প্রদীপ চট্টোপাধ্যায়,বর্ধমান,১৯ মার্চ : তৃণমূলের প্রার্থী তালিকা থেকে নাম বাদ পড়তেই তুলে নেওয়া হয়েছে নিরাপত্তারক্ষী। তা নিয়ে চরম ক্ষুব্ধ পূর্বস্থলী উত্তর বিধানসভার তৃণমূল বিধায়ক তপন চট্টোপাধ্যায়। কোন রাখঢাক না রেখে তিনি জানিয়ে দেন আই- প্যাকের( I-Pack) দাবি মতো ২০ লক্ষ টাকা তিনি দিতে পারেননি বলেই তাঁকে এবার প্রার্থী করা হয়নি।পাশাপাশি পূর্বস্থলী উত্তরের তৃণমূল প্রার্থী বসুন্ধরা গোস্বামীকে নিশানা করে তিনি বলেন,’তৃণমূল কংগ্রেস দলে এখন পুরানো তৃণমূল কর্মীদের কোন দাম নেই,মর্যাদাও নেই। সিপিএম ও বিজেপি থেকে যাঁরা এসেছেন তাঁরাই তৃণমূলে এখন বেশী দামি।আই প্যাকের দাবি মতো ২০ লক্ষ টাকা দিতে তাঁর কাছে টাকা আছে ।’
তৃণমূল কংগ্রেস দল ২০২৬ সালের বিধানসভা ভোটের প্রার্থী তালিকা গত মঙ্গলবার প্রকাশ করেছে।সেই তালিকায় দু’বারের বিধায়ক তপন চ্যাটার্জি ঠাঁই হয়নি।পরিবর্তে পূর্বস্থলী উত্তর বিধানসভা আসনে তৃণমূল কংগ্রেস দল এবার বসুন্ধরা গোস্বামীকে প্রার্থী করেছে। এরপর বুধবার’ই বিধায়ক তপন চ্যাটার্জির সঙ্গে থাকা নিরাপত্তারক্ষী তুলে নেওয়া হয়।কি কারণে নিরাপত্তারক্ষী তুলে নেওয়া হল সেই ব্যাপারে তপন বাবু কিছু জানাতে পারেননি। তবে এই বিষয়টি নিয়ে তিনি তাঁর ক্ষোভ চেপে রাখেননি।
নিজের বিধায়ক কার্যালয়ে বসে তপন চট্টোপাধ্যায় এদিন বলেন,’আমার নিরাপত্তারক্ষী বুধবার থেকে তুলে নেওয়া হল। তাই এখন থেকেই আমি নিজেকে ‘প্রাক্তন বিধায়ক’ বলেই চিহ্নিত করতে চাই।’ দু’বারের এই তৃণমূল বিধায়ক আরো বলেন,’এবার থেকে বিধায়ক কার্যালয়কে ‘প্রাক্তন বিধায়ক কার্যালয়’ লিখব।’ একই সঙ্গে তিনি এও বলেন, ‘পুরোনো তৃণমূল কর্মীদের এখন আর দলে ঠাঁই হচ্ছে না,কোন মর্যাদাও দেওয়া হচ্ছে না।১৯৯৮ সালে যাঁরা এসেছে তারা দলের মর্যাদা পাবেনা। যারা পরে সিপিএম, বিজেপি থেকে এসেছে তারাই এখন বেশী দামি।’
টিকিট না পাওয়া পূর্বস্থলী উত্তরের বিধায়কের বক্তব্য শুনুন 👇
পূর্বস্থলী উত্তর বিধানসভায় এবার তৃণমূলের প্রার্থী হওয়া বসুন্ধরা গোস্বামীর উদ্দেশ্যে কটাক্ষ ছুঁড়ে দিতেও তপন চট্টোপাধ্যায় এদিন কুণ্ঠাবোধ করেননি।তিনি বলেন,’একবার বিজেপি,একবার সিপিএম একবার তৃণমূল।’ বসুন্ধরা গোস্বামী বাম আমলে রাজ্য মন্ত্রিসভার গুরুত্বপূর্ণ সদস্য তথা আরএসপি নেতা ক্ষিতি গোস্বামীর মেয়ে বলেই তাঁকে এমন কটাক্ষে বেঁধা হয়েছে সেটা আর বলার অপেক্ষা রাখে না। ক্ষুব্ধ তপনবাবুর সাফ কথা,’যে প্রার্থী হয়েছে, সে আসবে ভোট করবে। কর্মীরা আছে ভোট করবে। আমার শরীর খারাপ। বয়স হয়েছে। আমার ৭০ বছর বয়স। যাঁকে প্রার্থী করা হয়েছে তিনি আমার চাইতে যোগ্য প্রার্থী। বেশি ভোটে জিতবে আশা করি।’ তপনবাবুর কথা অনুযায়ী যা হয়েছে ভালই হয়েছে। রাজনীতি করার কারণে এতদিন তাঁর স্ত্রী ও পরিবারকে সময় দিতে পারেননি। এখন থেকে মেয়ে ও নাতনিকেই সময় দেবেন বলে তিনি জানিয়ে দেন।।
