প্রদীপ চট্টোপাধ্যায়,বর্ধমান,১১ মার্চ : বেলা তখন ১০ টা। দুর্গাপুর এক্সপ্রেসওয়ের বর্ধমানমুখী লেন দিয়ে তখন একের পর এক ট্রাক, লরি, ডাম্পার ও অন্যান্য যানবাহন যাতায়াত করছিল। তারমধ্যে পূর্ব বর্ধমানের মেমারির সরডাঙায় ধীর ধীরে বসছিল সম্প্রসারিত ১৯ নম্বর জাতীয় সড়ক নির্মানে ব্যবহার করা “ছাইয়ের“ স্তর । এর কিছু সময়ের মধ্যেই জাতীয় সড়কের নীচের ইটের ’ব্লক ’ সমেত প্রায় ৪০ ফুট লম্বা অংশ হুড়মুড়িয়ে ধসে পড়ে।এমনটা দেখা মাত্রই সরডাঙায় দুর্গাপুর এক্সপ্রেসওয়েতে কর্তব্যরত মেমারি থানার ট্রাফিক হোমগার্ডরা বর্ধমানমুখী লেনে যানবাহন চলাচল বন্ধ করিয়ে দিলে দুর্ঘটনা এড়ানো সম্ভব হয়। স্থানীয়দের অভিযোগ,নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহার কাজের গাফিলতির জন্যেই সরডাঙার জাতীয় জাতীয় সড়কের আন্ডারপাসটি নির্মাণের পাঁচ মাসের মধ্যে ধসে পড়লো।
জেলা পুলিশের ডিএসপি (ট্রাফিক) আশিস মণ্ডল বলেন,’জাতীয় সড়ক কর্তৃপক্ষকে খবর দেওয়া হয়েছে। একটা লেন বন্ধ রেখে গাড়িগুলিকে সার্ভিস রোড দিয়ে বের করে দেওয়া হচ্ছে। জাতীয় সড়ক কর্তৃপক্ষের বিশেষজ্ঞ দল ঘটনাস্থলে এস সব দেখার পরে যে রিপোর্ট দেবে তার ভিত্তিতে পরবর্তী পদক্ষেপ করা হবে।’ দুর্গাপুর এক্সপ্রেসওয়ের প্রকল্প অধিকর্তা (কলকাতা) প্রশান্ত শ্রীবাস্তব বলেন,’পরিদর্শন দল ঘটনাস্থলে গিয়ে নমুনা সংগ্রহ করবে। কেন এ ধরণের ঘটনা ঘটল, তার তদন্তও হবে।’
রাজ্যের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সড়কপথ। গত কয়েক বছর ধরে দুর্গাপুর এক্সপ্রেসওয়ে ৬ লেনে উন্নীত করা হয়েছে। গাড়ির গতি বাড়ানোর জন্যে অনেকয়ছোট মোড়গুলিতে আন্ডারপাস করা হয়েছে, তেমনি বড় মোড়ে উড়ালপুল তৈরি হয়েছে। এ ছাড়াও রাস্তার দু’ধারে সার্ভিস রোড করা হয়েছে। কিন্তু মাত্র ৫-৬ মাস আগে সম্প্রসারণ কাজ শেষ হওয়া জাতীয় সড়কের আন্ডারপাশ ধসে পড়ায় কাজে মান নিয়ে প্রশ্ন উছে গিয়েছে।
সরডাঙা এলাকার বাসিন্দাদের অনেকেই এদিন বলেন, রাস্তাকে ধরে রাখার জন্যে ইটের ব্লকের গাঁথনিতে একমাস আগেই ফাটল দেখা গিয়েছিল। এ দিন সকাল সাড়ে ৯টা নাগাদ একটি ব্লক প্রথম খুলে পড়ে যায়। তারপর ১০ মিনিটের মধ্যে বাকি ব্লকগুলি খুলে পড়ে।” প্রত্যক্ষদর্শীদের কয়েকজন বলেন, জাতীয় সড়কের নিচের অংশ ভরাটের জন্য
ব্যবহার করা হয়েছিল ছাই । সেই ছাইয়ের স্তুপ সরে যেতেই রাস্তার একাংশ ধসে পড়েছে। ভাগ্যিস ওই সনয়ে কোনও গাড়ি যায়নি। তাহলে বড় অঘটন ঘটে যেত। ট্রাফিক হোমগার্ড বাপ্পা শেখ, নিখিলেশ শ্রীবাস্তব, জাকির হোসেনরা বলেন,’জাতীয় সড়কের একাংশ ধসে পড়ার পরেই আমরা বর্ধমান মুখী লেনের দু’দিক আটকে দি। সে কারণেই রাস্তা ভেঙে পড়লেও কোনও দুর্ঘটনা বা গাড়ি পড়ে যাওয়ার মতো ঘটনা ঘটেনি।হতাহতের কোন ঘটনাও ঘটেনি ।’ খবর পেয়েই মেমারি থানার ওসি প্রীতম বিশ্বাস ঘটনাস্থলে ছুটে গিয়ে সব খতিয়ে দেখে জেলা পুলিশের রিপোর্ট করেন।
বিধায়ক (মেমারি) মধুসূদন ভট্টাচার্যের কটাক্ষ,’এই হচ্ছে কেন্দ্রীয় সরকারের কাজের নমুনা। বড় বিপদ ঘটলে তার দায় কে নিত? নিম্নমানের যে কাজ হয়েছে, তা বলার অপেক্ষা রাখে না।’ যদিও বিজেপির কাটোয়া সাংগঠনিক জেলার সভানেত্রী স্মৃতিকণা বসুর দাবি,’গোটা দেশে জাতীয় সড়ক কর্তৃপক্ষ রাস্তা বানাচ্ছে। কোথাও এ রকম ঘটনা ঘটছে না। তাহলে এখানে কেন ঘটল, সেটা ভাববার বিষয়। তদন্ত নিশ্চই সব বেরিয়ে যাবে।’।
