এইদিন ওয়েবডেস্ক,কলকাতা,২৩ মার্চ : কলকাতার চিংড়িঘাটা মেট্রোর বকেয়া কাজ নিয়ে হাইকোর্টের নির্দেশকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হয়েছিল মমতা ব্যানার্জির নেতৃত্বাধীন তৃণমূল কংগ্রেস সরকার । আজ সোমবার সেই মামলায় শুনানির সময় রাজ্য সরকারকে তীব্র ভর্ৎসনা করে সুপ্রিম কোর্ট । সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত, বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী এবং বিপুল মনুভাই পঞ্চোলীর বেঞ্চ হাইকোর্টের আদেশে হস্তক্ষেপ করা দুরের কথা, উল্টে রাজ্য সরকারকে মামলা তুলে নিতে নির্দেশ দেয় । কলকাতা হাইকোর্টের ‘ট্রাফিক ব্লক’ সংক্রান্ত আদেশের বিরুদ্ধে দায়ের করা বিশেষ অনুমতি পিটিশন (SLP) গ্রহণ করতে অস্বীকৃতি জানায় শীর্ষ আদালত। রাজ্যের অবস্থানকে ‘সাংবিধানিক কর্তব্যের চরম অবহেলা’ এবং ‘উন্নয়ন প্রক্রিয়া ব্যাহত করার এক একগুঁয়ে প্রচেষ্টা’ হিসেবে অভিহিত করে আদালত নির্বাচন বা উৎসবের অজুহাত খারিজ করে দেয় এবং আবেদনটি খারিজ করে দেয়।
বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী বলেছেন,”আপনারা হাইকোর্টকে জানিয়েছিলেন যে, আপনাদের উৎসব আয়োজনের দায়িত্ব রয়েছে এবং সেই কারণে আপনারা নির্মাণকাজের জন্য পুলিশি সহায়তা প্রদান করতে পারবেন না… আপনাদের কাছে কি উন্নয়নের চেয়ে উৎসবই অধিক গুরুত্বপূর্ণ ? একটি গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচিত রাজ্য সরকার আমাদের দ্বারস্থ হয়ে—যেন বলছে ‘দয়া করে আসুন এবং আমাদের রক্ষা করুন’—এমন আচরণ করুক, তা আমরা মোটেও সমর্থন করি না।’ বিচারপতি বলেন, আদর্শ আচরণবিধি (MCC) কার্যকর হওয়ার আগেই এই প্রকল্পের ঘোষণা করা হয়েছিল… উন্নয়নকে বাধাগ্রস্ত করার উদ্দেশ্যে আপনারা এই বিষয়টিকে আরেকটি অজুহাত বা জুজুবুড়ো হিসেবে দাঁড় করাবেন—এমনটা আমরা হতে দেব না।’
চিংড়িঘাটা মেট্রো নিয়ে রাজ্যের বিরুদ্ধে অসহযোগিতার অভিযোগ তোলেন মেট্রো কর্তৃপক্ষ। কলকাতা হাই কোর্ট বকেয়া কাজ শেষ করার জন্য সময় বেঁধে দিয়েছিল। কিন্তু উচ্চ আদালতের সেই নির্দেশকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে সরকার সুপ্রিম কোর্টে যায়। সোমবার সেই মামলায় দেশের প্রধান বিচারপতির মন্তব্য,‘জনসাধারণের প্রকল্প নিয়ে রাজনীতি করবেন না। হাই কোর্টের নির্দেশ মেনেই কাজ হবে। হাই কোর্টই সময় বেঁধে দিয়ে কাজ করাবে।’
সর্বোচ্চ আদালতের এই রায়ের পর পশ্চিমবঙ্গে সরকারকে ‘উন্নয়ন বিরোধী’ তকমা দিয়েছেন বিজেপির সর্বভারতীয় আইটি ইনচার্জ অমিত মালব্য । তিনি এক্স-এ লিখেছেন,”কলকাতা মেট্রো নির্মাণ কাজ স্থগিত করার আর্জি জানিয়ে পশ্চিমবঙ্গ সরকার যে আবেদন করেছিল, সুপ্রিম কোর্ট তা খারিজ করে দিয়েছে এবং এ বিষয়ে রাজ্য সরকারের তীব্র সমালোচনা করেছে।কলকাতা হাইকোর্টের একটি নির্দেশকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে এই আবেদনটি দায়ের করা হয়েছিল—যার ফলে আবারও কোনো না কোনো অজুহাতে একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ পরিকাঠামো প্রকল্পের কাজ বিলম্বিত হওয়ার উপক্রম হয়েছিল। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কার্যত পশ্চিমবঙ্গের জনগণের বিরুদ্ধেই যুদ্ধে নেমেছেন।
আদালত স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিয়েছে: সবকিছুকে রাজনীতির বিষয় করে তুলবেন না; এটি একটি উন্নয়নমূলক বিষয়।বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী পর্যবেক্ষণ করেন যে, এ ধরনের প্রকল্প বাস্তবায়নে সহায়তা করা রাজ্যের “কর্তব্য” (duty bound); তিনি প্রশ্ন তোলেন—কীভাবে একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ পরিবহন পথের নির্মাণ কাজ বিলম্বিত করার অজুহাত হিসেবে উৎসব-পার্বণকে দাঁড় করানো যেতে পারে? আদালত সেই প্রচেষ্টাকেও খারিজ করে দিয়েছে, যেখানে ‘আদর্শ আচরণবিধি’ বা ‘মডেল কোড অফ কন্ডাক্ট’-কে অজুহাত হিসেবে ব্যবহার করে এমন একটি প্রকল্পকে আটকে দেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছিল, যার সূচনা ওই আচরণবিধি কার্যকর হওয়ারও অনেক আগে। পশ্চিমবঙ্গের প্রাপ্য হলো উন্নত পরিকাঠামো, যোগাযোগ ব্যবস্থা এবং অগ্রগতি—বারংবার সৃষ্ট বাধা-বিপত্তি নয়। উন্নয়নকে পনবন্দি করে রাখা যায় না।”

