এইদিন ওয়েবডেস্ক,ভাতার(পূর্ব বর্ধমান),২৭ জানুয়ারী : রাজ্য তৃণমূল কংগ্রেসের মুখপাত্র ঋজু দত্ত আজ পূর্ব বর্ধমান জেলার ভাতারে দলীয় জনসভায় ভাষণ দিতে গিয়ে একের পর বিতর্কিত মন্তব্য করে গেলেন । তিনি দাবি করেছেন যে বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী নাকি “গরুর মাংস খেত” । পাশাপাশি তিনি “রবীন্দ্রসংগীতের পরিবর্তে এবার ডিজে বাজানোর” নামে বিজেপিকে পেটানোর হুমকিও দিয়ে গেছেন । তৃণমূল নেতার এহেন মন্তব্যের প্রতিক্রিয়ার বিজেপির পূর্ব বর্ধমান জেলার কনভেনার কৃষ্ণ ঘোষ বলেছেন,’২০২৬-এ তৃণমূলের বিদায় নিশ্চিত৷ একারনে ওরা আতঙ্কিত । তাই দিশেহারা হয়ে এই ধরনের মন্তব্য করছেন তৃণমূলের নেতারা ।’
আজ মঙ্গলবার এসআইআর-এর শুনানির নামে কথিত হেনস্থার প্রতিবাদে ভাতারে জনসভা করে তৃণমূল । ভাতার বাজারের পার্শ্ববর্তী শ্মশান সংলগ্ন যে জমিতে দিন কয়েক আগে বলিউডের সুপারস্টার মিঠুন চক্রবর্তী সভা করে গিয়েছিলেন, একই জায়গায় আজ তৃণমূলের সভার আয়োজন করা হয় । আশপাশের এলাকা থেকে তৃণমূল কর্মীরা বাসে ও ট্রাক্টরে চড়ে সভাতে যোগ দিতে আসে । সভায় মূল বক্তা ছিলেন রাজ্য তৃণমূল কংগ্রেসের মুখপাত্র ঋজু দত্ত । উপস্থিত ছিলেন ভাতারের বিধায়ক মানগোবিন্দ অধিকারী, শান্তনু কোঁয়ার প্রমুখ ।
নিজের বক্তব্যে বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীকে নিশানা করে ঋজু দত্ত বলেন,’যে শুভেন্দু অধিকারী এখন হিন্দু ধর্মের মাসিহা হয়েছে, হিন্দু ধর্ম সনাতন ধর্মের স্বঘোষিত ধারক ও বাহক হয়েছে,সেই শুভেন্দু অধিকারী বিজেপিতে যোগ দেওয়ার আগে নন্দীগ্রামে শাহাবুদ্দিনের বাড়িতে গিয়ে তিন বাটি গরুর মাংস খেয়েছে, পার্সেল করে বাড়ি নিয়ে গিয়েছে । এখন সনাতন ধর্ম দেখাচ্ছে ।’ তিন শুভেন্দু অধিকারীকে ‘রেজিস্টার্ড চোর প্রতিষ্ঠিত তোলাবাজ’ ও ‘অসভ্য জানোয়ার’ বলে অবিহিত করে বলেন, ‘ওকে বাংলার মানুষ কি করবে আপনারা দেখে নেবেন ২০২৬-এর পরে। বড় বড় কথা। বড় নেতা, যার পায়ের তলায় বসে রাজনীতি শিখেছে তাকে এখন নাম ধরে ডাকছে। শুভেন্দুর রাজনীতিতে হাতেখড়ি মমতা ব্যানার্জী-র হাতে । আর এখন দিদিকে ‘মমতা’ বলে বলছে, অসভ্য জানোয়ার !’
এদিন এলাকার বিজেপির নেতাকর্মীদের পেটানোর হুমকি দিয়ে ঋজু দত্ত বলেন,’যদি মিটিং মিছিল করতে গিয়ে তৃণমূলের কোন কর্মীর গায়ে হাত পড়ে, তাহলে কিন্তু ভাতাড় জুড়ে বীন্দ্রসংগীতের পরিবর্তে ডিজে বাজবে । তখন কিন্তু ঘর থেকে বেরোতে পারবেন না। আর দিদির স্বাস্থ্যসাথী কার্ডটা ভালো করে পকেটে নিয়ে রাখবেন চিকিৎসা করে বাড়ি পাঠিয়ে দেবে ।’ বলিউড অভিনেতা মিঠুন চক্রবর্তীর ভাতারের জনসভা নিয়ে তিনি বলেন,’কোন গোখরো সাপ, কোন কেউটে সাপ এখানে এসে কিছু করতে পারবে না। এই ভাতার তৃণমূল কংগ্রেসের দুর্জয় ঘাঁটি, মমতা ব্যানার্জীর দুর্জয় ঘাঁটি।’
ওই তৃণমূল নেতার এই প্রকার একের পর এক বিতর্কিত মন্তব্যের তীব্র সমালোচনা করেছেন জেলার বিজেপি নেতা কৃষ্ণ ঘোষ । তিনি এইদিন-কে ফোনে প্রতিক্রিয়ায় বলেন,’আসলে তৃণমূল বুঝে গেছে যে তাদের পায়ের তলায় আর মাটি নেই । সাধারণ মানুষ আর ওদের সঙ্গে নেই এবং ওরা যে ক্ষমতাচ্যুত হতে চলেছে এটা বুঝতে পারছে । তাই নানা ভাবে ওরা এস আই আর-এর নামে ভয় দেখাচ্ছে,বিভ্রান্ত করছে । আর মানুষ এগুলো তখনই করে যখন সে দিশেহারা হয়ে যায় । তৃণমূলের নেতামন্ত্রীরা সব দিশেহারা হয়ে পড়েছে । তাই এই ধরনের মন্তব্য করছে ।’।

