এইদিন স্পোর্টস নিউজ,২৯ জানুয়ারী : টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে নিরাপত্তার অজুহাত দেখিয়ে ভারতে খেলতে রাজি হয়নি বাংলাদেশ । ফলে ভেন্যু নির্ধারিত হয়ে যাওয়ায় আইসিসি বাধ্য হয়ে বাংলাদেশকে বিশ্বকাপ থেকে সরিয়ে দিয়েছে । পরিবর্তে স্কটল্যান্ডকে টি-২০ বিশ্বকাপে খেলার সুযোগ পেয়ে গেছে । এদিকে বাংলাদেশ বিশ্বকাপ থেকে ছিটকে যাওয়ায় পাকিস্তান প্রথমে ভারতের বিরুদ্ধে খেলতে অস্বীকার করে । পরে বিশ্বকাপ থেকেই সরে দাঁড়াবে বলে সেদেশের মিডিয়া প্রচার শুরু করে দেওয়া হয় । এমতাবস্থায় টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ চালিয়ে যেতে পাকিস্তানের পরিবর্তে আইসিসিকে নতুন কোনো দলকে খুঁজতে হত । যদিও পাকিস্তানের বিকল্প কোনো দলের নাম তেমনভাবে সামনে আসেনি । এই জটিলতার মধ্যেই আইসল্যান্ডিক ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশন রীতিমতো একটা বিবৃতি জারি করে জানিয়েছে যে সুযোগ দেওয়া হলেও তারা বিশ্বকাপ খেলতে আসতে পারবে না । কারন তারা স্কটল্যান্ডের মতো নয় যে কোনো কিট স্পনসর ছাড়াই খেয়ালের বশে হাজির হয়ে যাবে ।
আইসল্যান্ডিক ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশনের অফিসিয়াল এক্স হ্যান্ডেলে আজ ১৩:৩০ নাগাদ এই বিষয়ে একটা পোস্ট করা হয়েছে । তাতে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিলকে সম্বোধন করে লেখা হয়েছে,প্রিয় আইসিসি,ভারাক্রান্ত হৃদয়ে আমরা জানাচ্ছি যে, আসন্ন টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে পাকিস্তানের পরিবর্তে খেলার জন্য আমরা উপলব্ধ নই। তারা এখন সরে দাঁড়ালেও, স্বল্প সময়ের কারণে এই বৈশ্বিক ক্রিকেট আসরে কার্যকরভাবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার জন্য প্রয়োজনীয় পেশাদার পদ্ধতিতে আমাদের দলের পক্ষে প্রস্তুতি নেওয়া অসম্ভব। আমরা স্কটল্যান্ডের মতো নই যে, কোনো কিট স্পনসর ছাড়াই খেয়ালের বশে হাজির হয়ে যাব।
আমাদের খেলোয়াড়রা জীবনের বিভিন্ন স্তরের মানুষ এবং তারা নিজেদের পেশা ছেড়ে দিয়ে পৃথিবীর অর্ধেক পথ পাড়ি দিয়ে এমন তাপমাত্রার সম্মুখীন হতে পারে না, যা সাধারণত কেবল ফিনিশ সনাতেই অনুভব করা যায়। আমাদের অধিনায়ক, যিনি একজন পেশাদার ব্যাঙ্কার, তাকে তার প্রস্তুতি নিতে হবে; আমাদের জাহাজের ক্যাপ্টেনকে তার জাহাজ চালাতে হবে; এবং আমাদের ব্যাংকারদের দেউলিয়া হতে হবে (আবার)। এটাই হলো ক্রিকেটের অপেশাদার স্তরের নির্মম বাস্তবতা।
এই খবরটি আমাদের ভক্তদের জন্য অত্যন্ত হতাশাজনক হবে। পৃথিবীর সবচেয়ে শান্তিপূর্ণ দেশ হওয়া সত্ত্বেও, আমাদের একটি বিশাল অনলাইন অনুসারী বাহিনী রয়েছে এবং আমরা এক্স-এ বিশ্বের ১৪তম সর্বাধিক অনুসরণ করা জাতীয় বোর্ড। আমরা ডাচদের এমন একটি বড় ধাক্কা দিতে প্রস্তুত ছিলাম, যা তারা ১৬৯৩ সালে ল্যান্ডেনের যুদ্ধে উইলিয়াম অফ অরেঞ্জের পরাজয়ের পর থেকে আর অনুভব করেনি। আর আমেরিকানরা গ্রিনল্যান্ডের মুখোমুখি হওয়ার জন্য উন্মুখ ছিল, অন্তত তাদের কমলা-রঙের নেতা তেমনই ভেবেছিলেন।
আমাদের এই ক্ষতি সম্ভবত উগান্ডার জন্য লাভজনক হবে। আমরা তাদের শুভকামনা জানাই। তাদের কিটগুলো চোখে না পড়ার মতো নয়, যদি না আপনার মৃগীরোগ থাকে, সেক্ষেত্রে সেগুলো এড়িয়ে চলাই সম্ভবত শ্রেয়। ভবিষ্যৎ সবসময়ই বরফের মতো, যতক্ষণ না তা আর বরফ থাকে।শুভেচ্ছান্তে, আইসল্যান্ডিক ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশন ।’ পরে উগান্ডাকে উদ্দেশ্য করে লেখা হয়েছে,”ক্রিকেট উগান্ডা, আমরা আপনাদের সকলের জন্য শুভকামনা জানাই!”

