একবিংশ শতাব্দীতে মানবসভ্যতা অনেকটাই এগিয়ে গেছে ৷ নিত্যনতুন আবিষ্কার হচ্ছে বিজ্ঞানের জগতে । জীবনযাত্রার মান হয়েছে অনেক উন্নত । বদলে যাচ্ছে খাদ্যাভ্যাসও । কিন্তু আদিম প্রবৃত্তির জাল থেকে কথিত “সভ্য মানুষ”রা কিছুতেই বের হতে পারছে না । যৌনতা হল এমনই এক আদিম প্রবৃত্তি, যাকে মানুষ বিভিন্ন রূপে,বিভিন্ন ভাবে উপভোগ করতে চায়৷ সমাজের বিভিন্ন স্তরের বিকৃতকাম মানুষের বিনোদন করতে অশ্লীল চলচিত্রের জন্য ইন্টারনেটের বিভিন্ন সাইট রয়েছে । অর্থের বিনিময়ে সেখানে মিলে যাবে বিভিন্ন বয়সের যৌনতার ভিডিও৷ এমনকি পশুদের সঙ্গে মানুষের যৌনতার ভিডিও পর্যন্ত ওই সাইটগুলিতে উপলব্ধ । আর মানুষের এই ঘৃণ্য কদর্য নেশার খোরাক জোগাতে বলি হচ্ছে অসংখ্য শিশুর শৈশব । এমনই এক শিশুকন্যার করুণ পরিনতির কাহিনী এক্স-এ বর্ননা করেছেন জাস্টিস ডিফেন্স ফান্ড-এর সহ- প্রতিষ্ঠাতা/ সিইও লায়লা মিকেলওয়েট (@Laila Mickelwait) । তার এক্স প্রোফাইল অনুযায়ী, তিনি ট্র্যাফিকিংহাব-এর প্রতিষ্ঠাতা এবং টেকডাউনের লেখক ।
লায়লা মিকেলওয়েট লিখেছেন,“৮ বছর ধরে, আমি শত শত পুরুষ, মহিলা এমনকি বিবাহিত দম্পতিদের দ্বারা ধর্ষিত, মারধর এবং ভিডিও ধারণ করেছি। আমি কখনও ভাবিনি যে আমি ১৮ বছর পর্যন্ত বেঁচে থাকব…”। নিচে P*rnhub-তে লাভের জন্য শোষিত এক শিশুর গল্প রয়েছে, যা তার নিজের ভাষায় বলা হয়েছে এবং অনুমতি নিয়ে শেয়ার করা হয়েছে। তিনি আমাদের কাছে পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য অনুরোধ করেছেন — নীচে দুটি উপায়ে আমরা পদক্ষেপ নিতে পারি।
“সতর্কতা: বিরক্তিকর বিষয়বস্তু” :
“৯ বছর বয়সে, আমার আসল মা আমাকে মাদক এবং অর্থের বিনিময়ে জনস (যৌনতা ক্রয়কারী লোকদের) কাছে বিক্রি করে দিয়েছিলেন। ১৭ বছর বয়সে আমাকে উদ্ধার করে একটি নিরাপদ বাড়িতে পাঠানোর আগ পর্যন্ত এটি ঘটেছিল, যেখানে আমি আমার আসল মা এবং তার সাথে কাজ করা লোকদের কাছ থেকে পালাতে সক্ষম হয়েছিলাম।
৮ বছর ধরে, শত শত পুরুষ, মহিলা এমনকি বিবাহিত দম্পতি আমাকে ধর্ষণ এবং মারধর করেছে এবং ভিডিও ধারণ করেছে। আমি কখনও ভাবিনি যে আমি ১৮ বছর বয়স পর্যন্ত বেঁচে থাকব। আমাকে কয়েক ডজন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিল, এবং একবার আমাকে অ্যামোনিয়া পান করতে বাধ্য করা হয়েছিল যতক্ষণ না আমি অজ্ঞান হয়ে যাই এবং তার পরেও ঘন্টার পর ঘন্টা ধর্ষণ করা হয়েছিল, যদিও আমার মুখ এবং গলা এত জ্বলছিল যে….। আমি আমার সামনে আরও অনেক শিশুকে ধর্ষণ করতে দেখেছি, এমনকি একটি ৩ বছরের ছেলেকেও ৪০ বছর বয়সী একজন পুরুষ ধর্ষণ করেছে। আমাকে অন্যান্য শিশুদের সাথে, বিশেষ করে অল্পবয়সী মেয়েদের সাথে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করতে বাধ্য করা হয়েছিল। এর ফলে আমার এখনও দুঃস্বপ্ন এবং চরম PTSD হয়। (উল্লেখ্য, পিটিডিএস-এর ফুলফর্ম হল পোস্ট-ট্রমাটিক স্ট্রেস ডিসঅর্ডার । এটি একটি মানসিক স্বাস্থ্যের অবস্থা যা কোনও আঘাতমূলক ঘটনার অভিজ্ঞতা বা সাক্ষী হওয়ার ফলে উদ্ভূত হয়, যার ফলে ফ্ল্যাশব্যাক, দুঃস্বপ্ন, তীব্র উদ্বেগ এবং অনুপ্রবেশকারী স্মৃতির মতো লক্ষণ দেখা দেয়, পাশাপাশি এড়িয়ে যাওয়া,উত্তেজনাপূর্ণ, খিটখিটে মেজাজ এর লক্ষণ)
লায়লা মিকেলওয়েট লিখেছেন,আমি কৃতজ্ঞ যে আমার এমন একটি পরিবার আছে যারা আমার ফ্ল্যাশব্যাক এবং আমার আতঙ্কের মধ্য দিয়ে আমাকে সাহায্য করে। কিন্তু এটা ঠিক নয় যে আমার জীবন এখন এত কঠিন কারণ ছোটবেলায় আমাকে যৌনতা এবং যৌনতায় লিপ্ত হতে বাধ্য করা হয়েছিল। নাবালক অবস্থায় ধর্ষণের ভিডিওগুলি সরাতে Redtube এবং P*rnhub-কে বারবার পুলিশকে জড়িত করতে হয়েছে।আমি বুঝতে পারছি না কেন এটা এত কঠিন।
দয়া করে, শিশুদের নির্যাতন এবং জোর করে অর্থ উপার্জন করার সুযোগ দেওয়া বন্ধ করুন। এটা ঠিক নয়।”
তিনি লিখেছেন,আমরা কীভাবে শিকারী কর্পোরেশনগুলিকে ভুক্তভোগীর জীবনের সবচেয়ে খারাপ মুহূর্তগুলিকে বাণিজ্যিকীকরণ করা এবং বিশ্বব্যাপী বিতরণ করা থেকে বিরত রাখতে পারি ?
১. ব্যক্তিগত নির্যাতনকারীদের এবং এই অপরাধগুলি বিতরণ করে লাভবান কর্পোরেশনগুলির জন্য কঠোর দেওয়ানি এবং ফৌজদারি শাস্তি। স্থিতাবস্থা বজায় রেখে এই নির্যাতনকারীদের যে কোনও সুবিধা অব্যাহত শোষণের ঝুঁকি ছাড়িয়ে না যাওয়া পর্যন্ত গুরুতর আর্থিক, ফৌজদারি এবং সুনামের পরিণাম ভোগ করতে হবে।
২.যৌনতা বিতরণকারী প্রতিটি ওয়েবসাইটে পরিষেবার শর্তাবলীতে প্রতিটি ব্যক্তির জন্য তৃতীয় পক্ষ, বয়স এবং সম্মতি যাচাইকরণ বাধ্যতামূলক করতে হবে ।।
তার এই মর্মস্পর্শী কাহিনী পড়ার পর শিহরিত হয়ে গেছেন নেটিজেনরা । সকলেই একবাক্যে শিশুদের এই ঘৃণ্য পেশায় আনা থেকে বিরত রাখতে কঠোর আইন প্রনয়ণের দাবি তুলেছেন ।।

