এইদিন ওয়েবডেস্ক,আউশগ্রাম(পূর্ব বর্ধমান),১১ জুন : অফিস দখলকে কেন্দ্র করে তুমুল সংঘর্ষে জড়াল পূর্ব বর্ধমান জেলার আউশগ্রাম-২ নম্বর ব্লকের গেড়াই গ্রামের তৃণমূল কংগ্রেসের দুই গোষ্ঠীর লোকজন । চলে দেদার বোমাবাজি । ঘটনাস্থলে বিশাল পুলিশ বাহিনী গিয়ে পরিস্থিতি সামাল দেয় । সংঘর্ষে আহত হয়েছেন তৃণমূলের ব্লক সভাপতি সেখ আব্দুল লালন ৷ স্থানীয় হাসপাতালে তার চিকিৎসা করা হয় । আজ বুধবার সকালে গেড়াই গ্রামের মাঠে দু’টি তাজা বোমা উদ্ধার করে পুলিশ । বিকেল নাগাদ সিআইডি বোম স্কোয়াডের এসে বোমা দু’টিকে নিক্রিয় করে । এই ঘটনায় ব্যাপক আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে এলাকায় ।
প্রসঙ্গত,রাজ্যের অনান্য ব্লকের মত আউশগ্রামেও তৃণমূল কংগ্রেসের দুই গোষ্ঠীর বিবাদের পুরনো ইতিহাস রয়েছে । আউশগ্রামের বিধায়ক অভেদানন্দ থাণ্ডার ও ব্লক সভাপতি সেখ আব্দুল লালন গোষ্ঠীর মধ্যে কর্তৃত্ব দখল নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিবাদ চলছে । নবতম বিবাদের সূত্রপাত তৃণমূলের স্থানীয় কার্যালয়ের দখল ঘিরে ।
জানা গেছে,আউশগ্রাম-২ নম্বর ব্লকের গেড়াই গ্রামে দলীয় কার্যালয়টি ব্লক সভাপতি সেখ আব্দুল লালনের বাড়ির কাছেই রয়েছে । ফলে লালনের গোষ্ঠীর দখলে রয়েছে কার্যালয়টি ৷ মঙ্গলবার রাতে বিধায়ক অভেদানন্দ থাণ্ডারের গোষ্ঠীর লোকজন সেটির দখল নিতে গেলে তুমুল সংঘর্ষ বেধে যায় । শুরু হয় দেদার বোমাবাজি । বোমা মারা হয় পার্টি অফিসের পাশে। এই ঘটনায় ব্যাপক আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে এলাকায় ।
তৃণমূলের অঞ্চল সভাপতি ও লালন গোষ্ঠীর নেতা গোলাম মোল্লার অভিযোগ, কিছু দুষ্কৃতী পার্টি অফিসে এসে ঝামেলা পাকায় । ব্লক সভাপতি তাদের থামাতে গেলে তাকে মারধর করা হয় । এমনকি তার ছেলে ও দলের যুব নেতা সেখ সঞ্জুকেও মারধর করা হয়েছে।’
সংঘর্ষের বিষয়ে প্রতিক্রিয়া জানতে আউশগ্রামের বিধায়ক অভেদানন্দ থাণ্ডারকে ফোন করা হলে তিনি বলেছেন,’বাদল অধিবেশনের জন্য ৯ তারিখ থেকে আমি কলকাতায় আছি। গেঁড়াই গ্রামে কী হয়েছে আমি জানি না ।’ আউশগ্রাম-২ পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি ও সেখ আব্দুল লালন গোষ্ঠীর নেত্রী মমতা বারুইয়ের অভিযোগ,’লাকায় উন্নয়নের কিছু মানুষ বাধা দিতে চাইছে। তারা এলাকায় অশান্তি সৃষ্টি করছে । কিছুদিন আগেও তারা অন্যদল করত। এখন বিধায়কের লোক পরিচয় দিয়ে ঝামেলা পাকাচ্ছে ।’
এদিকে উত্তেজনা থাকায় এলাকায় টহল দিচ্ছে পুলিশ । তবে মঙ্গলবার রাতে শাসকদলের দুই গোষ্ঠীর সংঘর্ষের পর চরম আতঙ্কে রয়েছেন এলাকার বাসিন্দারা । স্থানীয় বাসিন্দা রাজেশ মোল্লা,হারু মোল্লারা বলেন,’বোমাবাজিতে বাচ্চারা চরম আতঙ্কের মধ্যে আছে । তাদের পড়াশোনায় ক্ষতি হচ্ছে । কখন ঝামেলা বাধবে এই আশঙ্কায় আমাদেরও খুব সতর্কের মধ্যে থাকতে হচ্ছে ।’ এই প্রকার উত্তেজনা প্রশমনে পুলিশকে কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণের আবেদন জানিয়েছেন তারা । তবে সংঘর্ষের ঘটনায় কোনো তরফেই থানায় অভিযোগ দায়ের করা হয়নি বলে জানা গেছে ।।

