এইদিন আন্তর্জাতিক ডেস্ক,১২ এপ্রিল : ইসলামাবাদে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে শান্তি চুক্তি ব্যর্থ হয়েছে । দীর্ঘ আলোচনার পর মার্কিন প্রতিনিধি দল ইতিমধ্যেই আমেরিকার উদ্দেশ্যে রওনা দিয়েছে৷ এই খবর জানিয়েছেন মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স । তিনি বলেছেন,’খারাপ খবর হলো, আমরা কোনো চুক্তিতে পৌঁছাতে পারিনি। আমি মনে করি, এটি যুক্তরাষ্ট্রের চেয়ে ইরানের জন্য অনেক বেশি খারাপ খবর। সুতরাং, আমরা যুক্তরাষ্ট্রের কাছে ফিরে যাচ্ছি, কোনো চুক্তিতে পৌঁছাতে পারিনি… তারা আমাদের শর্তগুলো গ্রহণ না করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।’
ভ্যান্স আরও বলেছেন,’আলোচনায় যা কিছু ঘাটতি ছিল, তার জন্য পাকিস্তানিরা দায়ী নয়, যারা অসাধারণ কাজ করেছে এবং আমাদের ও ইরানিদের মধ্যকার ব্যবধান কমিয়ে একটি চুক্তিতে পৌঁছাতে সত্যিই চেষ্টা করেছে। আমরা এখানে ২১ ঘণ্টা ধরে আলোচনা করছি এবং ইরানিদের সাথে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা করেছি। এটাই ভালো খবর। খারাপ খবর হলো, আমরা কোনো চুক্তিতে পৌঁছাতে পারিনি। আমি মনে করি, এটি যুক্তরাষ্ট্রের চেয়ে ইরানের জন্য অনেক বেশি খারাপ খবর। সুতরাং, আমরা যুক্তরাষ্ট্রে কাছে ফিরে যাচ্ছি, কোনো চুক্তিতে পৌঁছাতে পারিনি… তারা আমাদের শর্তগুলো গ্রহণ না করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।’
ইসলামাবাদে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চার ঘণ্টার শান্তি আলোচনার প্রথম পর্বটি হরমুজ প্রণালীর নিয়ন্ত্রণ নিয়ে বিরোধ এবং লেবাননে চলমান সংঘাতের কারণে বিঘ্নিত হয়েছে। ইরান হরমুজ প্রণালীর ওপর পূর্ণ সার্বভৌমত্ব চায়, অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্র এটিকে মুক্ত বাণিজ্যের জন্য উন্মুক্ত রাখার ওপর জোর দিচ্ছে। এছাড়াও, লেবাননে ইসরায়েলি হামলা বন্ধ করা এবং যুক্তরাষ্ট্রে আটকে থাকা ইরানি সম্পদ মুক্ত করার মতো বিষয় নিয়ে উত্তপ্ত আলোচনা হয়েছে। ইরান সতর্ক করে যে, তাদের অধিকার সুরক্ষিত না হলে তারা আলোচনা থেকে বেরিয়ে যেতে পারে।
প্রতিবেদন অনুসারে, এই আলোচনায় সবচেয়ে বড় বাধা দেখা দিয়েছে হরমুজ প্রণালীর সামরিক ও বাণিজ্যিক নিয়ন্ত্রণ নিয়ে। ইরান এই কৌশলগত জলপথের ওপর তার আধিপত্য বজায় রাখতে চায়, যাতে তারা জাহাজ চলাচলের ওপর নিজেদের নিয়মকানুন প্রয়োগ করতে পারে। অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্র যুক্তি দিচ্ছে যে এটি একটি আন্তর্জাতিক জলপথ এবং এটি যেকোনো দেশের হস্তক্ষেপ থেকে মুক্ত থাকা উচিত। অপরদিকে, লেবাননের বিষয়টিও অত্যন্ত গুরুতর হয়ে উঠেছে। ইরান যুদ্ধবিরতির অংশ হিসেবে লেবাননের ওপর সব ধরনের হামলা অবিলম্বে বন্ধ করার দাবি জানাচ্ছে, অথচ যুক্তরাষ্ট্র এই চুক্তির সরাসরি অংশ হিসেবে লেবাননকে বিবেচনা করতে প্রস্তুত নয়।
আলোচনা চলাকালীন ইরানি প্রতিনিধিদল অত্যন্ত কঠোর অবস্থান গ্রহণ করেছে। প্রেস টিভির এক প্রতিবেদন অনুসারে, ইরান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে যে তারা কোনো অবস্থাতেই তাদের দেশের অধিকারের সঙ্গে আপস করবে না। যুক্তরাষ্ট্র যদি যথাযথ নিশ্চয়তা না দেয়, তবে ইরান যেকোনো মুহূর্তে আলোচনা থেকে সরে আসতে পারে। আলোচনা এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার জন্য ইরান দুটি প্রধান শর্ত দিয়েছিল, যার মধ্যে রয়েছে লেবাননের ওপর ইসরায়েলের হামলা বন্ধ করা এবং যুক্তরাষ্ট্রে বছরের পর বছর ধরে আটকে থাকা বিপুল পরিমাণ ইরানি অর্থ ছেড়ে দেওয়া। যদিও যুক্তরাষ্ট্র এই শর্তগুলোর বিষয়ে ইতিবাচক ইঙ্গিত দিয়েছে, তবে এর বিস্তারিত বিবরণ এখনও অমীমাংসিত।
লেবাননের পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনায় জানা গেছে যে, ইসরায়েল বৈরুতের ওপর হামলা বন্ধ করেছে এবং তাদের সামরিক অভিযান দক্ষিণ লেবাননে সীমাবদ্ধ রেখেছে, যা শান্তির দিকে একটি পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। ইরান আলোচনার জন্য একটি ১০-দফা রূপরেখা পেশ করে, যার প্রধান দাবিগুলো হলো অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার এবং যুদ্ধের কারণে সৃষ্ট ক্ষয়ক্ষতির ক্ষতিপূরণ। এই ধরনের জটিল দাবির কারণে প্রথম দফায় কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া সম্ভব হয়নি ।
শান্তি আলোচনার মাঝেও সীমান্তে উত্তেজনা কমার কোনো লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না। ইসলামাবাদে আলোচনা চলাকালে ইরানের সামরিক বাহিনী হরমুজ প্রণালীতে একটি মার্কিন ডেস্ট্রয়ারকে থামিয়ে ফিরে যেতে সতর্ক করেছে। ইরান দাবি করেছে যে, অনুমতি ছাড়া কোনো বিদেশি জাহাজকে যেতে দেওয়া হবে না। এই ঘটনাটি আবারও প্রমাণ করেছে যে, সেখানকার পরিস্থিতি অত্যন্ত সংবেদনশীল । এখন প্রবল সম্ভাবনা রয়েছে যে, এবারে মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ আরও ভয়াবহ আকার ধারন করতে পারে ।
