এইদিন ওয়েবডেস্ক,ভাতার(পূর্ব বর্ধমান),০২ ফেব্রুয়ারী : আজ ছিল মাধ্যমিক পরীক্ষার প্রথম দিন । পূর্ব বর্ধমান জেলার ভাতার বাজারের ভাতার এমপি হাইস্কুলে কিন্তু পরীক্ষা দিতে এসেও পরীক্ষা দেওয়া হল এক ছাত্রীর । ছাত্রীর নাম নিশা খাতুন । ভাতার থানার বেলেণ্ডা গ্রামের বাসিন্দা নিশা ভাতার গার্লস হাইস্কুলের ছাত্রী । নবম শ্রেণীতে পড়ার সময় মাধ্যমিকের জন্য রেজিস্ট্রেশন না করায় নিশার অ্যাডমিট কার্ড ইস্যু হয়নি বলে জানান ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষিকা অর্চি মজুমদার। তিনি ওই ছাত্রীর আগামী বছর মাধ্যমিক পরীক্ষার প্রস্তুতির যাবতীয় খরচ নেবেন বলে আশ্বস্ত করেছেন । অর্চিদেবী বলেন,’আসলে নবম শ্রেণীতে পড়ার সময় মাধ্যমিকের জন্য রেজিস্ট্রেশন করায়নি নিশা । তবে সামনের বছর প্রস্তুতি নিয়েই নিশা পরীক্ষায় বসবে । মেয়েটির পড়াশোনা, টিউশন ফি, বই-খাতা— যা কিছু লাগবে, সব খরচ আমি বহন করব ।’
জানা গেছে,দিন চারেক আগে বেলেণ্ডা গ্রামের বাসিন্দা নিশা খাতুনের বাবা সেখ হাসমত রোগে মারা গেছেন । এই শোকের আবহেই মাধ্যমিক পরীক্ষা দেওয়ার জন্য প্রস্তুত হয়েছিল ওই কিশোরী । আজ সোমবার খুড়তুতো দাদা কাইফ সেখের বাইকে চড়ে ভাতার মাধব পাবলিক হাইস্কুলের পরীক্ষাকেন্দ্রে পরীক্ষা দিতে আসে নিশা । কিন্তু অনান্য পরীক্ষার্থীদের ঢুকতে দেওয়া হলেও অ্যাডমিট কার্ড না থাকায় আটকে দেওয়া হয় নিশাকে । ফলের নিরাশ হয়ে স্কুলের গেটের পাশেই কাঁদোকাঁদো মুখে বসে থাকে । বিষয়টি নজরে আসে সেখানে উপস্থিত কয়েকজনের । তারাই ভাতার গার্লস হাইস্কুলের প্রধান শিক্ষিকার সঙ্গে যোগাযোগ করে ঘটনার কথা জানান । খবর পেয়ে ছুটে আসেন প্রধান শিক্ষিকা অর্চি মজুমদার। তারপরেই জানা যায় মেয়েটিকে পরীক্ষায় বসতে না দেওয়ার আসল কারন ।
প্রধান শিক্ষিকা অর্চি মজুমদার বলেন,’পরীক্ষাকেন্দ্রে ঢুকতে না দেওয়ার খবর পেয়ে আমি দ্রুত স্কুলের রেজিস্টার খুলে দেখি । তখন জানতে পারি যে নিশা খাতুন নামে দশম শ্রেণির ওই ছাত্রীর জন্য কোনও অ্যাডমিট কার্ডই ইস্যু হয়নি । কারন সে নবম শ্রেণীতে পড়ার সময় মাধ্যমিকের জন্য রেজিস্ট্রেশন করার আবেদন জমা করেনি । বিষয়টি খুবই দুঃখজনক । কিন্তু কিছু তো করার নেই । আগামী বছর পরীক্ষায় বসবে নিশা । আমি দায়িত্ব নিলাম ।’।
