মার্কিন হামলার আশঙ্কায় বর্তমানে কোনো গোপন বাঙ্কারে লুকিয়ে আছেন ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খোমিনি । ইসরায়েল তাকে খতম করার জন্য এক পায়ে দাঁড়িয়ে আছে । কিন্তু ইসরায়েল যদি সত্যি সত্যিই ইরানের সর্বোচ্চ নেতা খামেনেইকে হত্যা করে, তাহলে কী হবে ? গোটা বিশ্বের কাছে এখন এই প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছে ।
ইসরায়েল যদি সত্যিই এমন একটি হত্যাকাণ্ড ঘটায়, তবে তা হবে বিগত কয়েক দশকের মধ্যে মধ্যপ্রাচ্যের সবচেয়ে বিপজ্জনক ঘটনা, যার সুদূরপ্রসারী পরিণতি থাকবে বলে মনে করছেন অভিজ্ঞমহল।
প্রথমতঃ, ইরানের প্রতিক্রিয়া:
সর্বোচ্চ নেতা হলেন ইরানের রাজনৈতিক ও ধর্মীয় উভয় ব্যবস্থার প্রধান। তাঁকে হত্যা করা হলে এটিকে প্রকাশ্য যুদ্ধ ঘোষণার শামিল বলে গণ্য করা হবে । আর ইসরায়েল যদি এতে সফল হয় তাহলে ইসরায়েলের ওপর মারাত্মক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালাবে ইরান। অন্যদিকে লেবানন থেকে হিজবুল্লাহর মাধ্যমে হামলা হবে । উপসাগরীয় অঞ্চল ও ইরাকে মার্কিন ঘাঁটি লক্ষ্য করে হামলা চলবে । পাশাপাশি বড় ধরনের সাইবার হামলাও হবে। যেকারণে মধ্যপ্রাচ্যের এই অঞ্চলটি অবিলম্বে একটি পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধে জড়িয়ে পড়তে পারে।
দ্বিতীয়তঃ, ইরানের অভ্যন্তরে কি হবে ?
ইরান সরকার এই ঘটনাটিকে ‘শাহাদাত’ বা শহীদ হিসেবে আখ্যা দেবে । বিশেষজ্ঞদের পরিষদ দ্রুত একজন নতুন সর্বোচ্চ নেতা নিয়োগ করবে। ইরানের জনগণ সাময়িকভাবে সরকারের পাশে এসে দাঁড়াবে । তবে বর্তমানে খোমেনির বিরুদ্ধে যে পরিমান ঘৃণা কাজ করছে তাতে সাধারণ ইরানিরা সরকারের পাশে দাঁড়াবে তাতে সন্দেহ আছে । অভ্যন্তরীণ বিক্ষোভ বন্ধ হয়ে যাবে নাকি ধর্মীয় শাসনের বিলোপ ঘটাতে আরও প্রবল হবে সেটা বলা মুশকিল ।
তৃতীয়তঃ,ইসরায়েলকে নজিরবিহীন প্রতিশোধের সম্মুখীন হতে হবে। আয়রন ডোম ব্যবস্থাগুলো প্রচণ্ড চাপের মুখে পড়বে। অর্থনীতি সাময়িকভাবে স্থবির হয়ে যেতে পারে। প্রধান শহরগুলো থেকে সাময়িক স্থানান্তরের সম্ভাবনা।
চতুর্থতঃ,মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র নীরব থাকতে পারবে না।।ইসরায়েল এবং মার্কিন ঘাঁটিগুলোকে রক্ষা করার জন্য সরাসরি সামরিক হস্তক্ষেপ করবেন ডোনাল্ড ট্রাম্প ৷
ইরানের সাথে সরাসরি সংঘাতে নামবে আমেরিকা৷
পঞ্চমতঃ, উপসাগর ও লোহিত সাগরে অস্থিরতা :
হরমুজ প্রণালী বন্ধ করে দেওয়া হতে পারে। তেলের দাম আকাশচুম্বী হতে পারে। বৈশ্বিক নৌপরিবহন ও বাণিজ্যে ব্যাঘাত ঘটবে।
ষষ্ঠতঃ,রাশিয়া ও চীনের ভূমিকা :
ইরানের প্রতি রাজনৈতিক ও সামরিক সমর্থনের সম্ভাবনা।ব্যাপক আন্তর্জাতিক সংঘাতে রূপ নেওয়ার ঝুঁকি।
উপসংহার:
ইরানের সর্বোচ্চ নেতাকে হত্যা করা মানেই হলো সম্ভাব্য বৈশ্বিক পরিণতিসহ একটি পূর্ণাঙ্গ আঞ্চলিক যুদ্ধ।ঠিক এই কারণেই, হুমকিগুলো অবিরাম থাকলেও, এমন একটি হামলা চালানো হলে এটি একটি বিশাল অস্তিত্বের ঝুঁকি হয়ে যাবে ।।

