প্রদীপ চট্টোপাধ্যায়,বর্ধমান,০৬ মার্চ : আইপিএলে ’রাজস্থান রয়্যালসের’ হয়ে এবার ময়দান মাতানোর সুযোগ পেলেন বাংলার প্রত্যন্ত গ্রামের এক ট্র্যাক্টর চালকের ছেলে। দারিদ্রতার সঙ্গে লড়াই চালিয়ে ক্রিকেটার হওয়ার স্বপ্ন পূরণের পথে এগিয়ে চলা পূর্ব বর্ধমানের রায়নার বাঁশা গ্রামের ওই তরুণের নাম সৌমেন চট্টোপাধ্যায়। তিনি আসন্ন আইপিএলে ’নেট বোলার’ হিসাবে রাজস্থান রয়্যালসের হয়ে খেলার জন্য বিবেচিত হয়েছেন। সৌমেনের এই সাফল্যে তাই অত্যন্ত খুশি তাঁর বাবা মা,গ্রামবাসী ও বন্ধু বান্ধবরা।
বাঁশা গ্রামটি রায়নার পলাশন গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকায় অবস্থিত। একেবারে প্রত্যন্ত গ্রাম। এই গ্রামে মাটির দেওয়াল আর অ্যাসবেস্টস চালার দুই কুঠুরি ঘরে বসবাস করেন সঞ্জয় চট্টোপাধ্যায় এবং তাঁর স্ত্রী শ্রাবণী দেবী।সঞ্জয় বাবু পেশায় ট্র্যাক্টর চালক। পূজারী হিসাবেও গ্রামে তাঁর যথেষ্ট সুনাম রয়েছে। শ্রাবণীদেবী সাধারণ গৃহবধূ। দম্পতির একমাত্র সন্তান সৌমেন। স্থানীয় শাকনাড়া হাই স্কুলে পড়াশুনার পাঠ শেষ করে সৌমেন এখন কলকাতার ভবানীপুর কলেজে বি.এ দ্বিতীয় বর্ষে পাঠরত। তবে ক্রিকেট’ই সৌমেনের ধ্যান জ্ঞান।ভারতীয় ক্রীকেট দলের জার্সি গায়ে পড়ে ভারতের হয়ে ক্রিকেটের ময়দান মাতানোর লক্ষ্য নিয়েই তিনি এগিয়ে চলেছেন।
সৌমেন জানান,ছোট বয়সে ব্যাট আর টেনিস বল নিয়ে তিনি গ্রামের মাঠে বন্ধুদের সঙ্গে খেলতেন।পরে ক্রিকেট খেলার প্রতি তিনি ভীষণ ভাবে আকৃষ্ট হয়ে পড়েন।পরিবারের আর্থিক সামর্থ নেই জেনেও তিনি ক্রিকেটের কোচিং নেওয়ার জন্য কলকাতায় যাওয়া আসা শুরু করেন।এমন অনেক দিন গেছে, খাওয়ার পয়সা সঙ্গে না থাকায় খালি পেটেই অনুশীলন চালিয়ে গিয়েছেন। বহু দিন এই ভাবেই কলকাতায় অনুশীলন চালিয়ে গিয়েছেন। এরপর ৫-৬ বছর দিল্লী ও মুম্বাইয়ে কাটান। সেখান থেকেই তাঁর ’মেইন জার্নি’ শুরু হয়। আগামী ১৬ মার্চ তিনি আনুষ্ঠানিক ভাবে ’রাজস্থান রয়্যালসে’ যোগদান করছেন বলে জানিয়েছেন।
কলকাতার সুপার ডিভিশনের ক্লাব ডালহৌসির নিয়মিত বোলার সৌমেন।তাঁর কথা অনুযায়ী, রাজস্থান রয়্যালসের স্পনসর সংস্থা দেশ জুড়ে নেট বোলার নির্বাচন করে।সেই রকমই একটি ক্যাম্প সম্প্রতি ভূবনেশ্বরে হয়েছিল। সেখানেই তিন জনকে নেওয়া হয়েছে।ওই তিনজনের মধ্যে তিনি একজন। কোচদের দিকনির্দেশনা এবং পরিবারের সহযোগীতা তাঁকে এই জায়গায় পৌছাতে সাহায্য করেছে।নেট বোলার হয়ে সুযোগ পেয়ে অনেকেই আইপিএল খেলছেন,দেশের হয়েও প্রতিনিধিত্ব করেছে।এমন সুযোগ যাতে তিনিও পান , তার জন্য কঠোর পরিশ্রম করে যাবেন বলে সৌমেন জানিয়েছেন।
আগামী লক্ষ্য কি ? এই প্রশ্নের উত্তর দিতে গিয়ে সৌমেনের মুখে উঠে আসে পাকিস্তানি ফাস্ট বোলার শোয়েব আখতার এবং ভারতের ফাস্ট বোলার জসপ্রীত বুমরাহ-র নাম। তিনি বলেন,এই দুই ফাস্ট বোলারের বোলিং আমি ফলো করি। এখন আমার বোলিং স্পিড ১৪০ কিমি পার আওয়ার (ঘন্টা প্রতি) রয়েছে। ফাস্ট বোলার হিসাবে ভারতের জার্সি গায়ে পড়ে ভারতের হয়ে খেলতে পারাটাই তাঁর লক্ষ্য বলে সৌমেন চট্টোপাধ্যায় জানিয়েছেন।
ছেলের স্বপ্ন পূরণ হোক তা আন্তরিকভাবে চাইছেন বাবা সঞ্জয় চট্টোপাধ্যায় এবং মা শ্রাবণীদেবী। সঞ্জয় বাবু বলেন , আমি ছেলেকে বলেছি লক্ষ্য স্থির রেখে কোচেদের পরামর্শ মেনে অনুশীলন চালিয়ে যেতে হবে। বাড়ির জন্য চিন্তা করতে হবে না। আমার যত কষ্টই হোক ট্র্যাক্টর চালিয়ে উপার্জন করে আমি সংসার চালিয় নেব। যতটা পারবো ছেলেকেও অর্থ সাহায্য করবো। আমি চাই আমার ছেলের ক্রিকেট খেলার মধ্য দিয়ে দেশকে গর্বিত করুক ,বাংলাকে গর্বিত করুক।।

