এইদিন ওয়েবডেস্ক,দক্ষিণ দিনাজপুর,০৮ জানুয়ারী : সম্বল বলতে দুটো কুঁড়ে ঘর । দুই ঘরে রয়েছে দুটি বালব৷ আর রয়েছে একটা ভাঙাচোরা সাদাকালো টিভি । আর তাতেই পাঁচ বছরের বকেয়া বিল এল এক লক্ষ টাকারও বেশি ! বিদ্যুৎ দপ্তরের এই ফরমান না মানলে বিদ্যুৎ সংযোগ তো কাটা যাবেই, তার উপর মামলায় জেলে যাওয়ার ভয় । সেই আশঙ্কায় শেষ সম্বল এক চিলতে জমি বিক্রি করে বিদ্যুতের বিল মেটাতে বাধ্য হলেন আদিবাসী বৃদ্ধ দম্পতি । এই অমানবিক ঘটনাটি ঘটেছে দক্ষিণ দিনাজপুর জেলার কুমারগঞ্জের (Kumarganj) ধাদলপাড়া এলাকার । অফিসে বিল মিটিয়ে বের হওয়ার পর অশীতিপর বিশেন হেমব্রম ও তার স্ত্রী সীতা বাস্কেকে মাথা হেঁট করে বের হওয়ার সময় কেউ সেই দৃশ্য নিজের মোবাইল ক্যামেরায় ভিডিও রেকর্ড করে রাখেন । দম্পতিকে বিভিন্ন প্রশ্ন করার সময় বেরিয়ে আসে এই মর্মান্তিক কাহিনী৷ সোশ্যাল মিডিয়ায় ভিডিওটি ভাইরাল হলে পশ্চিমবঙ্গ বিদ্যুৎ পর্ষদের অমানবিকতা নিয়ে ক্ষোভে ফুঁসছেন নেটিজেনরা ।
কুমারগঞ্জ ব্লকের ধাদলপাড়া বড়িপুকুর এলাকায় বাড়ি বৃদ্ধ বিশান হেমরমের । ছোট্ট কুঁড়ে ঘরে বৃদ্ধা স্ত্রী সীতা বাস্কেকে নিয়ে বসবাস । বয়সের ভারে কেউ আর মাঠেঘাটে কাজে যেতে পারেন না । খুব সামান্য জমি ছিল। জমি ভাগে দিয়ে যেটুকু আয় হত তাতেই কোনো রকমে একবেলা খেয়ে তারা বেঁচে আছেন । সৌভাগ্য বা দুর্ভাগ্যক্রমে একটা বিদ্যুতের লাইন আছে ঘরে । দৈনন্দিন ব্যবহারের জন্য মাত্র একটি বা দুটি বাল্ব জ্বলে। আর আছে বলতে একটা ভাঙাচোরা সাদা কালো টিভি । তাও সন্ধ্যা থেকে ঘন্টাখানেক চলে । মিটার গোলমালের অজুহাতে দীর্ঘদিন দপ্তর থেকে কোনো বিল দেওয়া হয়নি। কিন্তু বিদ্যুৎ অফিস থেকে তাদের হঠাৎ করে জানানো হয় যে পাঁচ বছরে বিল বাবদ ৭৩ হাজার টাকা এবং সুদ বাবদ ৩৫ হাজার টাকা মিলিয়ে মোট ১ লক্ষ ৭-৮ হাজার টাকা জমা দিতে হবে । একথা শুনে কার্যত মাথায় বাজ পড়ে ওই আদিবাসী দম্পতির । দু’জন মিলে একাধিকবার বিদ্যুৎ দপ্তরে ছুটে গেছেন৷ কিন্তু অফিস বাবুদের মন গলেনি । অগত্যা শেষ সম্বল নিজেদের ৯ শতক জমি বিক্রি করে মঙ্গলবার ১ লক্ষ ১০ হাজার টাকা নিয়ে কুমারগঞ্জ বিদ্যুৎ অফিসে ছোটেন তাঁরা। তাঁদের দাবি, দপ্তর থেকে ১ লক্ষ ৩ হাজার টাকা নেওয়া হয়েছে। যদিও হাতে পাওয়া রসিদগুলি মেলালে দেখা যাচ্ছে টাকার অঙ্ক ৯৮,৩৪০ টাকা। তাহলে বাকি প্রায় ৫ হাজার টাকা কোথায় গেল ? যদিপ এর কোনো সদুত্তর মেলেনি। টাকা জমার পরই আজ বৃহস্পতিবার বিকেলে বাড়িতে বিদ্যুৎ সংযোগ জুড়ে দেওয়া হয় ।
এদিকে এই ঘটনার পর পশ্চিমবঙ্গ বিদ্যুৎ পর্ষদের অমানবিকতা ও চুড়ান্ত পেশাদারি মানসিকতা নিয়ে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি । এমনতিতে এরাজ্যের প্রতি ইউনিট বিদ্যুতের দাম অনান্য রাজ্যের থেকে অনেক বেশি দিতে হয় বলে অভিযোগ । তার উপর লাগামছাটা সার্ভিস ট্যাক্স চাপানো হয় বলে অভিযোগ ওঠে । তবে মাত্র দুটি বালব ব্যবহার করে কুমারগঞ্জের ধাদলপাড়া এলাকার বাসিন্দা বিশান হেমরমের মাসে গড়ে ১৬০০ টাকা বিদ্যুৎ বিল কীভাবে আসতে পারে ? এনিয়ে প্রশ্ন উঠছে । যদি মিটারের ত্রুটি থাকে তাহলে তার দায় কে নেবে ? যদিও বর্তমানে ছুটিতে থাকা কুমারগঞ্জ বিদ্যুৎ অফিসের স্টেশন ম্যানেজার নাজমুল হকের কাছ থেকে এসব প্রশ্নের উত্তর মেলেনি ।।

