এইদিন ওয়েবডেস্ক,কলকাতা,৩০ জানুয়ারী : কলকাতার আনন্দপুরের নাজিরাবাদে অগ্নিকাণ্ডের পর চার দিন পেরিয়ে গিয়েছে। এখনও নিখোঁজ ২৭ জন! শুক্রবার পর্যন্ত ঘটনাস্থল থেকে ২১টি দেহাংশ উদ্ধার হয়েছে। তবে মৃতের সংখ্যা ঠিক কত, তা এখনও স্পষ্ট নয়। উদ্ধার হওয়া দেহাংশগুলি কাদের, তা-ও জানা যায়নি। সেগুলি ফরেনসিক পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়েছে। ঘটনাস্থলে এখনও চলছে দেহাংশ খোঁজার কাজ। এদিকে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী আনন্দপুরে অগ্নিকান্ডে মৃতদের পরিবারকে ২ লক্ষ টাকা এবং অগ্নিদগ্ধদের ৫০ হাজার টাকা করে ক্ষতিপূরণ দেওয়ার কথা ঘোষণা ।
আজ শুক্রবার পিএমও-এর অফিসিয়াল এক্স হ্যান্ডেলে ঘটনায় শোক প্রকাশ করে প্রধানমন্ত্রী লিখেছেন,’পশ্চিমবঙ্গের আনন্দপুরে সম্প্রতি ঘটে যাওয়া অগ্নিকাণ্ডের ঘটনাটি অত্যন্ত মর্মান্তিক ও দুঃখজনক। যাঁরা তাঁদের প্রিয়জনকে হারিয়েছেন, তাঁদের প্রতি আমি সমবেদনা জানাই। আমি প্রার্থনা করি, আহতরা দ্রুত আরোগ্য লাভ করুন। প্রধানমন্ত্রী ত্রাণ তহবিল থেকে প্রত্যেক মৃতের নিকটাত্মীয়কে ২ লক্ষ টাকা করে এবং আহতদের ৫০ হাজার টাকা করে ক্ষতিপূরণ দেওয়া হবে ।’
আনন্দপুরের ডেকরেটার্সের গোডাউন ও মোমো কারখানায় অগ্নিকাণ্ডের ঘটনার তদন্তে নেমে পুলিশ এ পর্যন্ত তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে। ধৃতদের মধ্যে রয়েছেন গুদাম মালিক গঙ্গারাম দাস এবং একটি মোমো প্রস্তুতকারী সংস্থার দুই আধিকারিক। শুক্রবার ধৃতদের আদালতে তোলা হলে বিচারক তাঁদের ৫ দিনের পুলিশি হেপাজতের নির্দেশ দেন। নিরাপত্তার গাফিলতি খতিয়ে দেখছে প্রশাসন।
শুক্রবার ঘটনাস্থল পরিদর্শনে যান রাজ্যপাল সিভি আনন্দ বোস। ধ্বংসস্তূপ সরানোর কাজ এবং পুলিশের তদন্ত প্রক্রিয়ার তদারকি করেন বারুইপুর পুলিশ জেলার সুপার শুভেন্দ্র কুমার।বারুইপুর পুলিশ জেলার এক শীর্ষ আধিকারিক জানিয়েছেন, আনন্দপুরে ২৭ জনের নামে থানায় নিখোঁজ ডায়েরি করা হয়েছে। উদ্ধার হয়েছে ২১টি দেহাংশ। তবে এখনও পর্যন্ত মৃতের সংখ্যা কত, তা বলা যাচ্ছে না। নিহতদের শনাক্ত করতে দেহাংশগুলি ফরেনসিক পরীক্ষার জন্য কেন্দ্রীয় ফরেনসিক সায়েন্স ল্যাবরেটরি (সিএফএসএল)-তে পাঠানো হয়েছে। ডিএনএ পরীক্ষার পরে নিহতদের সঠিক পরিচয় নির্ধারণ করা যাবে বলে তিনি জানান।।

