এইদিন ওয়েবডেস্ক,কলকাতা,০৯ জানুয়ারী : বৃহস্পতিবার কয়লা পাচার মামলায় আইপ্যাক-এর কর্ণধার প্রতীক জৈনের অফিস ও বাড়িতে তল্লাশি অভিযানে যাওয়া ইডির জিম্মা থেকে “ফাইল ছিনতাই” করে নজিরবিহীন ঘটনা ঘটিয়েছিলেন খোদ মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি । এনিয়ে কলকাতা হাইকোর্টে মামলা করে ইডি । আজ শুক্রবার বিচারপতি শুভ্রা ঘোষের এজলাসে সেই মামলার শুনানি ছিল । কিন্তু বিপুল সংখ্যক তৃণমূলের লোকজন ও তৃণমূলপন্থী আইনজীবীদের হইহট্টগোলের কারনে সৃষ্ট বিশৃঙ্খলার জেরে আইপ্যাক মামলার শুনানি (I-PAC Case Hearing) না করেই এজলাস ছাড়লেন ক্ষুব্ধ বিচারপতি। অতিরিক্ত ভিড়ের কারণে এজলাসে এমন হট্টগোল তৈরি হয় যে, বিচারপতির পক্ষে স্বাভাবিক কাজকর্ম চালিয়ে যাওয়া অসম্ভব হয়ে পড়ে। চরম ক্ষোভের সঙ্গে তিনি আসন ছেড়ে উঠে যান। ফলে বহুল চর্চিত এই মামলার শুনানি পিছিয়ে গেল আগামী ১৪ জানুয়ারি পর্যন্ত। মামলার শুনানি যাতে না হয় সেজন্য তৃণমূল পরিকল্পিতভাবে এই ঘটনা ঘটিয়েছে বলে অভিযোগ উঠছে ।
এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট(ইডি)-এর তরফ থেকে দাবি জানানো হয়েছে,”ফাইল ছিনতাই”-এর ঘটনার তদন্তভার সিবিআই-কে দেওয়া হোক৷ হাইকোর্টে ইডির তরফে আর্জি জানানো হয়েছে যে দ্রুত সিবিআই এফআইআর দায়ের করুক। দ্রুত তদন্ত শুরু করুক কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা। সল্টলেকে আইপ্যাকের অফিস এবং লাউডন স্ট্রিটে আইপ্যাকের কর্ণধার প্রতীক জৈনের বাড়িতে তল্লাশির সময় যে মুখ্যমন্ত্রী ও রাজ্য পুলিশ-প্রশাসনের কর্তাব্যক্তিরা গিয়েছিলেন, তা নিয়ে তদন্ত করা হোক। যাবতীয় নিয়ম-কানুন মেনেই তল্লাশি অভিযান চালানো হচ্ছিল বলে ইডির তরফে দাবি করা হয়েছে।
ইডির তরফে অভিযোগ করা হয়েছে যে তল্লাশি চলছে বলা সত্ত্বেও ঘটনাস্থলে মুখ্যমন্ত্রী ঢুকে পড়েন। জোর করে কেন্দ্রীয় সংস্থার কাছে থাকা একগুচ্ছ গুরুত্বপূর্ণ নথিপত্র এবং ডিজিটাল ডিভাইস ছিনিয়ে নেওয়া হয়। জোর করে নিয়ে যাওয়া সেইসব নথি যেন ফিরিয়ে দেওয়া হয় ইডিকে। যতক্ষণ না ইডির হাতে সেই নথি বা ডিভাইস আসছে, ততক্ষণ কোনওরকম তথ্য বিকৃত যাতে না করা হয়, সেই নির্দেশ দেওয়া হোক।
সল্টলেকে আইপ্যাকের অফিস এবং লাউডন স্ট্রিটে আইপ্যাকের কর্ণধার প্রতীক জৈনের বাড়িতে যে সিসিটিভি ফুটেজ আছে, তা সংরক্ষণ করে রাখা হোক। এছাড়া, রাজ্য সরকারকে নির্দেশ দেওয়া হোক যে ইডির তদন্তে যেন বাধা না দেওয়া হয়।ইডি সূত্রে খবর, কয়লা মামলার তদন্তে উঠে এসেছে যে কয়লা পাচারের কয়েক কোটি টাকা গোয়ার আইপ্যাকের কাছে গিয়েছিল। যার দায়িত্বে ছিলেন প্রতীক জৈন।
যদিও আইপ্যাক কাণ্ডে ইডির মামলার পালটা মামলা দায়ের করা হয়েছে মমতা ব্যানার্জির তরফে । ক্ষমতার অপব্যবহার করে নথি ছিনতাইয়ের অভিযোগ তুলে মামলা দায়ের করেছে ইডি। আবার আবার পালটা মামলা করেছে তৃণমূল কংগ্রেসও। হাইকোর্টের বিচারপতি শুভ্রা ঘোষের বেঞ্চে একসঙ্গে দুটি মামলার শুনানি ছিল আজ । তাছাড়াও পুরো ঘটনায় তিনটি এফআইআর দায়ের করা হয়েছে। একটি মামলা স্বতঃপ্রণোদিতভাবে এফআইআর রুজু করেছে কলকাতা পুলিশ। শেক্সপিয়র সরণি থানা এবং সল্টলেকের ইলেকট্রনিক কমপ্লেক্স থানায় অভিযোগ দায়ের করেন মুখ্যমন্ত্রী। যদিও তৃণমূল নিজেই আজ এই সমস্ত মামলার শুনানি হতে দেয়নি বলে অভিযোগ ।।

