পূর্ণ সংস্কৃত ভাষায় রচিত এবং ভক্তি ও বিরহ রসের সংমিশ্রণে এটি অনন্য।।

