এইদিন ওয়েবডেস্ক,কলকাতা,২৪ নভেম্বর : উত্তর ২৪ পরগনা জেলার বসিরহাট মহকুমার বহুল চর্চিত গ্রাম সন্দেশখালির একজন বুথ লেভেল অফিসার (বিএলও)কে রাতারাতি “ঘরবাড়ি ভাঙচুর” ও “জবাই করার” হুমকি দিয়ে গ্রেপ্তার হয়েছে স্থানীয় তৃণমূল কর্মী জামিরুল ইসলাম মোল্লা । এই ঘটনার পর মুখ্যমন্ত্রী ও তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা ব্যানার্জি ও তার দলের বিরুদ্ধে এসআইআর আবহে ভয়ের পরিবেশ তৈরি করে বিএলও-দের প্রভাবিত করার অভিযোগ তুলেছেন বিজেপির সর্বভারতীয় আইটি ইনচার্জ অমিত মালব্য৷ পাশাপাশি তিনি মমতা ব্যানার্জিকে এই ঘটনার জন্য দায়ি করে তা “কুম্ভীরাশ্রু”র বদলে “জবাবদিহিতা দাবি” করেছেন ।
জানা গেছে,ঘটনাটি ঘটেছে সন্দেশখালি ব্লকের বয়ারমারী এলাকায় । বয়ারমারী-১ গ্রাম পঞ্চায়েতের ৩ নম্বর বুথের বিএলও দীপক মাহাতোকে “জবাই” করার হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় তৃণমূল কর্মী জামিরুল ইসলাম মোল্লার বিরুদ্ধে । ওই বুথেরই দলের বুথ লেভেল এজেন্ট(বিএলএ)-এর দায়িত্বে আছে জামিরুল । স্থানীয় একটি মুসলিম পরিবারের গননা ফর্ম নিয়ে ঝামেলার সূত্রপাত ৷ বয়ারমারীর যুব তৃণমূল সভাপতি মিজানুর ঢালির দাবি,বিএলও ওই পরিবারটিকে বাংলাদেশি হিসাবে চিহ্নিত করে নির্বাচন কমিশনের অ্যাপে ডাউনলোডও করে দিয়েছে । যেকারণে সমস্যার সৃষ্টি হয় । তবে তার দলের কর্মী জামিরুল ইসলাম মোল্লা আদপেই বিএলও-কে হুমকি দিয়েছে কিনা এবিষয়ে তিনি নিশ্চিত নন বলে জানান মিজানুর ।
যদিও বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে ও সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল ভিডিওতে বিএলও-কে হুমকি দিয়ে বলতে শোনা যাচ্ছে,”আমায় জানাওনি কেন? তুমি ঘাঁটলে কেন? তুমি কি রেহাই পাবে ? তোর ঘরবাড়ি সব ভাঙচুর করে তোর হাত-পা পিষে দেবো একদম। সংশোধন কর্ । তা না হলে রাতের মধ্যে তোকে জবাই করে দেবো ।”পাশাপাশি ন্যাজাট বিডিও-এর কাছে লিখিত অভিযোগপত্রে বিএলও দীপক মাহাতো স্পষ্ট শব্দে লিখেছেন যে “অন ডিউটি থাকার সময় জামিরুল ইসলাম মোল্লা আমাকে প্রাণনাশের ও ঘরবাড়ি ভাঙচুর ও পুড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দিয়েছে । যেকারণে আমার জীবন সংশয় দেখা দিয়েছে ।”তিনি আরও লিখেছেন,”৯৭ বছরের বৃদ্ধের ২০০২ সালে নাম নেই,লিঙ্কেজ নিয়ে সমস্যা তৈরি হয় ৷”
ঘটনার প্রতিক্রিয়ায় অমিত মালব্য লিখেছেন, ‘পশ্চিমবঙ্গের আরেকটি মর্মান্তিক ঘটনা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের তৃণমূল কংগ্রেসের আসল চেহারা এবং বিশেষ নিবিড় পুনর্বিবেচনার (SIR) সময় BLO-দের উপর তারা যে ভয়ের পরিবেশ তৈরি করেছিল তা উন্মোচিত করে। উত্তর ২৪ পরগনার একজন BLO-কে অগ্নিসংযোগ, হিংসা এবং ভয়াবহ পরিণতির হুমকি দিয়েছিলেন জামিরুল ইসলাম মোল্লা, যিনি একজন সক্রিয় তৃণমূল কর্মী এবং শাসক দলের বুথ-স্তরের এজেন্ট – কারণ তিনি ২০০২ সালে শেষ SIR-এর পর থেকে তালিকা থেকে অনুপস্থিত ৯৭ বছর বয়সী একজন ভোটারের নাম অবৈধভাবে যোগ করতে অস্বীকার করেছিলেন।’
তিনি লিখেছেন,’বিএলও, দীপক মাহাতো এতটাই ভীত হয়ে পড়েছিলেন যে প্রথমে বিডিও এবং তারপর পুলিশের কাছে অভিযোগ করতে বাধ্য হন। তৃণমূল কর্মীর হুমকি কলের অডিও ইতিমধ্যেই ভাইরাল হয়ে গেছে। পুলিশ এখন মোল্লাকে একজন সরকারি কর্মকর্তাকে হুমকি দেওয়ার এবং তার কর্তব্য পালনে বাধা দেওয়ার অভিযোগে গ্রেপ্তার করেছে। স্থানীয়রা নিশ্চিত করেছেন যে অভিযুক্ত ব্যক্তিটি ইতিমধ্যেই জানেন যে অভিযুক্তটি এলাকার তৃণমূল পঞ্চায়েত প্রধানের ঘনিষ্ঠ।’
অমিত মালব্য লিখেছেন,’স্পষ্ট করে বলা যাক: এটি কোনও বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়। এসআইআর ঘোষণার দিন থেকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রকাশ্য হুমকি, ভয় দেখানো এবং বিএলওদের উপর ক্রমাগত চাপের প্রত্যক্ষ ফলাফল এটি। কয়েক সপ্তাহ ধরে, তিনি এসআইআর-এর নিন্দা করে আসছেন, নির্বাচন কমিশনের কর্মকর্তাদের আক্রমণ করছেন এবং রাজ্য কর্মচারীদের প্রকাশ্যে সতর্ক করে দিচ্ছেন।ফলস্বরূপ, টিএমসি ক্যাডাররা বিএলওদের আতঙ্কিত করতে সাহস পাচ্ছেন, যাদের অনেকেই ভয় এবং মানসিক চাপের কারণে চরম পদক্ষেপও নিয়েছেন। এর জন্য দায়ী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং টিএমসি নেতৃত্ব, যারা এমন একটি পরিবেশ তৈরি করেছেন যেখানে বিএলওদের ধমক দেওয়া হয়, হুমকি দেওয়া হয় এবং ভোটার তালিকা কারচুপি করতে বাধ্য করা হয়। পশ্চিমবঙ্গ কুমিরের অশ্রু নয়, জবাবদিহিতা দাবি করে ।’।

