এইদিন ওয়েবডেস্ক,নয়াদিল্লি,২৭ ফেব্রুয়ারী : মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি চাইছেন ২০২৪ সালের লোকসভার ভোট যে ভোটার তালিকায় হয়েছিল, একই তালিকায় ভোট হোক ২০২৬-এর বিধানসভার ভোট । যেকারণে তিনি ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সমীক্ষা বা এসআইআর (SIR) প্রক্রিয়া ভেস্তে দিতে চাইছেন বলে বারবার দাবি করে আসছেন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী । আজ শুক্রবার ফের একটা নতুন ‘অজুহাত’ নিয়ে সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হয়েছিলেন রাজ্য সরকারের হাইপ্রোফাইল আইনজীবী কপিল সিব্বল । তিনি নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অভিযোগ তোলেন । কিন্তু প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত অত্যন্ত কড়া ভাষায় রাজ্যকে সতর্ক করে বলেন,’পুরো প্রক্রিয়া আটকে দেওয়ার জন্য ছোটখাটো অজুহাত দেখাবেন না। বিষয়টির এবার ইতি টানতে হবে। বিচারকদের স্বাধীনভাবে কাজ করতে দিন।’
আজ প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত ও বিচারপতি জয়মাল্য বাগচীর বেঞ্চে রাজ্য সরকারের দায়ের করা পিটিশনের শুনানি হয় । কপিল সিব্বল দাবি করেন, সুপ্রিম কোর্টের আগের নির্দেশ অমান্য করে নির্বাচন কমিশন বিচারকদের প্রশিক্ষণ দিচ্ছে। হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতিরই এই প্রক্রিয়ার রূপরেখা নির্ধারণ করার কথা, কিন্তু কমিশন সেখানে হস্তক্ষেপ করে নিজস্ব ‘মডিউল’ তৈরি করেছে। সিব্বল আরও অভিযোগ করেন, মহকুমা শাসকদের দেওয়া ডোমিসাইল সার্টিফিকেট গ্রহণ না করার কথা বলছে কমিশন, যা জটিলতা তৈরি করতে পারে।’
তবে সিব্বলকে অত্যন্ত চাঁচাছোলা ভাষায় বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী প্রশ্ন করেন,’নির্বাচন কমিশন প্রশিক্ষণ না দিলে বিচারকদের এই কাজের পদ্ধতি কে শেখাবে?’ আদালতের নির্দেশ অত্যন্ত পরিষ্কার এবং কমিশন কোনোভাবেই সেই নির্দেশ অগ্রাহ্য করতে পারে না বলেও তিনি স্পষ্ট করে দেন । শুনানিতে আদালত পুনরায় জানিয়ে দেয়, বিচারকদের কাজে কোনো বাধা সৃষ্টি করা চলবে না। অতিরিক্ত তালিকা প্রয়োজনে পরবর্তী সময়ে প্রকাশ করা যেতে পারে, কিন্তু মূল প্রক্রিয়ায় দেরি করা যাবে না। অর্থাৎ, সুপ্রিম কোর্টের এই নির্দেশের পর এটা স্পষ্ট যে আগামী কাল,২৮ ফেব্রুয়ারীই চুড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশ করতে চলেছে নির্বাচন কমিশন।।
