এইদিন ওয়েবডেস্ক,নয়াদিল্লি,০৭ মার্চ : আজ শনিবার নবম আন্তর্জাতিক সাঁওতাল সম্মেলনে যোগ দিতে বাংলার উত্তরবঙ্গে এসে চরম অপমানিত হয়ে হয় রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু (President Droupadi Murmu ) । প্রথমতঃ, খোদ রাষ্ট্রপতি মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জির বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগরে দিয়ে বাংলায় তাঁকে সভা করতে দেওয়া হয়না বলে অভিযোগ তোলেন । সেই সাথে আজ রাষ্ট্রপতি বাগডোগরা বিমানবন্দরে নামার পর তাঁকে স্বাগত জানানোর জন্য প্রোটোকল অনুযায়ী মুখ্যমন্ত্রী বা মন্ত্রিসভার কোনো সিনিয়র ক্যাবিনেট মন্ত্রীর উপস্থিত না থেকে শিলিগুড়ির মেয়র গৌতম দেবকে পাঠানো হয় । যেটা দেশের সাংবিধানিক প্রধানের চরম অবমাননা হিসাবে দেখা হচ্ছে । রাষ্ট্রপতি নিজেও একে ‘রীতিবিরুদ্ধ আচরণ’ বলে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন ।
এই প্রসঙ্গে এবারে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর কড়া প্রতিক্রিয়া সামনে এসেছে । রাষ্ট্রপতির সঙ্গে রাজ্য সরকারের এই আচরণকে প্রধানমন্ত্রী রাজ্যের “তৃণমূল সরকারের সমস্ত সীমা লঙ্ঘন” বলে অবিহিত করেছেন । তিনি এক্স-এ লিখেছেন,’এটি লজ্জাজনক এবং অভুতপূর্ব। গণতন্ত্র এবং জনজাতি সম্প্রদায়ের ক্ষমতায়নে বিশ্বাসী মানুষজন সকলেই মর্মাহত। জনজাতি সম্প্রদায় থেকেই উঠে আসা রাষ্ট্রপতি মহোদয়ার প্রকাশিত বেদনা ও উদ্বেগ ভারতের মানুষের মনে গভীর দুঃখের সঞ্চার করেছে।পশ্চিমবঙ্গের তৃণমূল কংগ্রেস সরকার সত্যিই সমস্ত সীমা লঙ্ঘন করেছে। রাষ্ট্রপতির প্রতি এই অসম্মানের জন্য তাদের প্রশাসনই দায়ী।এটিও অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক যে সাঁওতাল সংস্কৃতির মতো গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয়কে পশ্চিমবঙ্গ সরকার এতো হালকাভাবে দেখছে।রাষ্ট্রপতির পদ রাজনীতির ঊর্ধ্বে এবং এই পদের গরিমা সর্বদা রক্ষা করা উচিত। আশা করা যায় পশ্চিমবঙ্গ সরকার ও তৃণমূল কংগ্রেসের শুভবুদ্ধির উদয় হবে।’
যদিও মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জির দাবি,’ওঁর (দ্রৌপদী মুর্মু) আজকের অনুষ্ঠানের কথা আমি জানতামই না। এটা কোনও সরকারি অনুষ্ঠান তো নয়, সম্পূর্ণ বেসরকারি। রাজ্যের কোনও ভূমিকা নেই। আমরা কী করব এখানে? আমি এখন ধর্ণায় আছি। মানুষ ভোটাধিকার হারাচ্ছেন, তাঁদের হয়ে লড়াই করছি। এখন তো এটাই আমার কাছে সবচেয়ে প্রয়োজনীয় কাজ। আপনি বিজেপির অগ্রাধিকার হতে পারেন, আমার কাছে আমার জনতাই সব।’ রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মুর উদ্দেশে মুখ্যমন্ত্রী বললেন,’আমি দুঃখিত কিন্তু বলতে বাধ্য হচ্ছি, ম্যাডাম, আপনাকে বিজেপি ব্যবহার করছে।’।

