এইদিন ওয়েবডেস্ক,আলিপুরদুয়ার,০৪ এপ্রিল : বৃহস্পতিবার ২০১৬ সালের পশ্চিমবঙ্গের এসএসসির পুরো প্যানেল বাতিল করে দিয়েছে সুপ্রিম কোর্ট৷ যে কারণে ২৫ হাজার ৭৫৩ জন শিক্ষক ও শিক্ষাকর্মীর চাকরি বাতিল হয়ে গেছে । আর এতে প্রায় ৭,০০০ অযোগ্য প্রার্থীকে বাঁচাতে বাকি যোগ্য প্রার্থীদের ‘বলিতে চড়ানো’র অভিযোগ উঠছে মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জির বিরুদ্ধে । চাকরি হারিয়ে এখন কান্নায় ভেঙে পড়েছেন যোগ্য প্রার্থীরা । মুখ্যমন্ত্রীর বিরুদ্ধে তারা প্রকাশ্যে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করছেন । তাদের মধ্যেই রয়েছেন আলিপুরদুয়ার বালিকা শিক্ষা মন্দিরের গ্রুপ সি কর্মী চন্দন দাস । হতাশ ওই যুবক ফেসবুক লাইভে আবেদন জানিয়েছেন,’নোটাকে ভোট দিন,তবু তৃণমূলকে দেবেন না’ ।
ভিডিওতে চন্দন দাসকে বলতে শোনা গেছে,’আমি চন্দন দাস বলছি আলিপুরদুয়ার থেকে৷ প্রথমেই আমি বলে দি যে আমি কোন রাজনৈতিক দলের সমর্থক নই । রাজনৈতিক ব্যাপারটা আমার বিশেষ পছন্দ নয় তাই সেখান থেকে আমি দূরে থাকি। কিন্তু আজকে আমি কিছু কথা বলতে বাধ্য হচ্ছি । তোমরা হয়তো জানো যে আজকে, ২০২৫ সালের ৩ এপ্রিল, ২০১৬ সালের এসএসসির যে মামলা চলছিল তার রায় আজকে দেওয়া হলো । প্রায় ২৬ হাজার জনের চাকরি চলে গেল । তার মধ্যে অযোগ্য ছিল অনেকে । যোগ্যের সংখ্যাটাই বেশি । যাইহোক, যোগ্য এবং অযোগ্য বাছাই না করার জন্য গোটা প্যানেলটাই বাতিল করে দেওয়া হলো। এর জন্য কে দায়ী আশা করি সবাই বুঝতে পারছেন । এসএসসি বা রাজ্য সরকারের যদি সদিচ্ছা থাকতো তাহলে এক বছর আগেই ওরা নিশ্চয়ই যোগ্য অযোগ্যর তালিকা আলাদা করে দিতে পারতো । কিন্তু তারা সেটা করেনি ।’
তিনি বলেন, আমিও সেই প্যানেলের একজন । আমারও চাকরিটা চলে গেল । যাই হোক, রাজ্যে অনেকদিন ধরেই অনেক কিছু চলছে । আমি এই বিষয়ে কোনদিন কিছু বলিনি । কারণ রাজনৈতিক বিষয়ে আমি সাধারণত কোন মন্তব্য করিনা । কিন্তু এবার মুখ খুলতে বাধ্য হচ্ছি । নিজের সাথে হয়েছে সেই কারণে বলতে বাধ্য হচ্ছে । এটাই বলব যে, যারা জুনিয়র আছো এবং আগামীতে চাকরির প্রস্তুতি নিচ্ছ, বা যারা সিনিয়র আছো আমার দাদা দিদি বা বয়জ্যেষ্ঠরা, তাদের আমি একটাই অনুরোধ করব ভবিষ্যতে তোমরা কেউ টিএমসি কে ভোট দিও না । আমি বলছি না যে তোমরা বিজেপি বা সিপিএমকে ভোট দাও বা অন্য কোন পার্টিকে দাও, যে পার্টিকে দাও না কেন আমার কিছু যায় আসে না । শুধু টিএমসিকে দিও না । এটাই বলব । দরকার পড়লে তোমরা নোটাকে দাও। কিন্তু টিএমসি তে কোন ভোট দিও না ।’
তিনি আরো বলেন, আর যেসব ভাইয়েরা ভাবছো যে এসএসসি দিয়ে চাকরি পাবে শিক্ষক হবে, তারা তো ভুলেই যাও৷ একটা প্রজন্মকে পুরো নষ্ট করে দিল । চাকরিই হচ্ছে না । তোমাদেরও আদপে হবে কিনা কোন ঠিক নেই । আমরা তো পেয়েও হারালাম । জানিনা এর পরে কি করব, কি হবে আমাদের সাথে । তাই যারা আমাকে চেনো, কারোর যদি আমি নূন্যতম উপকার করে থাকি তাদের অনুরোধ করছি, দয়া করে তৃণমূল কংগ্রেসকে ভোট দিও না…প্লিজ ।
সদ্য চাকরি হারা হতাশ যুবকের বক্তব্য শুনুন 👇
রাজ্য বিজেপির যুব মোর্চার নেতা কলকাতা হাইকোর্টের আইনজীবী তরুণজ্যোতি তিওয়ারি দাবি করেছেন যে ৫২৬১ জন দুর্নীতিগ্রস্ত লোককে চাকরিতে বহাল রাখার জন্য মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকার ৭৮৭২ কোটি ১৮ লক্ষ ৬৯ হাজার ৬০০ টাকা খরচ করতে রাজি ছিল! তিনি একটা পরিসংখ্যান দিয়ে বলেছেন, কিভাবে এই টাকার হিসাব হলো?
প্রথম ধাপ: রাজ্য সরকার ৫২৬১ জন শিক্ষক ও কর্মচারীর জন্য supernumerary post তৈরি করেছিল, যার জন্য প্রতি বছর ২৬২ কোটি ৪০ লক্ষ ৬২ হাজার ৩২০ টাকা বরাদ্দ হয়েছিল।
দ্বিতীয় ধাপ: ধরে নেওয়া যাক, এই লোকগুলো কমপক্ষে ৩০ বছর চাকরি করতো এবং কোনো বেতন বৃদ্ধি বা নতুন পে-কমিশন প্রযোজ্য হতো না।
চূড়ান্ত হিসাব:
২৬২,৪০,৬২,৩২০×৩০ = ৭৮৭২,১৮,৬৯,৬০০
অর্থাৎ, ৭৮৭২ কোটি ১৮ লক্ষ ৬৯ হাজার ৬০০ টাকা শুধুমাত্র এই চিহ্নিত অযোগ্যদের বাঁচানোর জন্য খরচ হতো!
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তিনি লিখেছেন, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কত টাকা তুলেছিল যে, এদের রক্ষা করতে এত বড় পদক্ষেপ নিয়েছিল?
যদি এই ৫২৬১ জন চিহ্নিত অযোগ্য হয়, তাহলে বাকি কারা যোগ্য বা অযোগ্য তা কেন চিহ্নিত করা হয়নি? এই প্রশ্নটা আপনাদের মনে নিশ্চয়ই ঘুরছে এবং যদি ঘোরে তাহলে লেখাটা আরেকটু পড়ুন এবং সরকারকে প্রশ্ন করুন কেন OMR নষ্ট করে দেওয়া হলো? যারা ভাবছেন বা বলতে চাইছেন যে, অযোগ্যদের চিহ্নিত করার পরেও পুরো প্যানেল কেন বাতিল হল, তারা অনুরোধ করছি আজকের রায়ের শেষ চারটি প্যারাগ্রাফ পড়ার জন্য। পুরো রায়টি পড়ুন এবং শেষ চারটি প্যারাগ্রাফ ভালো করে বিশ্লেষণ করুন, তাহলে বুঝতে পারবেন কেন এই সিদ্ধান্ত হয়েছে। এগুলো নিয়ে কথা হবে, কিন্তু মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কি জনগণের করের টাকা নিজের পৈত্রিক সম্পত্তি মনে করেছিলেন? যে অযোগ্য লোকদের বাঁচানোর জন্য এত কোটি টাকা খরচ করার পরিকল্পনা করেছিল? আপনার করের টাকা কোথায় যাচ্ছে, তা জানুন ও সচেতন হন!