এইদিন ওয়েবডেস্ক,বাংলাদেশ,১৯ জানুয়ারী : চট্টগ্রামে আইনজীবী সাইফুল ইসলামকে আদালত চত্বরে হত্যার মিথ্যা মামলায় সনাতনী জাগরণ জোটের মুখপাত্র চিন্ময় কৃষ্ণ দাসসহ ৩৯ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের মাধ্যমে বিচার শুরুর আদেশ দিয়েছেন আদালত। আজ সোমবার চট্টগ্রাম বিভাগীয় দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালের বিচারক জাহিদুল হক শুনানি শেষে এই আদেশ দেন। দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালের সরকারি কৌঁসুলি এস ইউ এম নুরুল ইসলাম আদেশের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, ‘চিন্ময়সহ ৩৯ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দিয়েছেন আদালত। আগামী ধার্য দিন থেকে সাক্ষ্য নেওয়া শুরু হবে।’
প্রসঙ্গত,২০২৪ সালের ২৬ নভেম্বর সনাতনী জাগরণ জোটের মুখপাত্র চিন্ময় দাসকে চট্টগ্রাম ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে তোলা হয় । ওই দিন চিন্ময় দাসের জামিনের শুনানি ছিল । যাতে ওই নিরীহ সন্নাসীর পক্ষে জামি কোনো আইনজীবী আদালতে সওয়াল জবাব না করতে পারেন সেজন্য আগে থেকেই জামাত ইসলামি ও বিএনপির প্রচুর কর্মী সমর্থক জড়ো হয়েছিল। সেই সময় আইনজীবী সাইফুল ইসলামকে আদালত চত্বরে নির্মমভাবে কুপিয়ে ও পিটিয়ে হত্যা করা হয় । অভিযোগ ওঠে যে আইনজীবীকে হিন্দু মনে করেই হত্যা করেছে জামাত ইসলামি ও বিএনপির লোকজন । কিন্তু এই নৃসংশ হত্যার দায় চাপিয়ে দেওয়া হয় চিন্ময় দাসের উপর । যদিও হত্যাকান্ডের সময় তিনি আদালতে বিচারকের এজলাসের মধ্যে ছিলেন । এই হত্যার ঘটনায় মৃতের বাবা জামাল উদ্দিন ৩১ জনের নাম উল্লেখ করে হত্যা মামলা করেন। তিনি মূল আসামি করেন চিন্ময় কৃষ্ণ প্রভুকে । এ ছাড়া পুলিশের ওপর হামলা, কাজে বাধা এবং আইনজীবী ও বিচারপ্রার্থীদের ওপর হামলা ও ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনায় আরও পাঁচটি মামলা হয়।
চিন্ময় বাদে বাকি অভিযুক্তরা হলেন- চন্দন দাস মেথর, রিপন দাস, রাজীব ভট্টাচার্য্য, শুভ কান্তি দাস, আমান দাস, বুঞ্জা, রনব, বিধান, বিকাশ, রমিত প্রকাশ দাস, রুমিত দাস, নয়ন দাস, ওমকার দাস, বিশাল, লালা দাস, সামীর, সোহেল দাশ রানা, শিব কুমার, বিগলাল, পরাশ, গণেশ, ওম দাস, পপি, অজয়, দেবীচরণ, দেব, জয়, লালা মেথর, দুর্লভ দাস, সুমিত দাস, সনু দাস, সকু দাস, ভাজন, আশিক, শাহিত, শিবা দাস, দ্বীপ দাস ও সুকান্ত দত্ত। মামলার ৩৯ জন অভিযুক্তের মধ্যে ১৬ জন এখনও পলাতক আছেন। তাদের বিরুদ্ধে আদালতের গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করা আছে।
অভিযোগপত্রে চিন্ময় কৃষ্ণ দাস ব্রহ্মচারীকে আইনজীবী সাইফুল ইসলাম আলিফ হত্যাকাণ্ডে সহযোগিতাকারী ও উস্কানিদাতা হিসেবে উল্লেখ করা হয়। এতে বলা হয়, অন্যান্য আসামিরা তার নির্দেশ ও প্ররোচনায় সংঘবদ্ধভাবে হত্যাকাণ্ড সংঘটিত করে।
আলোচিত এই হত্যা মামলার শুনানিকে ঘিরে আজ সোমবার চট্টগ্রামের আদালতপাড়ায় নিরাপত্তা জোরদার করা হয়। মূল ফটকে বসানো হয় তল্লাশিচৌকি। এতে আদালতের আশপাশের কয়েক কিলোমিটার এলাকাজুড়ে যানজটের দুর্ভোগে পড়তে হয় মানুষকে। কড়া নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে সকাল পৌনে ১০টার দিকে চিন্ময়সহ এই মামলার ২৩ আসামিকে চট্টগ্রাম কারাগার থেকে আদালতে হাজির করা হয়।
শুনানিতে চিন্ময়কে নির্দোষ দাবি করে তাঁকে মামলা থেকে অব্যাহতির জন্য আবেদন করেন তাঁর আইনজীবী অপূর্ব কুমার ভট্টাচার্য। এ সময় রাষ্ট্রপক্ষ এতে আপত্তি জানায়। উভয় পক্ষের শুনানি শেষে আদালত ৩৯ আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করেন। এর আগে আদালতে উপস্থিত আসামিদের তাঁদের বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ পড়ে শোনান বিচারক। এ সময় চিন্ময় দাস বলেন, তিনি নির্দোষ। এই ঘটনার সঙ্গে কোনোভাবেই জড়িত নন। মামলায় দেওয়া অভিযোগপত্রটি ত্রুটিপূর্ণ।
পুলিশের দাবি,সাইফুল হত্যার আসামিদের মধ্যে আওয়ামীলীগ নেতা চন্দন দাস, রিপন দাস ও রাজীব ভট্টাচার্য আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। এতে উল্লেখ করা হয়, আইনজীবীর ঘাড়ে বঁটি দিয়ে দুটি কোপ দেন রিপন দাস; আর কিরিচ দিয়ে কোপান চন্দন দাস। পরে রাস্তায় পড়ে থাকা সাদা শার্ট ও কালো প্যান্ট পরা এই আইনজীবীকে লাঠি, বাটাম, ইট, কিরিচ ও বঁটি দিয়ে তাঁরা ১৫ থেকে ২০ জন পিটিয়ে ও কুপিয়ে হত্যা করেন। ঘটনার উসকানিদাতা হিসেবে চিন্ময়কে এই মামলার আসামি করা হয়।কিন্তু কখন উসকানি দিয়েছে এখনো প্রমান করতে পারেনি আদালত । পাশাপাশি ওই যুবকদের অত্যাচার করে পুলিশ জোর করে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি আদায় করে নিয়েছে বলেও অভিযোগ উঠছে ।
এদিকে আদালতে হাজির হন আইনজীবী সাইফুলের বাবা জামাল উদ্দিন। আদালত প্রাঙ্গণে তিনি বলেন, ‘আসামিদের বিচার শুরুর আজ আদেশ হয়েছে, আমি এতে খুশি। বিচারটি যাতে দ্রুত শেষ হয়, ছেলে হত্যার বিচার দেখে যাতে মরতে পারি, সেটিই চাই।’।
