প্রদীপ চট্টোপাধ্যায়,বর্ধমান,১৭ জানুয়ারী : পূর্ব বর্ধমান জেলার রায়নার পলাসন গ্রামের সাঁইপাড়ায় পুকুর সংস্কার করার সময় উদ্ধার হয়েছিল হাজার বছরের প্রাচীন কষ্টি পাথরের ভগবান বিষ্ণুর মূর্তি। সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের পুরাসামগ্রী হিসেবে শুক্রবার মূর্তিটিকে বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয়ে সংগ্রহশালা কর্তৃপক্ষের হাতে হস্তান্তর করা হয়েছে ।
জানা গিয়েছে,রায়নার পলাসন গ্রামের সাঁইপাড়ায় রয়েছে বাসাপুকুর নামে একটি পুকুর । পুকুরটি মজে গিয়েছিল। তাই পুকুরটি সংস্কারে উদ্যোগ নেন পুকুরের মালিক। সেই মতো কয়েক দিন ধরে মাটি কাটার যন্ত্র দিয়ে পুকুরের মাটি ও পাঁক কেটে তুলে ফেলার কাজ চলছিল । গত ১৩ জানুয়ারী পাঁকের সঙ্গে ওই সুবিশাল মূর্তিটি উঠে আসে । মূর্তিটি নেওয়া নিয়ে প্রথমে পুকুর মালিকের সঙ্গে স্থানীয়দের দ্বন্দ্ব তৈরি হলে রায়না থানার পুলিশ মূর্তিটি উদ্ধার করে নিয়ে যায় । শুক্রবার মূর্তিটি সমস্ত আইনি পদ্ধতি মেনে সংরক্ষণের জন্য বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয়ের জাদুঘর ও আর্ট গ্যালারির বিশেষজ্ঞদের হাতে হস্তান্তর করা হয়।
বিশেষজ্ঞদের মতে এই মূর্তিটি প্রায় হাজার বছরের পুরানো পাল- সেন আমলের এবং ব্যাসল্ট শিলা দিয়ে তৈরি। কালো পাথরে খোদিত বিষ্ণু মূর্তিটি উচ্চতায় প্রায় ২৮ ইঞ্চি (টেনন অর্থাৎ বেদীতে পুঁতে রাখা অংশটি নিয়ে মোট ৩৩.৫, ইঞ্চি) এবং প্রস্থে ১৩ ইঞ্চি। রূপমণ্ডন অনুসারে মূর্তিটি বিষ্ণুর শ্রীধর টাইপের। এছাড়াও দুপাশে সিংহ কর্তৃক হস্তি অবদমনের রিলিফও আছে। পাদানির ডানদিকে আছে বাহন গরুড়। স্টেলার ওপরে আছে কীর্তিমুখ ও দুপাশে আছে উড়ন্ত বিদ্যাধর।
বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাক্তন কিউরেটর তথা বিশ্ববাংলা বিশ্ববিদ্যালয়ের সংগ্রহশালার অধিকর্তা রঙ্গনকান্তি জানা বলেন, মূর্তিটি একাদশ-দ্বাদশ শতকের সেন আমলের কষ্টি পাথরের বিষ্ণুমূর্তি বলেই মনে করা হচ্ছে। মূর্তিটিতে বিষ্ণুদেবের নিচের ডান হাতে পদ্ম ও উপরের ডান হাতে চক্র রয়েছে।আর উপরের বাঁ হাতে গদা এবং নিচের বাঁ হাতে শঙ্খ রয়েছে। তাঁর দু’দিকে রয়েছে লক্ষ্মী ও সরস্বতী।’রঙ্গন জানার কথা অনুযায়ী,বহুকাল পূর্বে রায়নার একটা বিস্তীর্ণ অংশে বিষ্ণুমূর্তি পূজিত হতো।এমন ধরণের প্রাচীন মূর্তি এর আগেও রায়না থেকে অনেকগুলি পাওয়া গিয়েছে।
বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয়ের মিউজিয়ামের কর্মী শ্যামসুন্দর বেরা বলেন,’গত বছরও একই রকম প্রাচীন দু’টি মূর্তি রায়না থানা এলাকা থেকে উদ্ধার হয়েছিল। ওই মূর্তি দু’টিও বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয়ের সংগ্রহশালায় রয়েছে।’ তবে মূর্তিটি বামদিকের একাংশ ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে। এ ছাড়াও মূর্তিটির নাক ও বাঁ চোখেরও ক্ষতি হয়েছে। মাটি কাটা যন্ত্রের আঘাতেই সম্ভবত মূর্তিটি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে মনে করছেন শ্যামসুন্দরবাবু ।।
