এইদিন ওয়েবডেস্ক,কলকাতা,১৬ ফেব্রুয়ারী : ক্ষমতার অপব্যবহার করে এসআইআর প্রক্রিয়াকে প্রভাবিত করার অভিযোগে ময়নাগুড়ি, সুতি, ক্যানিং, ফরাক্কা, সামশেরগঞ্জ, ডেবরা মিলে ৭ জন এইআরওকে সাসপেন্ড করেছে জাতীয় নির্বাচন কমিশন। এসআইআর কাজ থেকে সাসপেন্ডের পর ডিসিপ্লিনারি অ্যাকশন নিতে মুখ্যসচিব নন্দিনী চক্রবর্তীকে কমিশন চিঠিও পাঠিয়েছে । সাত আধিকারিককে সাসপেনশনকে স্বাগত জানিয়ে বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী বলেছেন, ‘মুখ্যসচিব নন্দিনী চক্রবর্তীকে দিয়ে পুরো র্যাকেটটা চালাচ্ছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি ।’ তিনি এও বলেন,’এসআইআর প্রক্রিয়ায় বিরাট সংখ্যক বাংলাদেশি মুসলিম ও রোহিঙ্গার নাম ভোটার তালিকা থেকে বাদ যাওয়া উচিত ।’
আজ সোমবার সকালে কলকাতা বিমানবন্দরে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে তিনি বলেন,’যে সাতজন এইআরও সাসপেন্ড হয়েছেন, নির্বাচন কমিশন তাদের খুব বৈধভাবেই করেছে । তারা ভুয়ো স্কুল সংশাপত্র নিয়েছে, প্যান কার্ড নিয়েছে, এরা নোটারির এভিডেভিড গ্রহণ করেছে । ইলেকশন কমিশনারের যে ১৩ টি গাইডলাইন আছে এরা সম্পূর্ণভাবে তা লঙ্ঘন করেছে । তৃণমূলের কথায় । ডিএম বা ডিও-দের চাপে । মুখ্য সচিব নন্দিনী চক্রবর্তী ইশারায় । আর নন্দিনী চক্রবর্তীকে দিয়ে পুরো র্যাকেটটা চালাচ্ছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি ।’
শুভেন্দু অধিকারী বলেন,’ইলেকশন সংক্রান্ত কোনো ফাইল মুখ্যমন্ত্রীর কাছে যায় না। মনোজ পন্থ থেকে শুরু করে নন্দিনী চক্রবর্তী পর্যন্ত ইলেকশন সংক্রান্ত ফাইলগুলি মুখ্যমন্ত্রীর কাছে পাঠান এবং মুখ্যমন্ত্রীর সরাসরি হস্তক্ষেপ করেন । যেটা ভারতবর্ষের কোন রাজ্যে হয় না । জাতীয় নির্বাচনের সময় প্রধানমন্ত্রীও করেন না। সেটাই এই রাজ্য করা হয়। তাই ইলেকশন কমিশন এই প্রথম টাইট দেওয়ার ব্যবস্থা করেছে ।’
তিনি অভিযোগ করেন,’এসআইআর প্রক্রিয়াতে মুখ্যমন্ত্রী যা করছেন তা কেবল বাংলাদেশি এবং রোহিঙ্গা মুসলিমদের বাঁচানোর জন্য । একটা বিরাট সংখ্যায় বাদ যাওয়া উচিত ।’ কিন্তু এর পরেও অনুপ্রবেশকারীদের নাম ভোটার তালিকায় থাকলে বিজেপি কি পদক্ষেপ নেবে ? এর উত্তরে শুভেন্দু অধিকারী বলেছেন,’যদি বাদ না যায় তার ব্যবস্থা তো আছে । ডিও-এর কাছে আবেদন হবে । না শুনলে সিও-এর কাছে হবে৷ সিও আবেদন না শুনলে আদালত তো খোলা আছে । মমতা ব্যানার্জি একা আদালতে যেতে পারেন অন্য কেউ যেতে পারে না ?’

