এইদিন ওয়েবডেস্ক,কলকাতা,২৭ মার্চ : এর বিতর্কে জড়ালেন মুর্শিদাবাদ জেলার ভরতপুরের তৃণমূল বিধায়ক হুমায়ুন কবির । এবারে তিনি নিজের সম্প্রদায়ের কাছে আহ্বান জানালেন, যে দলেরই হোক না কেন ভালো মুসলিমকে ভোট দিন । ২০২৬ সালে বিধানসভায় ৮৪ জন মুসলিম বিধায়ককে পাঠাতে হবে । তাতে বিরোধী আসনে বসতেও তিনি রাজি আছেন । হুমায়ুন কবিরের ওই বক্তব্যের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে শেয়ার করে বিজেপি নেতা কলকাতা পুরসভার কাউন্সিলর সজল ঘোষ মন্তব্য করেছেন, ‘এবারে ভাববার সময় এসেছে ।’
সজল ঘোষ এর শেয়ার করা ভিডিওতে হুমায়ুন কবিরকে বলতে শোনা গেছে, ‘আমার পরিষ্কার পরিসংখ্যান জানা আছে যে ৮৪ টা বিধানসভার সিটে ৫২ শতাংশ থেকে ৮৪ শতাংশ পর্যন্ত মুসলিম বহুল । আমি আগামী দিনের জন্য মুসলিম ভাইদের কাছে আবেদন করব যেন, আজ মমতা ব্যানার্জি ক্ষমতায় আছে, ৪২ টা আসনে মুসলিম বিধায়ক আছে। ২০২৬ এর বিধানসভা নির্বাচনে মমতা ব্যানার্জি যদি ৪২ টা মুসলিম প্রার্থী দেয় তাহলে ৫২ টা জায়গায় যেন তৃণমূল কংগ্রেসকে ভোট দেয় মুসলিমরা । যেখানে ৫২,৫৫ বা ৫৮ শতাংশ মুসলিম ভোটার সেখানে যদি তৃণমূল অন্য প্রার্থী দেয় তাহলে আমি বলব সিপিএম, কংগ্রেস যারাই ভাল মুসলিম প্রার্থী দেবে, মুনাফেক-মুসরেফ প্রভৃতি এদেরকে বাদ দিয়ে ভালো মুসলিম, শিক্ষিত মুসলিম, ভদ্রনম্র কোরান হাদিস জানা, যদি তারা কোরানকে সম্মান করে এইসব মুসলিমকে আমরা চাইছি ২০২৬ সালে ৮৪ টা মুসলিম বিধায়ক যাক । এবং আমরা একবার বিরোধী আসনে বসি না ।’
প্রতিক্রিয়া সজল ঘোষ লিখেছেন, ‘শুনুন কি ভয়ংকর কথা,মুসলমানরা শুধু মুসলমানকে ভোট দেবে, টিএমসি প্রার্থী যদি হিন্দু হয় তাহলে অন্য দলের মুসলমান প্রার্থীকে ভোট দিন। রাজ্যে ৮৪ টা মুসলমান এমএল চান, দরকার হলে বিরোধী আসনে বসবে মুসলমান বিধায়করা l এরপর যদি বিজেপি বলে হিন্দু জোটের কথা কিংবা বলে হিন্দু হিন্দু ভাই ভাই তাহলে বিজেপি সাম্প্রদায়িক ? ভাবার সময় এসেছে কিন্তু ভাবনার দায়িত্বটা আপনার ।’
প্রসঙ্গত, এর আগে উস্কানিমূলক মন্তব্যের জন্য দলীয় শৃঙ্খলা কমিটি কর্তৃক তলব করা হয়েছিল হুমায়ুন কবিরকে । তিনি গত ১৯ মার্চ হুমায়ুন কবির বলেছিলেন যে তিনি দলীয় শৃঙ্খলা মেনে চলবেন এবং দলীয় নেতৃত্বের নির্দেশাবলী অনুসরণ করবেন। এরপর ফের তিন শোকজের মুখে পড়তে চলেছেন বলে মনে করা হচ্ছে । অবশ্য এবারে বিজেপির বর্ষীয়ান নেতা দিলীপ ঘোষকে সমর্থন করার অপরাধে দলের বিষ নজরে পড়েন তিনি । আসলে, সাংসদ থাকাকালীন দিলীপ ঘোষ সাংসদ কোটায় খড়গপুর পুরসভার ৬ নম্বর ওয়ার্ডে রাস্তা নির্মাণ করে দিয়েছিলেন । সম্প্রতি সেই রাস্তার উদ্বোধন করতে গিয়ে তৃণমূলের হামলার মুখে পড়তে হয় তাকে ।পাল্টা জবাবও দিয়েছিলেন দিলীপবাবু । তাকে সমর্থন করে গত মঙ্গলবার বিধানসভার বাইরে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে ভরতপুরের বিধায়ক বলেন, “দিলীপ দা’র বক্তব্যকে সমর্থন করি । সাংসদ তহবিলের টাকায় রাস্তা উদ্বোধন করতে গিয়েছিলেন তিনি ৷ বাধা দেওয়ার কী ছিল ? তিনি যা করেছেন, ঠিক করেছেন । আমি থাকলেও একই কাজ করতাম । কেউ ইট মারলে আমি তো রসগোল্লা দেব না !”।