এইদিন আন্তর্জাতিক ডেস্ক,১৪ ফেব্রুয়ারী : ইরানে বড় ধরনের হামলার প্রস্তুতি নিচ্ছে মার্কিন সামরিক বাহিনী । দু’একদিনের জন্য নয়,সম্ভাব্য কয়েক সপ্তাহের ধারাবাহিক অভিযান চলবে বলে আমেরিকার দুজন কর্মকর্তার উদ্ধৃতি দিয়ে বলেছে সংস্থা রয়টার্স । ওই আন্তর্জাতিক সংবাদ সংস্থাকে কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, মনে করা হচ্ছে যে সম্ভাব্য এই সংঘাত দুই দেশের মধ্যে অতীতে দেখা দেওয়া উত্তেজনার চেয়েও অনেক বেশি গুরুতর ও ধ্বংসাত্মক হতে পারে।
তেহরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে কূটনৈতিক আলোচনা ফের শুরু করার প্রচেষ্টায় গত সপ্তাহেই ওমানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের কূটনীতিকরা বৈঠক করেন। তবে এই বৈঠকের সমান্তরালে মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন শক্তি বৃদ্ধির খবরে বড় ধরনের সামরিক পদক্ষেপের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। শুক্রবার মার্কিন কর্মকর্তারা জানান, মধ্যপ্রাচ্যে অতিরিক্ত একটি বিমানবাহী রণতরী পাঠানো হচ্ছে। এর সঙ্গে মোতায়েন করা হবে কয়েক হাজার অতিরিক্ত সেনা, যুদ্ধবিমান, গাইডেড-মিসাইল ডেস্ট্রয়ার এবং হামলা ও প্রতিরোধে সক্ষম অন্যান্য সামরিক সরঞ্জাম।
এই বিষয়ে হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র আনা কেলি বলেন, ‘ইরানের বিষয়ে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের সামনে সব বিকল্পই খোলা আছে। যেকোনো বিষয়ে তিনি বিভিন্ন মতামত শোনেন, তবে শেষ সিদ্ধান্ত নেন নিজেই। আর সেটা আমাদের দেশ ও জাতীয় নিরাপত্তার সর্বোত্তম স্বার্থ বিবেচনায় রেখেই নেওয়া হয়।’ তবে পেন্টাগন এই বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে।
গত বছর যুক্তরাষ্ট্র মধ্যপ্রাচ্যে দুটি বিমানবাহী রণতরী পাঠিয়েছিল। গত জুনে ‘মিডনাইট হ্যামার’ নামের এক অভিযানে যুক্তরাষ্ট্রের স্টেলথ বোমারু বিমান সরাসরি ইরানের পারমাণবিক স্থাপনায় আঘাত হানে। সে সময় এর প্রতিক্রিয়ায় ইরান কাতারের একটি মার্কিন ঘাঁটিতে সীমিত পাল্টা হামলা চালিয়েছিল।
তবে কর্মকর্তাদের মতে, এবারের পরিকল্পনা অনেক বেশি বিস্তৃত ও জটিল। একজন কর্মকর্তা জানান, এই অভিযানে যুক্তরাষ্ট্র কেবল পারমাণবিক অবকাঠামো নয়, বরং ইরানের রাষ্ট্রীয় ও নিরাপত্তা-সংশ্লিষ্ট গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাগুলোকেও লক্ষ্যবস্তু করতে পারে।বিশেষজ্ঞদের মতে, ইরানের শক্তিশালী ক্ষেপণাস্ত্র ভাণ্ডার থাকায় এই অভিযানে মার্কিন বাহিনীর জন্য ঝুঁকি থাকবে অনেক গুণ বেশি। অন্যদিকে ইরানের পাল্টা হামলা পুরো মধ্যপ্রাচ্যে আঞ্চলিক সংঘাতের ঝুঁকি বাড়িয়ে তুলতে পারে। ইরানের রেভল্যুশনারি গার্ড ইতিমধ্যে সতর্ক করে বলেছে, ইরানের ভূখণ্ডে হামলা হলে তারা মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থিত যেকোনো মার্কিন সামরিক ঘাঁটিতে পাল্টা আঘাত হানবে।।
