এইদিন ওয়েবডেস্ক,রানাঘাট(নদীয়া),০৫ এপ্রিল : “পুলিশকে সামনে রেখে হিন্দুদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করা হয়েছে” বলে অভিযোগ তুললেন রাজ্য বিধানসভার বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী । আজ শনিবার নদীয়া জেলার রানাঘাট রাম নবমী উদযাপন সমিতি আয়োজিত “শ্রীরাম নবমী উৎসব-২০২৫”-এর শুভ সূচনা করতে গিয়েছিলেন তিনি । রানাঘাটের ফ্রেন্ডস ক্লাব ময়দানে ভাষণ দেওয়ার আগে তিনি সাংবাদিকদের মুখোমুখি হন । শুভেন্দু অধিকারী বলেন,’রামনবমী ভন্ডুল করার জন্য কি কি করছে জানেন ? ডালখোলাতে বিজেপির ৫০ জন যুব নেতাকে আজকে ম্যাজিস্ট্রেটের নোটিশ দেওয়া হয়েছে যে ১ লক্ষ টাকার বন্ড লিখতে হবে । ডালখোলাতে ২০২৩ সালে রামনবমীতে হিন্দুদের ওপর জিহাদীরা হামলা করেছিল। আমার করা এনআইএ মামলায় ১৭ জন জিহাদি গ্রেফতার হয়েছে । অথচ সেখানকার হিন্দু যুবকদেরকে এক লক্ষ টাকার বন্ড দিতে হচ্ছে। খড়গপুর থেকে খবর এলো হিন্দু জাগরণ মঞ্চের তিনজন যুবককে বলা হয়েছে কাল সকাল ছটা থেকে সন্ধ্যা ছটা খড়কপুর টাউন থানাতে আটক করা হবে, সেজন্য তাদের মোবাইল ফোন জমা দিয়ে বসে থাকতে হবে । এ তো হিন্দুদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করেছে । হিন্দুদের বিরুদ্ধে পুলিশকে সামনে রেখে যুদ্ধ ঘোষণা করা হয়েছে ।’
শুভেন্দু অধিকারী সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে উত্তর দিনাজপুর জেলার ইসলামপুরের সাব ডিভিশনাল ম্যাজিস্ট্রেটের একটা নির্দেশনামার কপি শেয়ার করছেন । যার কেস নম্বর : ৭১ এম আর(ডিএককে)/২৫ । ডালখোলা থানায় দায়ের করা এফআইআরটি দায়ের করা হয়েছে উত্তর ডালখোলার কুটুলের বাসিন্দা মনতোষ রায় ওরফে রাজার বিরুদ্ধে । শুভেন্দু অধিকারী লিখেছেন,’যে অর্ডার কপিটি এখানে সংযুক্ত করা হয়েছে, তা সম্পূর্ণ ভাবে উত্তর দিনাজপুর জেলার ডালখোলা পুলিশের অসত্য রিপোর্টের উপর ভিত্তি করে দেওয়া হয়েছে। যে ব্যক্তির বিরুদ্ধে এই অর্ডার, তিনি ওনার সংশ্লিষ্ট এলাকার শ্রী রাম নবমী উৎসবের দক্ষ সংগঠক হিসেবে পরিচিত। পুলিশ তাদের রিপোর্টে ওনাকে একজন কুখ্যাত ব্যক্তি হিসেবে উল্লেখ করেছে যিনি নাকি এলাকায় শান্তি শৃঙ্খলা ভঙ্গ করার কাজে যুক্ত থাকেন। ইসলামপুরের সাব-ডিভিশনাল ম্যাজিস্ট্রেট সাহেব পুলিশ রিপোর্ট পর্যালোচনা করে উক্ত ব্যক্তিকে আদালতে হাজির হয়ে কারণ দর্শাতে নির্দেশ দিয়েছেন যে কেন তাকে ১,০০,০০০ টাকার (এক লক্ষ) বন্ড সহ এক সম মূল্যের জামানত সম্পাদন করতে হবে না।’
তিনি আরও লিখেছেন,’এই একই ধরণের অর্ডার পুলিশ প্রায় চল্লিশ জনের বিরুদ্ধে করিয়েছে, ভুয়ো রিপোর্টে দাবি করে যে উক্ত ব্যক্তিদের আচরণের কারণে নাকি আগামী উৎসবের দিনগুলো তে, বিশেষত রাম নবমী উদযাপনের সময় আইন-শৃঙ্খলার সমস্যা এবং এলাকার শান্তিভঙ্গ হতে পারে।
পুলিশ ইচ্ছাকৃতভাবে ত্রুটিপূর্ণ এবং অযৌক্তিক রিপোর্ট জমা দিয়েছে, যার মূল উদ্দেশ্য হচ্ছে ভুল বুঝিয়ে এই ধরণের অর্ডার জারি করানো যায়, যাতে রাম নবমী উৎসবের সঙ্গে যুক্ত সংগঠকদের হয়রানি হয় এবং অসুবিধার সম্মুখীন হতে হয়। গত বছর জাতীয় তদন্তকারী সংস্থা (এনআইএ) ১৬ জন ব্যক্তিকে (শান্তির ছেলেদের) গ্রেফতার করেছিল, যারা ২০২৩ সালের ৩০ মার্চ, রাম নবমী উৎসবের সময় এই ডালখোলা এলাকাতেই সংঘাতে জড়িয়ে পড়েছিল।
এনআইএ-এর মতে, তারা একটি “সাম্প্রদায়িক আক্রমণ”-এর চক্রান্ত করেছিল এবং পরিকল্পনা অনুযায়ী হামলা চালিয়েছিল। আসামিদের চিহ্নিত করা হয়েছিল হিংসার ভিডিও ফুটেজ দেখে। তারা এখনো হেফাজতে আছে।’ তার অভিযোগ,’মমতা পুলিশ ইচ্ছাকৃতভাবে রাম নবমী উৎসবকে ব্যাহত করার চক্রান্ত করছে এবং উৎসবের আয়োজনের সঙ্গে জড়িত হিন্দু সংগঠকদের বেছে বেছে হয়রান করছে কিন্তু আসল দুর্বৃত্তদের খোলা ছেড়ে রেখেছে, যারা আগামীকাল আইন-শৃঙ্খলার সমস্যা সৃষ্টি করতে পারে।’
রানাঘাটে সাংবাদিকদের শুভেন্দু অধিকারী বলেন,
‘আর যে মাটিতে আমরা দাঁড়িয়ে আছি সেখানে ১১২ ফুট উঁচু দুর্গা মূর্তি তৈরি হওয়ার পরেও পুজো করতে দেয় নাই মমতা ব্যানার্জির সরকার । অথচ উত্তর ২৪ পরগনা ১১০ ফুট উঁচু মূর্তি পূজার অনুমতি পেয়েছিল তৃণমূল কংগ্রেসের একজন কাউন্সিলর । এদের মানসিকতাটা কি তাতেই পরিষ্কার । রানাঘাটের পাশের গ্রামে মূর্তি তৈরি করেও পূজা করতে পারেনি । তাদের চোখের জল ফেলতে হয়েছে । তাই এই সরকার সম্পূর্ণভাবে হিন্দু বিরোধী সরকার । যার মুখ্যমন্ত্রী ২০২৪ সালের ২২শে জানুয়ারি রাম মন্দির উদ্বোধনের দিন মিছিল করেন কলকাতার পার্ক সার্কাসে । এই কাজে তিনি দেশের মধ্যে এক নম্বর মুখ্যমন্ত্রী ।’
তিনি বলেন,’যে মুখ্যমন্ত্রী মহাকুম্ভকে মৃত্যুকুম্ভ বলেন, যেখানে ৬৬ কোটি হিন্দু স্নান করেছে,এই মুখ্যমন্ত্রীই কয়েকদিন আগে ঈদের নামাজে অংশগ্রহণ করে হিন্দু ধর্মকে গন্দা ধর্ম বলেছেন । এগুলোর পরে এই সরকার যে হিন্দু বিরোধী তার প্রমাণ লাগবে বলে আমার মনে হয় না ৷’ তিনি বলেন,’জাগো হিন্দু ঐক্যবদ্ধ হও । হিন্দু যদি বাঁচতে চাও বিভেদ ভুলে এক । সরস্বতী পূজার শক্তি দেখিয়েছো কালকেও শক্তি দেখাও ।’
আগামী কাল রামনবমী প্রসঙ্গে তিনি আহ্বান জানান, ‘বাড়িতে থাকবেন না । রাস্তায় নামুন । মোটর বাইকে ধ্বজ লাগান । দেখা হলেই জয় শ্রীরাম বলুন । কপালে তিলক লাগান । যেখানেই রাম পুজো হবে, যেখানেই শোভাযাত্রা হবে, মায়েরা শাঁখ নিয়ে, ছেলেরা জয় শ্রীরামের ধ্বজ নিয়ে অংশগ্রহণ করে কাল বাংলার হিন্দুরা, প্রভু শ্রী চৈতন্যদেবের মাটিতে আমি বলে যাই, যিনি নবদ্বীপের মাটিতে রামরাম রক্ষমাম স্লোগানের মধ্যে তিনি রাম নামে জয়গান করেছিলেন, সেই মাটি থেকে রাম নবমীর শুভেচ্ছা এবং সফলতা কামনা করি । ‘।