এইদিন ওয়েবডেস্ক,নদীয়া,২১ জানুয়ারী : ভিন রাজ্যে মুর্শিদাবাদের পরিযায়ী শ্রমিকের আক্রান্ত হওয়ার প্রতিবাদে দু’দিন ধরে বেলডাঙ্গায় বিক্ষোভ সমাবেশ হিংসাত্মক রূপ ধারন করে । প্রথম দিন জেলাশাসক বিক্ষোভকারীদের সমস্ত শর্ত মেনে নিয়ে হাত জোড় করে কোনো রকমে বিক্ষোভ তুলতে সক্ষম হন । কিন্তু ঠিক তার পরের দিন একই ইস্যুতে বিক্ষোভ হিংসাত্মক রূপ ধারন করে । বেলডাঙ্গায় পরপর দু’দিন এই ঘটনার জন্য হুমায়ুন কবির ও আলাউদ্দিন ওয়াসিকে প্ররোচনা দেওয়া এবং রাজ্য সরকারের বিরুদ্ধে ভোটব্যাংকের স্বার্থে নিষ্ক্রিয় থাকার অভিযোগ তুলেছেন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী । তিনি আরও দাবি করেছেন,(মুসলিমরা) চায় মুর্শিদাবাদের ২৮ শতাংশ হিন্দু জমি জায়গা বেচে দিয়ে পালিয়ে যাক । মুর্শিদাবাদে একের পর দাঙ্গাকে ‘আন্তর্জাতিক ষড়যন্ত্র’ বলে অবিহিত করেন তিনি ।
“রাজ্যের ৯ টি জেলার ৬০০০ গ্রামে প্রদীপ জ্বলে না, শাঁখ বাজে না”
মঙ্গলবার বিকেলে নদীয়া জেলার কৃষ্ণনগর দক্ষিণের ধুবুলিয়ায় দলের ‘পরিবর্তন সংকল্প সভা’র শেষে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে এই দাবি করেন শুভেন্দু । তিনি বলেন,’বেলডাঙ্গায় যেভাবে পরপর দুদিন শুধু হামলা নয় হিন্দুদের টার্গেট করা হয়েছে । একটি হিন্দু হোটেল, শর্মা বা প্রসাদ হোটেলে ভাঙচুর করা হয়েছে, লুট করা হয়েছে । এরা চায় মুর্শিদাবাদের যে ২৮ শতাংশ হিন্দু আছে তারা জমি জায়গা বেচে দিয়ে পালিয়ে যাক ।’ তিনি বলেন,’তারপরে এদের টার্গেট হবে নদীয়া জেলা । নদীয়া জেলার দেবগ্রাম, পলাশী, কালিগঞ্জ থেকে শুরু করে করিমপুর পর্যন্ত এই বর্ডার এলাকায় আপনি যদি যান… রাজ্যের মোট নটি ৯ টি জেলার ৬০০০ গ্রামে আগে প্রদীপ জ্বলতো এখন প্রদীপ জলে না। আগে শাঁখ বাজতো এখন শাঁখ বাজে না। বাংলাদেশ বর্ডার এলাকায় এমন ৬ হাজার গ্রাম রয়েছে যেখানে একটাও মন্দিরের অস্তিত্ব রাখেনি । ঢোল বাজে না । মৃদঙ্গ খঞ্জনি বাজেনা । হরিনাম হয় না । তুলসী মঞ্চ নেই । এদের গ্রেটার বাংলাদেশ তৈরি করার ষড়যন্ত্র । আন্তর্জাতিক ষড়যন্ত্র ।’ মুর্শিদাবাদে অবিলম্বে প্যারা মিলিটারি ফোর্স নামানোর পাশাপাশি বেলডাঙ্গার হিংসার তদন্তভার এনআইএ-এর হাতে তুলে দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তিনি৷
“বেলডাঙ্গার হিংসায় গ্রেপ্তার হওয়া ৩৫ জনই ছাড়া পেয়ে যাবে,কারন এটা ওদের সরকার”
বিরোধী দলনেতা বলেন,’এই মামলায় ৩৫ জন গ্রেপ্তার হয়েছে, তবে এরা কয়েকদিন অ্যারেস্ট হয়ে থাকবে, এদের কোনো ক্ষতি নেই । এখন ওদের নেতা হয়েছে হুমায়ুন কবির । ধরা পড়েছে আসাউদ্দিন ওয়াইসির লোক । মমতা ব্যানার্জির হাতের বাইরে চলে গেছে । আর পুলিশ তো এদের দেখলে কিছু করবে না । নয় টেবিলের নিচে ঢুকবে, নয় শাটার নামিয়ে ভেতরে ঢুকে পড়বে। এই হচ্ছে এদের কাজ, দর্শকের ভূমিকা নেয় ।’ তিনি বলেন,’এদের প্রত্যেকের বাড়িতে রেশন পৌঁছে দিচ্ছে । এই জঙ্গিদের বাড়িতে । বলছে আমরা কয়েকদিন পর জামিন করিয়ে নেব । তারাও জানে যে জামিন করিয়ে নেবে । কারণ পশ্চিমবঙ্গে যে সরকার চলছে সে সরকারটা ওদের সরকার । ওরাও সব জায়গায় বলে । আপনি মাথায় হেলমেট না রাখলে আপনাকে হাজার টাকা ফাইন দিতে হয়। আর ওদের হেলমেট লাগেনা । এইরকম একটা পরিস্থিতিতে আজ। তাই এনআইএ হওয়া উচিত। এবং অবিলম্বে প্যারা মিলিটারি ফোর্স নামানো উচিত ।’
“বিজেপি এলে কার্বলিক অ্যাসিড দিয়ে পরিষ্কার হবে”
বিরোধী দলনেতা বলেন,’ভারত সরকারের আইনজীবী ও সুপ্রিম কোর্টে দাঁড়িয়ে বলেছে যে মুর্শিদাবাদে আমাদের হাতের কাছে পাঁচ কোম্পানির প্যারা মিলিটারি ফোর্স রয়েছে । আমরা এক্ষুনি মোতায়েন করে দিচ্ছি। পশ্চিমবঙ্গ কেন্দ্রীয় ফোর্স নেবেনা, বিজেপিকে আনতে হবে। বিজেপিকে আনলে একদম কার্বলিক অ্যাসিড দিয়ে পরিষ্কার হবে । ভালো ব্লিচিং ফিনাইল রেডি রাখবেন।’
“আগে জামাতকে হাঠাতে হবে তবেই শিল্প আসবে”
রাজ্যে শিল্পায়ন না হওয়ার জন্য আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতিকে দায়ি করেছেন শুভেন্দু অধিকারী৷ তিনি বলেন,’বেলডাঙা হলে, নাকাশিপাড়া হলে, বেথুয়াডহরি হলে, ধুলিয়ান হলে, শামসেরগঞ্জ হলে, জঙ্গিপুর সুতি হলে, রেজিনগর হলে, মোথাবাড়ি হলে, মহেশতলা হলে, কোনদিন কোন বিনিয়োগকারী বাংলায় আসবেনা৷ আগে জামাতি হটাও তারপরে এখানে সব হবে। আগে জামাতি হটাও । জামাতকে হাঠাতে হবে আগে৷ মুর্শিদাবাদের দাঙ্গা, বেলডাঙা দাঙ্গা পরিকল্পিত । এর সঙ্গে পি#আই রয়েছে । এর সঙ্গে মিম রয়েছে । এখানে হুমায়ুন কবিরের উস্কানি রয়েছে। আর মমতা ব্যানার্জি মুসলিম ভোট হারানোর ভয়ে তিনি এখানে কোন পদক্ষেপ নেবেন না ।’
“বাবরের নাম আমরা লিখতে দেব না”
হুমায়ুন কবিরের মসজিদের নাম “বাবরি” রাখতে দেবেন না বলে সতর্ক করে দেন শুভেন্দু অধিকারী । তিনি বলেন,’আমি কথা দিয়ে গেলাম, হিন্দু মন্দির বানাবে আপত্তি নেই । মুসলিম মসজিদ বানাবে আপত্তি নেই । কিন্তু বাবরের নাম আমরা লিখতে দেব না, দেব না, দেব না । বিজেপিকে আনবেন বাবর এর নাম আমরা লিখতে দেবো না । বাবর ভারতীয় নয় । মুঘল আর পাঠান হানা দিতে এসেছিল। ধর্ম পরিবর্তন করেছে । মন্দির ভেঙেছে । আমার মা-বোন-দিদির ইজ্জত লুট করেছে । বিজেপিকে আনলে কোথাও বাবর- জাহাঙ্গীর-শাহজাহান- আকবর-ঔরঙ্গজেবের নাম লেখা হবে না, হবে না, হবে না ৷’।

