দিব্যেন্দু রায়,ভাতার(পূর্ব বর্ধমান),০৮ এপ্রিল : আজ বুধবার মনোনয়ন জমা করলেন পূর্ব বর্ধমান জেলার ভাতার বিধানসভার তৃণমূল প্রার্থী শান্তনু কোঁয়ার । বর্ধমানে মনোনয়ন জমা দিয়েই বিকেল নাগাফ ভাতার ফিরে এসে দলীয় কর্মীদের সাথে নিয়ে বাড়ি বাড়ি প্রচারে নেমে পড়েন তিনি ৷ আর সেই সময় ভাতার বাজারের রবীন্দ্রপল্লি এলাকার এক প্রাক্তন সেনাকর্মীর বাড়ির সামনে এলে তিনি শান্তনুর কাছে ভোটার তালিকায় নিজের নাম “ডিলিট” হয়ে যাওয়া নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন৷ মন দিয়ে সেনাকর্মীর কথা শুনে তাঁকে ট্রাইবুনালে আবেদন করার পরামর্শ দেন তৃণমূল প্রার্থী । সেই সাথে তার পাশে থাকার বার্তাও দেন তিনি । শান্তনু কোঁয়ার বলেন,’একজন প্রাক্তন সেনা কর্মী নাম বাদ চলে যাওয়া কিছুতেই মেনে নেওয়া যায়না৷ এই ঘটনাকে আমি রাজনীতিকরণ করতে চাই না । তবে একজন স্থানীয় বাসিন্দা হিসাবে অসম্মানিত বোধ করছি ।’
জানা গেছে, ওই প্রাক্তন সেনাকর্মীর নাম তুষার কান্তি হাজরা (৭২) । তিনি মূলত ভাতার থানার সাহেবগঞ্জ-২ পঞ্চায়েতের গ্রামডিহি গ্রামের বাসিন্দা । ভারতীয় সেনার সিগন্যাল অপারেটর হিসাবে তিনি কর্মরত ছিলেন ৷ ১৯৮৯ সালে অবসর নেন । এরপর পশ্চিমবঙ্গ পুলিশের কনস্টেবলের পদে যোগ যোগ দেন । প্রথমে পুরুলিয়া এবং পরে বর্ধমানে কর্মরত ছিলেন । পুরুলিয়া এবং বর্ধমান মিলে রাজ্য পুলিশে দীর্ঘ ২২ বছর চাকরি জীবন কাটিয়ে তিনি অবসর নেন । অবসরের পর তিনি ভাতার বাজারের রবীন্দ্র পল্লি এলাকায় জায়গা কিনে বাড়ি তৈরি করে স্ত্রী রত্নমালা হাজরা, একমাত্র সন্তান ইন্দ্রজিৎ হাজরা এবং পুত্রবধূ সাথী সেন হাজরা নিয়ে বসবাস করছেন৷
তুষার কান্তি হাজরা বলেন,’গ্রামডিহি থেকে রবীন্দ্রপল্লীতে আসার এখানকার ভোটার হয়ে যাই৷ ২০২১ সালে বিধানসভা ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনে আমি ভোট দিয়েছি৷ কিন্তু এসআইআর চালু হওয়ার পর আমি নথিপত্র জমা দিলে তো খসড়া ভোটার তালিকা প্রকাশ হলে দেখতে পাই যে আমার নামের ওপর “ডিলিটেড” ছাপ দেওয়া আছে । যে কারণে এবার আমি ভোট দিতে পারব না । এটা নিয়ে আমি খুব উদ্বেগে আছি৷’
শান্তনু কোঁয়ার এইদিন-কে বলেন,’বলার কিছু নেই । ইনি ভারতীয় সেনাতে কর্মরত ছিলেন । যিনি দেশকে সেবা করেছেন৷ শৌর্যবীর্যের প্রতীক । আমি সেনাবাহিনীর রাজনীতিকরণ করব না । তবে একজন প্রাক্তন সেনা কর্মীরও আইডেন্টিটি ক্রাইসিস হয়ে গেছে নির্বাচন কমিশনের ভুলের জন্য৷ উনি এখন বৃদ্ধা স্ত্রীকে নিয়ে এই আশঙ্কায় দিন যাপন করছেন যে ভারতীয় নাকরিকত্ব তিনি ফিরে পাবেন কিনা৷ এটা নিয়ে আমার রাজনৈতিক বক্তব্য নেই, তবে সামাজিক ভাবে অত্যন্ত অসম্মানিত বোধ করছি ।’ তিনি আরও বলেন,’বৃদ্ধকে আমি ট্রাইবুনালে আবেদন করার পরামর্শ দিলাম । এছাড়া তো আমাদের কিছু করার নেই । কারন বিষয়টি আমাদের হাতে নেই ।’
জানা গেছে,তুষার কান্তি হাজরার দু’বার বিয়ে । তিনি বাবার প্রথমপক্ষের সন্তান৷ এসআইআর ফর্মে তিনি তার জীবিত সৎ মায়ের নাম নথিভুক্ত করেছিলেন । কিন্তু সৎ মায়ের সঙ্গে তার বয়সের পার্থক্য ১৪ বছর হওয়ার কারনে তার নাম চুড়ান্ত খসড়া তালিকায় ডিলিটেড দেখানো হয়েছে । তবে তিনি জানিয়েছে যে ইতিমধ্যেই তিনি ট্রাইবুনালে আবেদন করেছেন ।।
