প্রদীপ চট্টোপাধ্যায়,বর্ধমান,২৬ জানূয়ারী : ২০২৬ শে ’পদ্মশ্রী’ সন্মান পাচ্ছেন বাংলার ১১ জন কৃতী।৭৭ তম সাধারণতন্ত্র দিবসের প্রক্কালে ওই ১১ জনের নামের তালিকা প্রকাশ করলো কেন্দ্রের সরকার।তাতে পূর্ব বর্ধমান জেলার দুই গুণীজনের নামও রয়েছে। তাঁরা হলেন কালনার নোয়ারা গ্রাম নিবাসী সাহিত্যিক রবিলাল টূডু এবং কালনার বারুইপাড়ার বিখ্যাত তাঁতশিল্পী জ্যোতিষ দেবনাথ। পদ্মশ্রী সন্মানে ভূষিত হতে চলা এই দুই কৃতীকে নিয়ে এখন উচ্ছ্বাসে ভাসছেন কালনার বাসিন্দারা।
তাঁত শিল্পে বরাবরই সুনাম কুড়িয়েছেন বাংলার তাঁতিরা । সেই সুনাম কে আরও এগিয়ে নিয়ে গিয়েছেন কালনা শহরের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের বারুইপাড়ার দক্ষ তাঁতি জ্যোতিষ দেবনাথ।মসলিন ও জামদানি শাড়ির উপর নিখুঁত নক্সার কাজ ফুটিয়ে তোলার অসামান্য কৃতিত্বের দেখিয়ে তিনি ইতিপূর্ব জাতীয় পুরস্কার সহ ‘সন্ত কবীর অ্যাওয়ার্ড’ লাভ করেছেন।শুধু তাই নয়,কালনার প্রত্যন্ত গ্রামীণ এলাকার মহিলাদের তাঁত শিল্পের কাজ শিখিয়ে তাঁদের আর্থিক স্বনির্ভরতার পথ দেখিয়ে তিনি নানা মহলথেকে প্রশংসিত হয়েছেন।
জ্যোতিষ দেবনাথের কথায় জানা যায়,সোনিয়া গান্ধী থেকে শুরু করে নীতা অম্বানী, বিদ্যাবালন,কাজল, জয়া বচ্চনের মতোন সেলিব্রিটিরা তাঁর শাড়ির কদর করেন। তাঁর কাছ থেকে শাড়িও কেনেন। তাঁর শাড়ি প্রদর্শনীর জন্য পাড়ি দেয় লন্ডন, স্কটল্যান্ড, ইতালি, সিঙ্গাপুর, জাপান সহ বিভিন্ন দেশে।এবার ৬৮ বছর বয়সী খ্যাতিমান তাঁতশিল্পী জ্যোতিষ দেবনাথ পেতে চলেছেন ভারতের চতুর্থ সর্বোচ্চ অসামরিক সন্মাননা পদ্মশ্রী অ্যাওয়ার্ড। তা নিয়ে জ্যোতিষ দেবনাথ রবিবার বলেন,’এই সন্মান পাওয়ার জন্য আমাকে নির্বাচিত করা হয়েছে জেনে আমি অত্যন্থ আনন্দিত। বংশ পরম্পরায় আমরা তাঁতশিল্পের সঙ্গে যুক্ত। এই সন্মাননা বাংলার তাঁতশিল্পের খ্যাতিকে আরও সুদুর প্রসারী করবে।’
পদ্মশ্রী সন্মাননা পেতে চলা অপর বঙ্গ সন্তান রবিলাল টুডু কালনা ২ ব্লকের নোয়ারা গ্রামের বাসিন্দা। সাহিত্য দুনিয়ায় রবিলাল টুডু পরিচিত একটা নাম। ছাত্রজীবন থেকে সাঁওতালি ভাষার চর্চা সহ সাহিত্য ও সংস্কৃতি নিয়ে তিনি কাজ করে চলেছেন।তাঁর লেখনিতে বারেবারে প্রকাশ পেয়েছে নিত্যনতুন ভাবনার প্রতিফলনন। যে ভাবনা বহু গুণীজনের প্রশংসা কুড়িয়েছে।
কালনার বাদলা হাইস্কুল পড়াশোনার পাঠ শেষ করে রবিলাল টুডু কালনা কলেজে ভর্তি হন। সেখান থেকে গ্র্যাজুয়েট হন । কেন্দ্রীয় সরকারের অডিটর জেনারেল হিসাবে এই রাজ্যে কর্মজীবন শুরু করেন রবিলাল টুডু।পাঁচ বছর চাকরি করার পর তিনি চাকরি থেকে অবসর নিয়ে নেন। পরে তিনি একটি রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাঙ্কেড় চাকরিতে যোগ দেন। তিনি ১৯৭৪ সালে বীরসা মুন্ডার জীবন নিয়ে ‘ বীর বীরসা ’ নামে একটি নাটকের বই লেখেন। ২০১৪ সালে রাজ্য সরকার সারদাপ্রসাদ কিস্কু অ্যাওয়ার্ড,’ ২০১৫ সালে ‘সাহিত্য আকাদেমি’ পুরস্কার এবং ২০২২ সালে তিনি ‘বঙ্গভূষণ’ পুরস্কার পান।তিনি তাঁর গ্রামের বাড়ির সামনের জায়গায় সিধু-কানহু, পন্ডিত রঘুনাথ মূর্মূর মূর্তি স্থাপন করেন। ‘পদ্মশ্রী’ সম্মাননার জন্য তাঁকে নির্বাচিত করা হয়েছে জেনে ৭৭ বছর বয়সী রবিলাল টুডু বলেন,’খুবই ভালো লাগছে। পদ্মশ্রী সন্মাননা পাওয়া আমার কাছে খুবই গর্বের ও আনন্দের।’।

