এইদিন ওয়েবডেস্ক,গুসকরা(পূর্ব বর্ধমান),১২ জানুয়ারী : ফাঁকা বাড়ি দেখে চুরি করতে ঢুকেছিল দুষ্কৃতীরা ৷ বাড়ির প্রতিটি ঘরে যা কিছু দামি দামি সামগ্রী হাতের কাছে পেয়েছে সেগুলি প্রথমে বগলদাবা করে৷ তারপর ফ্রিজে রাখা মাংস,মাছ ভাজা,ভাত ও মিষ্টি পেটপুরে খায় । শুধু তাইই নয়, খাওয়ার পর দুষ্কৃতীরা ঘরের মধ্যেই মলত্যাগ করে পালিয়ে যায় । পূর্ব বর্ধমান জেলার গুসকরা শহরের বাসিন্দা ডাকঘর বিভাগের কর্মী রাণা বিশ্বাসের বাড়িতে রবিবার সন্ধ্যার দিকে এই দুঃসাহসিক চুরির ঘটনা ঘটেছে ৷ কিছুদিন আগেই একই পাড়ার একটি মন্দিরে চুরির ঘটনায় এলাকারই বাসিন্দা আহাদত শেখ ও হাই মল্লিক নামে দুই দুষ্কৃতীকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ । তার জের কাটতে না কাটতেই ফের চুরির ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক আতঙ্ক ছড়িয়েছে । পাশাপাশি পুলিশের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে ।
জানা যায়, গুসকরা পৌরসভার ১৪ নম্বর ওয়ার্ডের আলুটিয়া এলাকার বাসিন্দা রাণা বিশ্বাস শনিবার স্ত্রীকে নিয়ে শ্বশুরবাড়ি গিয়েছিলেন । তারপর থেকে তারা সেখানেই আছেন । মঙ্গলবার তাঁদের ফেরার কথা ছিল। বাড়িতে ছিলেন রাণার মা বৃদ্ধ সীমা বিশ্বাস । রবিবার বিকেলে সীমাদেবী বাড়িতে তালা দিয়ে গুসকরা শহরের শান্তিপুরে নিজের বাপের বাড়ি গিয়েছিলেন । সন্ধ্যায় সেখানের একটি মন্দিরে প্রসাদ খেয়ে বাড়ি ফেরেন তিনি । কিন্তু বাড়ি ফিরতেই তিনি দেখতে পান যে ডাইনিং রুমের লোহার গেটের তালা ভাঙা এবং দুটি ঘরের আলমারি লণ্ডভণ্ড অবস্থায় রয়েছে । বক্স খাটের প্লাইউড খোলা । ভিতরের সমস্ত জিনিসপত্র লণ্ডভণ্ড । শুধু তাই নয়,ডাইনিং রুমে ঢোকার সঙ্গে সঙ্গেই তিনি প্রচন্ড দুর্গন্ধ নাকে আসে তার । দেখেন চারদিকে মানুষের মল পড়ে রয়েছে । ঘরে দুষ্কৃতীরা ঢুকে লুটপাট চালিয়েছে বুঝতে পেরে তিনিবছেলেকে ফোন করে ঘটনার কথা জানান । খবর পেয়ে সীমাদেবীর পুত্র ও পুত্রবধূ ছুটে আসেন। দুষ্কৃতীরা নগদ প্রায় ৪০ হাজার টাকা, লক্ষাধিক টাকা মূল্যের সোনার গয়না থেকে শুরু করে ধাতব মূর্তি, দামি দামি শাড়ি এবং ব্ল্যাঙ্কেট-সহ যাবতীয় দামি সামগ্রী লুটপাট হয়েছে বলে জানিয়েছেন রাণা বিশ্বাস।
উল্লেখ্য,সম্প্রতি রাণা বিশ্বাসদের পাড়ার রামমন্দিরের গ্রিল ভেঙে একাধিক প্রণামী বাক্স থেকে টাকাপয়সা লুটপাট চালায় দুষ্কৃতীরা । রাতভর অভিযান চালিয়ে ওই এলাকারই বাসিন্দা আহাদত শেখ ও হাই মল্লিক নামে দু’জন দুষ্কৃতীকে গ্রেপ্তার করে গুসকরা ফাঁড়ির পুলিশ। আজ সোমবার ধৃতদের বর্ধমান আদালতে তুলে পুলিশ নিজেদের হেফাজতে নিয়েছে । এখন এলাকার সিসিটিভি ফুটেজ ও ধৃতদের জেরা করে ডাকঘর বিভাগের কর্মীর বাড়িতে চুরির ঘটনার কিনারা করতে নেমেছে পুলিশ ।।

