এইদিন ওয়েবডেস্ক,ঝিনাইদহ,০৫ জানুয়ারী : বাংলাদেশের সংখ্যালঘু হিন্দুরা সংখ্যাগুরু মুসলিম সম্প্রদায়ের নিদারুন নির্যাতনের শিকার হচ্ছে । হিন্দু যুবকদের নৃশংস বর্বরোচিত ভাবে জীবন্ত পুড়িয়ে মারার ঘটনার মাঝে ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ উপজেলায় এক বিধবা হিন্দু নারীকে (৪০) গণধর্ষণ ও মাথার চুল কেটে সেই সমস্ত ভিডিও সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে দেওয়ার ঘটনা ঘটেছে । অভিযুক্ত দুই প্রতিবেশী মুসলিম ব্যক্তি ওই নারীকে গাছের সঙ্গে বেঁধে মাথার চুল কেটে দেয় এবং সেই ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেয়। ঘটনায় এলাকায় তীব্র ক্ষোভ ও উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে।
ঘটনাটি ঘটে ৩ জানুয়ারি শনিবার রাতে, ঝিনাইদহ জেলা কালীগঞ্জ উপজেলার পৌর এলাকার ৭ নম্বর ওয়ার্ডের নদীপাড়া এলাকায়। ভুক্তভোগী নারী কালীগঞ্জ উপজেলার কোলা ইউনিয়নের খেদাপাড়া গ্রামের মৃত নিখিল ঘোষের স্ত্রী। ভুক্তভোগী নারী জানান, প্রায় আড়াই বছর আগে তিনি অভিযুক্ত মহম্মদ শাহিন ও তার ভাইয়ের কাছ থেকে নদীপাড়ায় দুইতলা বাড়িসহ তিন শতক জমি ২০ লাখ টাকায় কিনেছিলেন। বাড়ি কেনার পর থেকেই অভিযুক্ত মহম্মদ শাহিন তাকে বিভিন্নভাবে কুপ্রস্তাব দিতে থাকে । এতে রাজি না হওয়ায় দীর্ঘদিন ধরে তাকে নানাভাবে হেনস্থা করছিল ।
ঘটনার দিন সন্ধ্যায় ভুক্তভোগীর গ্রামের দুই আত্মীয় তার বাড়িতে বেড়াতে আসেন। ওই সময় অভিযুক্ত মহম্মদ শাহিন ও তার সহযোগী মহম্মদ হাসান জোরপূর্বক বাড়িতে ঢোকে । দুই আত্মীয়কে মারধর করে তাড়িয়ে দেওয়া হয়। মহিলার কাছে ৫০ হাজার টাকা দাবি করে তারা । টাকা দিতে অস্বীকার করলে তারা পরপর দুইজন মিলে ওই নারীকে গনধর্ষণ করে । ভুক্তভোগী নারী চিৎকার শুরু করেন। তখন অভিযুক্তরা ক্ষিপ্ত হয়ে তাকে গাছের সঙ্গে বেঁধে মাথার চুল কেটে দেয় এবং সেই দৃশ্য ভিডিও করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেয় । এদিকে অত্যাচার সহ্য না করতে পেরে ওই নারী জ্ঞান হারিয়ে ফেললে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে ঝিনাইদহ সদর হাসপাতালে ভর্তি করেন।
হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডঃ মহম্মদ মোস্তাফিজুর রহমান বলেন,’প্রথমে ভুক্তভোগী নারী বিষয়টি লজ্জায় স্বীকার করেননি। পরে চিকিৎসা ও জিজ্ঞাসাবাদে জানা গেছে, তিনি নির্যাতনের শিকার হয়েছেন।’ এ বিষয়ে ঝিনাইদহের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার বিল্লাল হোসেন জানান, ভুক্তভোগী নারী কালীগঞ্জ থানায় অভিযোগ দায়ের করেছেন। আমরা অভিযোগ গ্রহণ করেছি। তদন্ত সাপেক্ষে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে ।’ ঘটনার পর মানবাধিকারকর্মী ও সংখ্যালঘু অধিকার সংগঠনগুলো দোষীদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছে। তারা ভুক্তভোগীর নিরাপত্তা, চিকিৎসা ও আইনি সহায়তা নিশ্চিত করারও আহ্বান জানিয়েছে।।

