প্রদীপ চট্টোপাধ্যায়,বর্ধমান,২৩ মার্চ : আলু চাষ করে দেখা যাচ্ছে না লাভের মুখ। এমন অবস্থায় গোপনে পোস্ত চাষে ঝোঁক বাড়ছে পূর্ব বর্ধমান জেলার চাষিদের একাংশের।তেমনি একজন হলেন জেলার জামালপুর ব্লকের চকদিঘী পঞ্চায়েত এলাকার হরগোবিন্দপুর গ্রামের তরুণ চাষি মন্টু সাহানা।সরকারি অনুমতির তোয়াক্কা না করেই তিনি তাঁদের চাষ জমির খানিকটা জায়গায় এবছর পোস্ত চাষ করে ফেলেন । সেখানে পোস্ত গাছে ফল ধরতেই শোরগোল পড়ে গ্রামে । পোস্ত চাষ এভাবে করা যায় কি না,তা নিয়ে গ্রামে এখন জোর গুঞ্জন চলছে। আসন্ন বিধানসভা ভোটের মুখে সেই গুঞ্জনকেই শাসক বিরোধী প্রচারের ইশ্যু বানিয়ে ফেলেছে বিরোধীরা।
নিষিদ্ধ নেশাদ্রব্য উৎপাদন হয় বলে ভারতে পোস্ত চাষ দণ্ডনীয় অপরাধ। ভারতে শুধুমাত্র সরকার কর্তৃক বিজ্ঞাপিত এলাকায় আইনসম্মত ভাবে পোস্ত চাষ করা সহ তা থেকে আফিম আঠা উৎপাদন করা যায়। সরকার কর্তৃক বিজ্ঞাপিত এলাকা ছাড়া দেশের আর কোনও জয়গায় করা যায় না আফিম-পোস্ত চাষ।বিজ্ঞাপিত সেই এলাকা গুলি শুধুমাত্র মধ্যপ্রদেশ, রাজস্থান ও উত্তরপ্রদেশে সীমাবদ্ধ হয়েছে। বঙ্গে পোস্ত চাষ বেআইনি।
সরকারী এত বিধিনিষেধ থাকা সত্ত্বেও মন্টু সাহানা কিসের বলে রাস্তার ধারে থাকা তাঁদের জমিতে পোস্ত চাষ করার স্পর্ধা দেখালেন,সেই প্রশ্ন এখন এলাকার সবার মুখে মুখে ঘুরে বেড়াচ্ছে। এ নিয়ে মন্টু সাহানার সাফাই,’তিনি তাঁদের সামান্য জমিতে পরীক্ষামূলক ভাবে পোস্ত চাষ করেছেন। পরীক্ষার উদ্দেশ্য কি তা অবশ্য মন্টু বাবু খোলসা করেননি ।’ তবে তিনি বলেন,’আমি আলু চাষ করি।আলু চাষ করে চাষিদের কি অবস্থা এখন সেটা তো বুঝতেই পারছেন।তাই আমাদের এলাকার জলবায়ু ও মাটিতে পোস্ত চাষ হয় কিনা সেটাই আমি পরীক্ষামূলক ভাবে দেখছিলাম।’ কিন্তু কেউ মনে করলেই কি পশ্চিম বাংলায় পরীক্ষামূলক ভাবে পোস্ত চাষ করতে পারেন ? এই প্রশ্ন শুনে একটু ঢোক গিলে মন্টু সাহানা বলেন,’আইনের সব ব্যাপার আমি জানি না।’
এদিকে বিধানসভা ভোটের মুখে এই বেআইনি পোস্ত চাষ কাণ্ড সামনে আসতেই তুঙ্গে উঠেছে শাসক ও বিরোধীদের তর্জা। বামপন্থী কৃষক সংগঠন সারা ভারত কৃষক সভার রাজ্য কমিটির সদস্য বিনোদ ঘোষ এই প্রসঙ্গে রবিবার বলেন,’বিকল্প চাষে চাষিদের আগ্রহ থাকাটা ভালো । তা বলে পোস্ত চাষ নয়।সেটা বেআইনি কাজ হবে । তবে মনে হচ্ছে,“বিকল্প চাষ ও উৎপাদিত কৃষিজ ফসলের সহায়ক মূল্য পাওয়ার ক্ষেত্রে সরকার ভূমিকা না নেওয়াতেই কৃষকরা বাঁচার স্বার্থে এইসব পথ নিচ্ছে।’ অন্যদিকে বিজেপির জামালপুর-১ মণ্ডল সভাপতি প্রধানচন্দ্র পাল বলেন,’তৃণমূলের রাজত্বে আইনের শাসন বলে কিছু নেই। তাই চোলাই মদের রমরমা কারবার চালানো থেকে শুরু করে পোস্ত চাষ করা, সবই সম্ভব হচ্ছে ।’
যদিও বিরোধীদের এই সব দাবি নস্যাৎ করে দিয়েছেন জামালপুর বিধানসভার তৃণমূল প্রার্থী ভূতনাথ মালিক। তিনি বলেন,’বাংলায় কৃষি ও কৃষকদের উন্নতি সাধনে তৃণমূল নানাবিধ কাজ করেছে। তার পরেও কেউ যদি পরীক্ষার নামে গোপনে বেআইনি ভাবে পোস্ত চাষ করে থাকে,তার দায় কখনই সরকারের হতে পারে না।’ একই ভাবে বিডিও (জামালপুর ) পার্থসারথী দে পরিস্কার জানিয়ে দিয়েছেন,’বাংলায় পরীক্ষামূলক ভাবেও কেউ পোস্ত চাষ করতে পারেন না।যদি কেউ করে থাকেন, সেটা বেআইনি কাজ হয়েছে। ওই গাছ নষ্ট করে দেওয়া হবে ।’।
