এইদিন ওয়েবডেস্ক,পূর্ব মেদিনীপুর,১৯ ফেব্রুয়ারী: আজ বৃহস্পতিবার আনুষ্ঠানিকভাবে তৃণমূলে যোগদান করলেন কার্শিয়াংয়ের বিজেপি বিধায়ক বিষ্ণুপ্রসাদ শর্মা ৷ তৃণমূল ভবনে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে রাজ্যের দুই মন্ত্রী ব্রাত্য বসু এবং শশী পাঁজার উপস্থিতিতে তৃণমূলে যোগ দেন তিনি। কিন্তু তার এই যোগদানকে বিশেষ আমল দিতে চাননি বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী ৷ উলটে তিনি তৃণমূল সুপ্রিমো ও মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জিকে কটাক্ষ করে বলেছেন,’যত কুড়াতে পারেন কুড়িয়ে যান । উত্তরবঙ্গের ৫৪ আসনের মধ্যে শুন্য পাবে ৷’ তিনি আরও দাবি করেন যে এবারে টিকিট পাবে না এমন অন্তত ৫০ জন বিধায়ক বিজেপিতে যোগদান করতে চাইছে,কিন্তু নেওয়া হবে না ।
আজ নিজের নির্বাচনী কেন্দ্র নন্দীগ্রামে একটি ধর্মীয় অনুষ্ঠানে শুভেন্দু অধিকারী যোগ দিতে গেলে কার্শিয়াংয়ের বিজেপি বিধায়কের তৃণমূলে যোগদান নিয়ে সাংবাদিকরা তার প্রতিক্রিয়া জানতে চান । তখন তিনি বলেন,’ওই লোকটা রাজু বিস্তার বিরুদ্ধে ২০২৪ সালের নির্দল প্রার্থী হয়েছিল ।কুড়ি লক্ষ ভোটারের মধ্যে মাত্র ৫০০০ ভোট পেয়েছে । ওকে কার্সিয়াংয়ে টিকিট দেওয়া হবে না । আপনি নেবেন নাকি ? তৃণমূলের পঞ্চাশ জন এমএলএ টিকিট পাবে না, তারা আমাদের দলে আসতে চায় । কিন্তু আমরা নেব না । আমরা দেখে শুনে নিচ্ছি ।’
তিনি বলেন,’আমরা দীপাঞ্জন চক্রবর্তী মত এক্স এনএসসি-কে নিচ্ছি । আর তৃণমূল কংগ্রেস যত কুড়াচ্ছে । ওই লোকটা ২০২৪ সালে বিজেপির এমএলএ হয়ে বিজেপির প্রার্থীদের বিরুদ্ধে লড়েছে।কুড়ি লক্ষ ভোটারের মধ্যে মাত্র ৫০০০ ভোট পেয়েছে । আপনি কুড়ান না ঝাঁকিয়ে ঝাঁকিয়ে কোনো অসুবিধা নেই । তবে উত্তরবঙ্গে তৃণমূলের বইনি হবে না । ৫৪ আসনের মধ্যে ৪৫ এর উপরে বিজেপি পাবে, আমার নাম করে লিখে রাখুন । তারপরেও ৫-৭ যা পাবে অন্যরা পাবে, তৃণমূল ওখানে জিরো পাবে।’ তিনি ফের জোর দিয়ে বলেন,’তৃণমূল ৫৪ তে ০ হবে । মালদা থেকে আলিপুরদুয়ার,কোচবিহার শূন্য হবে, আমি আজকে বলে গেলাম৷’
প্রসঙ্গত,২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে পাহাড়ের তিনটি আসনেই ধরাশায়ী হয়েছিল ঘাসফুল শিবির । তার মধ্যে কার্শিয়াংয়ে বিজেপির টিকিটে জেতেন বিষ্ণুপ্রসাদ শর্মা । কিন্তু তারপর থেকেই পৃথক উত্তরবঙ্গ বা কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলের দাবিতে তিনি সরব হলে মতপার্থক্যের কারণে দলের সঙ্গে দুরত্ব তৈরি হয় । বিজেপির দাবি, বিষ্ণুপ্রসাদ শর্মা দীর্ঘদিন ধরেই দলের সঙ্গে কোনও যোগাযোগ রাখেন না। এমনকি পাহাড় সমতলে দলীয় কোনও কর্মসূচির সঙ্গে তাঁর কোনও যোগ নেই। এমনকি গোর্খা জনজাতির মধ্যেও তার প্রভাব সীমিত। ফলে তিনি দলে থাকলেন কি থাকলেন না তা নিয়ে কোনও মাথাব্যথা নেই তাদের। বিরোধী দলনেতাও বিষ্ণুপ্রসাদ শর্মাকে ধর্তব্যের মধ্যে ধরছেন না ৷।

