এইদিন আন্তর্জাতিক ডেস্ক,০৫ এপ্রিল : ইরানের কোহগিলুয়েহ প্রদেশে বিধ্বস্ত হয়েছিল একটি মার্কিন এফ-১৫ যুদ্ধবিমান । ইরানের বিপ্লবী রক্ষীবাহিনী (আইআরজিসি) দ্বারা অবরুদ্ধ প্রদেশ । একজন ক্রু সদস্য বিমানের ভিতরেই মারা যান৷ তবে অন্যজন জীবিত আছেন । এখন ফক্স নিউজ এবং অ্যাক্সিওস জানিয়েছে যে, ইরানে বিধ্বস্ত হওয়া এফ-১৫ যুদ্ধবিমানের দ্বিতীয় ক্রু সদস্যকে যুক্তরাষ্ট্রের বিশেষ বাহিনী উদ্ধার করেছে। অ্যাক্সিওসের সাথে কথা বলা তিনজন মার্কিন কর্মকর্তার মতে, শনিবার ব্যাপক আকাশপথের নিরাপত্তা বা ‘এয়ার কভার’-এর সহায়তায় একটি বিশেষায়িত কমান্ডো ইউনিট এই অভিযানটি পরিচালনা করে। অ্যাক্সিওস একজন মার্কিন কর্মকর্তার উদ্ধৃতি দিয়ে জানায় যে, এই অভিযানের সময় মার্কিন বাহিনী ব্যাপক গোলাবর্ষণ করেছিল এবং অভিযানে অংশগ্রহণকারী সকল বাহিনী এখন ইরান ত্যাগ করেছে।
বিষয়টি সম্পর্কে অবগত দুটি সূত্রের মতে, শুক্রবার জরুরি নির্গমন বা ‘ইমার্জেন্সি এক্সিট’-এর পর যুদ্ধবিমানটির পাইলট এবং অস্ত্র ব্যবস্থা কর্মকর্তা (Weapons Systems Officer) তাদের যোগাযোগ ব্যবস্থার মাধ্যমে যোগাযোগ স্থাপন করতে সক্ষম হয়েছিলেন। প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইসলামিক রিপাবলিকের বাহিনীকে অভিযানের ঘটনাস্থলে পৌঁছানো থেকে বিরত রাখার প্রচেষ্টায় মার্কিন বিমান বাহিনীর যুদ্ধবিমানগুলো নির্দিষ্ট কিছু অবস্থানে লক্ষ্যবস্তু নির্ধারণ করে হামলা চালায়। অ্যাক্সিওস আরও জানায় যে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং তাঁর দলের ঊর্ধ্বতন সদস্যরা হোয়াইট হাউসের ‘সিচুয়েশন রুম’ থেকে এই উদ্ধার অভিযানটি পর্যবেক্ষণ করেছিলেন।
৩০ বছরের ওই মার্কিন পাইলটকে প্রাণে বাঁচায় ইরানের সাধারণ মানুষ
ইরানের বিপ্লবী রক্ষীবাহিনী (আইআরজিসি) দ্বারা অবরুদ্ধ কোহগিলুয়েহ প্রদেশে পাঁচটি মার্কিন ব্ল্যাক হক হেলিকপ্টার প্রবেশ করতে ব্যর্থ হয়ে । দুটি ধ্বংস হয়ে যায় এবং তিনটি ইয়াসুজ থেকে পালিয়ে যায়। যে প্রদেশে বছর ত্রিশের এই মার্কিন পাইলটের খোঁজে বোমা ফেলেছিল মার্কিন বাহিনী । তবে স্থানীয় বাসিন্দারাই তাকে প্রথম খুঁজে পেয়েছিল।মার্কিন বিমানবাহিনীর একটি CWU-27/P নোমেক্স ফ্লাইট স্যুট পরা। একটি SJU-5/A সারভাইভাল ভেস্ট, যাতে রয়েছে সেফটি স্ট্র্যাপ, গিয়ার পকেট এবং বুকে লাগানো একটি সারভাইভাল রেডিও হোলস্টার। একটি স্ট্রোব লাইট লাগানোর জায়গা। নামের টেপ এবং ইউনিটের ব্যাজগুলো খুলে ফেলা হয়েছে—শত্রু আকাশসীমার ওপর দিয়ে যুদ্ধ অভিযানের জন্য এটি একটি সাধারণ নিয়ম। পাইলটরা অভিযানের আগে তাদের পরিচয়সূচক প্রতীক খুলে ফেলেন।
তার ডান কানের পাশে ও গালে রক্ত। বিমান থেকে ছিটকে পড়ার সময় আঘাতগুলো লেগেছে । তীব্র গতির বাতাসে প্যারাসুটের ক্যানোপি ছিঁড়ে গিয়েছিল। জ্ঞান ছিল। দিশেহারা, কিন্তু সতর্ক। তার ফ্লাইট স্যুটটি ময়লা ও জীর্ণ—দুর্গম ভূখণ্ডে ঘণ্টার পর ঘণ্টা মাটিতে থাকার ফল। তার সারভাইভাল ভেস্টটি সরঞ্জামসহ সম্পূর্ণ সুরক্ষিত ছিল। তার সরঞ্জাম ফেলে দেওয়ার সময় ছিল না। পালানোর সময় ছিল না। আত্মগোপন করার আগেই তাকে খুঁজে পাওয়া যায়। সড়কপথে ইরানি বিপ্লবী রক্ষীবাহিনী কুড়ি মিনিটের দূরত্বে।
শুক্রবার রাত ১:০২ মিনিটে চাহারদেহ গ্রামের উপর আরও হেলিকপ্টার পাঠায় আমেরিকা । বেসামরিক নাগরিক ও মার্কিন বাহিনীর মধ্যে সংঘর্ষ শুরু হয়। প্রাদেশিক গভর্নর জানিয়েছেন যে, যুক্তরাষ্ট্রের অভিযানের ফলে তিনজন নিহত হয়েছে। পাইলটটি যেখানে লুকিয়ে ছিলেন, সেই প্রদেশে আমেরিকা রাতভর বোমাবর্ষণ করছে।
একজসরপ্রাপ্ত মেরিন সেনা সিএনএন-কে জানিয়েছেন যে, বেসামরিক নাগরিকরাই হয়তো ওই পাইলটকে আশ্রয় দিয়ে রেখেছে—অর্থাৎ তাকে সুরক্ষা দিচ্ছে। বেসামরিক নাগরিকরা তাদের মোবাইল ফোন দিয়ে তার ভিডিও রেকর্ড করে সোশ্যাল মিডিয়া পোস্ট করে । তারাই ওই পাইলটকে আশ্রয় দিয়ে সুরক্ষিত রাখে ।।
