শ্যামসুন্দর ঘোষ,নবদ্বীপ,২৭ ফেব্রুয়ারী : আজ বৃহস্পতিবার(২৭ ফেব্রুয়ারী) নদীয়ার নবদ্বীপ ধামে উদ্বোধন হল পশ্চিমবঙ্গের সর্ববৃহৎ শিব মূর্তির । পাহাড়ের উপর বজ্রাসনে উপবিষ্ট জটাজুটধারী নীলাম্বর দেবাদিদেব মহাদেবের বামহাত হাঁটুর উপরে রাখা । ডান হাত বরাভয় মূদ্রায় রয়েছে । মহাদেবের ডান পাশে ডমরু লাগানো ত্রিশুল এবং পর্বতের নিচে উপবিষ্ট রয়েছে ভগবান নন্দী মহারাজ । নবদ্বীপ শহরের ভাগিরথীর মণিপুর ঘাট সংগ্লগ্ন এলাকায় প্রভুপাদ তিনকড়ি গোস্বামীর ভজনস্থলী “গৌরাঙ্গ বিহার”-এ এই বিশাল শিবমূর্তি প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে আন্তর্জাতিক সনাতন ধর্মীয় সংগঠন ইসকনের উদ্যোগে । আজ সকাল ৮:০০ টায় ওই শিব মূর্তির উদ্বোধন করলেন বিনোদবিহারী দাস মহারাজ। এছাড়াও ওই অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন নবদ্বীপ পৌরসভার পৌরপতি বিমান কৃষ্ণ সাহা সহ বহু বিশিষ্ট ব্যক্তিগণ ও বিভিন্ন মঠ মন্দিরের সাধু সন্ত মহারাজগন।
এই শিব মূর্তিটির উচ্চতা প্রায় ৮০ ফুট । বিগত প্রায় একবছর এই মূর্তী নির্মানের কাজ চলছিল। সম্প্রতি নির্মান কাজ সম্পূর্ণ হয় । মহাশিবরাত্রির পরের দিনেই উদ্বোধন করা হল মূর্তিটির । তিনকড়ি গোস্বামীর ভজনস্থলীর মনোরম আধ্যাত্মিক পরিবেশে রয়েছে শ্রী শ্রী রাধাবল্লভ জিউ মন্দির, সহ তিনকড়ি গোস্বামী চ্যারিটেবল ট্রাস্ট। মন্দির কতৃপক্ষের তরফে তিনকড়ি গোস্বামীর নাতি প্রভুপাদ গিরি গোপাল গোস্বামী বলেন,’ঈশ্বরের আরাধনার পাশাপাশি আমাদের মন্দিরের বিভিন্ন সেবা কার্য পরিচালিত হয় । ‘শিব জ্ঞানে জীব সেবা’ই আমাদের মূল লক্ষ্য ।’ কিন্তু বৈষ্ণব পীঠে ভগবান শিবের মূর্তি কেন ? উত্তরে তিনি বলেন,’সকল মঠ ও মন্দিরে ভগবান শিবের মূর্তি থাকে । এরও এক ধর্মীয় ব্যাখা আছে । পাশাপাশি আমদের গুরুদেবরও ইচ্ছে ছিলো যে নবদ্বীপ ধামে একটি শিব মূর্তি তৈরী হোক, সেই ভাবনা থেকে ও সকল ভক্তের ইচ্ছেতেই এই বৃহৎ শিব মূর্তি তৈরী হয়েছে ।’
তিনি বলেন,ভগবান শিবের সাথে বৈষ্ণব সমাজ অঙ্গাঙ্গী ভাবে যুক্ত । চৈতন্য ভাগবতেও উল্লেখ আছে মহাপ্রভু বলেছিলেন স্বয়ং মহেশ হলেন অদ্বৈত আচার্য প্রভু, অর্থাৎ বৈষ্ণব জগৎ আর মহাদেব বিশেষ ভাবে জরিত, এমন কোন স্থান বা বৈষ্ণব মন্দির নেই যেখানে মহাদেব নেই । এমনকি শিবচতুর্দশিও আমরা পালন করি । শ্রীমদভগবত সিদ্ধান্তেও আমরা পাই মহাদেব নিজে বলেছেন তিনি যার নামে বিভোর থাকি, নিরন্তর চিন্তা করি তিনি স্বয়ং শ্রী কৃষ্ণ।’
প্রসঙ্গত,দেশের অন্যতম প্রাচীন ও ঐতিহাসিক ধর্মীয় পীঠস্থান নদীয়ার নবদ্বীপ ধাম। কথিত আছে, ‘নবদ্বীপ হেন গ্রাম ত্রী ভূবনে নাই, যহি অবতীর্ণ হইলো চৈতন্য গোসাঁই।’ অর্থাৎ মহাপ্রভু শ্রীচৈতন্যদেবের জন্মস্থান এই নবদ্বীপ যা বৈষ্ণব ধর্মের অন্যতম পীঠস্থান হিসেবেও বলা হয়, আর নবদ্বীপ শহরের বুক চিরে বয়ে গেছে ভাগীরথী নদী । আর এই ভাগীরথী নদীর এক প্রান্তে রয়েছে বর্তমানের নবদ্বীপ শহর যেখানে জন্ম গ্রহন করেছিলেন মহাপ্রভু, নদীর অপর প্রান্তে নবদ্বীপ ব্লকের মায়াপুর এলাকায় রয়েছে ইস্কনের প্রধান কার্যালয় মায়াপুর মন্দির । মনোরম এই আধ্যাত্মিক পরিবেশের টানা প্রতিদিন লক্ষ লক্ষ্য শ্রদ্ধালু ছুটে যায় নবদ্বীপ ধামে ।
গোপাল গোস্বামী বলেন,’বৃহৎ শিব মূর্তীটি যেখানে প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে সেখানেই রয়েছে আমাদের গুরুদেবের সমাধি মন্দির। রয়েছে হাসপাতাল সহ মানুষের সেবায় নিয়োজিত বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান । মন্দিরের পাশ দিয়েই বয়ে গেছে ভাগীরথী নদী, মহাদেবের জটা থেকেও বেরোবে মা গঙ্গার জলের ধারা । সাথে রয়েছে বিভিন্ন ফুলের বাগানও । এক মনোরম আধ্যাত্মিক পরিবেশ । সারা বিশ্ব থেকে যেসমস্ত মানুষ নবদ্বীপ ধামে তীর্থ বা ঘুরতে আসেন তার সিংহভাগ মানুষ ছুটে যান ইস্কনের মন্দিরে, তার মাঝে নবদ্বীপে এত বৃহৎ এই মহাদেবের মূর্তি ভক্তদের মনে জায়গা করে নেবে বলে আমরা আশাবাদী ।’।