প্রদীপ চট্টোপাধ্যায়,বর্ধমান,২৬ মার্চ : ওদের কেউ উচ্চমাধ্যমিক কেউ প্রাথমিক স্কুলের শিক্ষক । ভোটার তালিকায় বিশেষ নিবিড় সংশোধন বা এসআইআর- এর কাজের দায়িত্ব পড়েছিল । ভোটারদের গননা ফর্ম দেওয়া ও সংগ্রহের পাশাপাশি নিজের ও পরিবারের গননা ফর্ম পূরণ করে নির্বাচন কমিশনের কাছে জমা দিয়েছিলেন । কিন্তু সোমবার রাতে প্রকাশিত সাপ্লিমেন্টারি তালিকা প্রকাশ হতেই দেখেন তারা নিজেরাই ‘বিবেচনাধীন’, কেউ ‘ডিলিট হয়ে গেছেন । তারপরেও তাদের উপর ভোটের কাজের দায়িত্ব বর্তেছে ৷ শুক্রবার ও শনিবার প্রশিক্ষণের জন্য তাদের ডেকে পাঠানো হয়েছে । এক বা দু’জন নন, পূর্ব বর্ধমান জেলায় এমনই একাধিক অদ্ভুত কাণ্ড ঘটেছে । বিষয়টি নিয়ে তোলপাড় চলছে জেলা জুড়ে । ভোটাধিকার হারানো ব্যক্তিদের কি আদপেই ভোটের কাজে নিযুক্ত করা যায় ? এই প্রশ্ন উঠছে । তবে জেলা প্রশাসনের তরফে এখনো এই বিষয়ে অফিসিয়ালি কোনো স্পষ্টিকরন পাওয়া যায়নি ।
জানা গেছে,এমনই পরিস্থিতির মুখোমুখি হয়েছেন বর্ধমান-২ নম্বর ব্লকের চাকুন্দি শ্রীরামকৃষ্ণ বিদ্যামন্দিরের শিক্ষক শেখ ফিরোজ হোসেন,তালিত গৌড়েশ্বর হাই স্কুলের শিক্ষক শেখ রবিয়েল হোসেন এবং বর্ধমানের পীরবাহারাম এলাকার বাসিন্দা ও সরকারী হুরিয়া পাবলিক স্কুলের শিক্ষক আয়ূব আলিরা । সোমবার রাতে নির্বাচন কমিশন অতিরিক্ত (সাপ্লিমেন্টারি) তালিকা প্রকাশ করলে দেখা যায় যে তাদের কেউ “ডিলিটেড”, কেউ “বিচারাধীন” তালিকাভুক্ত হয়ে গেছেন ।
এমতবস্থায় শেখ ফিরোজ হোসেনকে প্রিসাইডিং অফিসার হিসেবে দায়িত্ব পালনের জন্য বর্ধমান টাউন স্কুলে প্রশিক্ষণের চিঠি ধরিয়ে দেওয়া হয়েছে । তিনি বলেন,’আমার দাদু আমার দাদু ভোট দিয়েছেন। আমি নিজে ১৯৯০ সাল থেকে নিয়মিত ভোট দিচ্ছি। এসআইআর (SIR) পর্বে আমি আমার ব্যক্তিগত সব নথি জমা করেছি। তবুও ভোটার তালিকায় আমার নাম নেই।’ তিনি আক্ষেপ করে বলেন,’আমার নিজেরই ভোটাধিকার চলে গেছে,অথচ আমাকেই ভোটকর্মী হিসেবে নিয়োগ করা হল ।’
শেখ রবিয়েল হোসেনের নাম “বিচারাধীন” তালিকায় রয়েছে । তিনি বলেন,’২০০২ সাল থেকেই ভোটার তালিকায় আমার নাম ছিল। তারপরেও আমার ভোটাধিকার কেড়ে নেওয়া হয়েছে। তাহলে কোন যুক্তিতে আমাকে ভোটকর্মী হতে বলা হচ্ছে?’ আরও এক ভুক্তভোগী আয়ূব আলির নাম “ডিলিট” করে দেওয়া হয়েছে৷ তারপরেও তাকে প্রিসাইডিং অফিসার হিসেবে দায়িত্ব পালনের জন্য নোটিশ পাঠানো হয়েছে৷ তিনি হতাশা প্রকাশ করে বলেন, ‘আমি আগে বর্ধমান দক্ষিণ বিধানসভা কেন্দ্রের ২০১ নম্বর বুথে তালিকাভুক্ত ভোটার ছিলাম৷ শুনানির পর নাম ‘বিচারাধীন’ অবস্থায় থাকলেও সর্বশেষ প্রকাশিত সাপ্লিমেন্টারি তালিকায় আমার নাম ’ডিলিট’ হয়ে গিয়েছে । যেখানে আমার নিজেরই ভোটাধিকার নেই,সেখানে আমি কীভাবে প্রিসাইডিং অফিসার হিসেবে দায়িত্ব পালন করব?’
